সাঁকো এবং একটি নীলপরী-২

সাঁকো এবং একটি নীলপরী পর্ব-২

By-Sultanul Arefin
Aditta

জানালার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছি ।
সাত সকালের প্রাকৃতিক
আবহাওয়াটা চোখে পড়ার
মতো !!আমি খুব আগ্রহ নিয়ে
দেখছি ।গার্মেন্টেসের মেয়েরা
সাড়ি বেঁধে বেঁধে অফিসে যাচ্ছে !
উঠতি বয়সের তরুন তরুনীরা
বাসের জন্য অপেক্ষা করছে ।
মজনু মিয়ার হোটেল উঁপচে পড়া
ভীড় ।ঢাকা শহরের ৯০%
লোক ই সকালে রুটি পরোটা
খায় ।আর ১০% গ্রাম থেকে
ওইঠা আসছে এরা ভাত ছাড়া
কিচ্ছু বুঝেনা ।’মাছে ভাতে
বাঙালী’ না হয়ে যদি ‘রুটি ডালে
বাঙালী ‘হতো তাহলে ঢাকা
বাসীর জন্য ভাল হতো !!
-এই যে মিষ্টার আপনার প্রবলেম
টা কি ?বলেন তো !!

আমি মাথা ঘুরে তাঁকাতেই দেখতে
পেলাম ,একটা মেয়ে আমার
দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে ।
তার চোখের ভাষা ই বলে
দিচ্ছে আমি ভয়ংকর অপরাধী ।
মেয়ে শ্যামলা কালো ,টানা টানা
চোখ ,মুখের ফেসটা অসম্ভব
সুন্দর মেরুন ঠোঁটে হালকা
গোলাপী কাঁলারের লিপিষ্টিক ।
কালো চশমা পড়লে আরও
ফুঁটে ওঠতো !!
এবার আরেকটু উচ্চস্বরে বলল ,
আমার কথা কি আপনার
কানে ঢুকে নাই ?
-আমি বললাম ,হু ঢুঁকছে ।
-আপনার প্রবলেমটা কি ?আমি
ডেইলী আমার বাসার ছাদে
একটু হাঁটাহাঁটি করি ।আপনি হাঁ করে
তাঁকিয়ে থাকেন কেন ?
আমি অবাক হয়ে বললাম ,আমি !!
-সাধু সাঁজার চেষ্টা করবেন না ।
আপনারা ছেলেরা যে কত্ত খারাপ
সেটা ভাল করেই জানি !!
আমি বিনীত ভঙ্গিতে বললাম ,
আরে বাবা তুমি এতো উত্তেজিত
হচ্ছো কেন ?খাঁটে আরাম করে
বসে তারপর বলো !!

রাগের সময় যে কাউকে নতুন
করে চমক দেওয়ার মজাটাই
অন্যরকম ।মেয়ে খানিকটা ভড়কে
গেছে ।অচেনা একটা ছেলে
তাকে হুট তুমি করে বললে
ভড়কে যাওয়াটা স্বাভাবিক ।
এবার মেয়েটা রাগত স্বরে
বলল ,আপনি আমাকে তুমি
করে বললেন !!আপনার তো
সাহস কম না ।আমাকে চিনেন ?
আমি বললাম ,না ।আপনাকে
চিনিনা ।
-আমি ,সূচনা গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ
চেয়ারম্যানের মেয়ে ।আমার
বড় ভাই টিআই সফিক ।
-আচ্ছা ,সূচনা এসব আমাকে
শুনিয়ে লাভ কি ?
-আমার নাম সূচনা আপনাকে
কে বলল ?
-কেউ বলেনি ।অনুমান করছি ।
-ধান্দাবাজী করবেন না ।আপনি
চিনেন বলেই আমাকে ফলো
করছেন ।আর আমি আপনার
বিয়ে করা বউ না যে ,তুমি
করে বলবেন ।
-ঠিক আছে ।আপনি করে বলবো ।
আপনি বসুন ।চা খেয়ে তারপর
যাবেন ।
-আমি আপনার কোন গেষ্ট না যে ,
খেয়ে যাব ।আমি আপনাকে
লাষ্ট ওয়ার্নিং দিতে এসেছি ।
-তাইনাকি ?
-হুম ।এরপর আপনি ছাদে
হা করে তাঁকালে ,আপনাকে
চৌদ্দশিকে ঢুঁকিয়ে সফিক
ভাইয়ের ডলা খাওয়াবো ।
তখন বুঝবেন কত ধানে ,
কত চাল !
-আমি বললাম ,ঠিক আছে
সেটা পরে দেখা যাবে ।আপনি
বরং মজনু ভাইয়ের হোটেলের
ডাল রুটি খেয়ে যান ।
-আপনি কি আমার সাথে ফান
করছেন ?
-মোটেও না ।আমি তো মিঃ বিন
না ।
-আমি যদি আপনাকে ডলা না
খাইয়েছি তাহলে আমার নাম
সূচনা না ।

মেয়েটা বিদ্যুত্ গতিতে রুম থেকে
বের হয়ে গেল ।মেয়েটার
সম্ভবত তার টার ছিড়া ।
তারছিড়া মেয়েদের এটাই
বড় সমস্যা !কেউ তাদের দিকে
তাঁকাতে পারবেনা ।প্রপোজ
করতে পারবেনা ।আমি
রুটি ডাল খাচ্ছি !!টেবিলের
একটা চিঠির খাম নাজমা
খালা পাঠিয়েছেন ।সম্ভবত
নাজমা খালার গাড়ীর ড্রাইভার
দিয়ে গেছে ।ওকে বলা আছে
ঘুমন্ত অবস্হায় আমাকে যেন
না ডাকে ।
সাঁকো ,
কি ব্যপার গতকাল থেকে তোকে
ফোন করেই যাচ্ছি !!শুধু
বিজি দেখাচ্ছে !কার সাথে
এতো কথা বলিস ?নতুন ফাঁদে
পা দিয়েছিস নাকি ?শোন ,
কাল ঐ পরীটা আসতাছে ।
ওকে আবার পরী বলে ডাকিস না ।
ওর নাম মৌনী ।আমার
বিশ্বাস তুই ওর মনের ভেতর
ঢুকবি ।
তুই ওকে রিসিভ করে নিয়ে
আসবি ।আর যাওয়ার আগে
অবশ্যই আমার বাসা হয়ে
যাবি ।আমার গাড়ীটাই নিয়ে
যাবি ।ড্রাইভারকে আগেই
বলে রেখেছি ।চিঠি পড়া শেষ
হলেই আমাকে ফোন দিবি ।
মনে থাকবে তো !!
ইতি
নাজমা বেগম ।
আমি চিঠি পড়া শেষ করে
ফোন হাতে নিলাম ।আজ সকাল
টাই শুরু হলো হুমকি ধামকিতে ।
সারাদিন তো আরও পরেই আছে ।

Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.