রিনির গল্প

রিনির মা বেশ স্বাভাবিক গলায় বললেন,
-বাবা, রিনি তো বাসায় নেই। কলেজ গেছে,,
.
রিনির মায়ের কথা শুনে আমার খারাপ মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল।মন খারাপের দিন গুলোতেও কেন যে এমন হয়?
অন্যদিন গুলোতে এমন হলে কি হয়?
.
মন খারাপের দিন গুলোয় আমি খুব চাই আমার সাথে রিনির দেখা হয়ে যাক।
ওর সাথে একটু কথা বললেই মন ভাল হয়ে যায়।আর একটু একসাথে ঘুরতে পারলে তো সোনায় সোহাগা।
তবে ওর দেখা পাওয়াটাই মুশকিল যদিও একই বিল্ডিং এ থাকি আমরা, ওরা দোতলায় আর আমরা তিনতালায়।
.
রিনিকে খুঁজতে ওর বাসায় যাইনা বললেই চলে, ওর ফ্যামিলি যদি আবার উল্টা পালটা ভেবে বসে। তবে আজ বেশি মন খারাপ ছিল তাই সব কিছু ভুলে রিনিদের বাসায় ওর খোঁজ করতে গিয়েছিলাম কিন্তু লাভ হল না কোন, রিনি বাসায় নেই!
.
তবে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতেই গেটের কাছে রিনির দেখা পেয়ে গেলাম। রিকশা ভাড়া নিয়ে মনে হয় কোন সমস্যা হয়েছে।
ও আমাকে দেখতে পেয়েই বলল,
-আপনার কাছে খুঁচরা পাঁচ টাকা হবে?
-হ্যাঁ,
.
আমি মানি ব্যাগ থেকে পাঁচ টাকার একটা নোট বের করে দিলাম।
ও আমার হাত থেকে টাকা টা নিয়ে রিকশা ওয়ালাকে দিয়ে বলল,
-আজ কলেজে ক্লাস নেই,এমনিতেই গিয়ে ঘুরে আসলাম,
-কোন সমস্যা কলেজে?
-হুম, রাজনৈতিক,,
-ওহ,
-আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
-কোথাও না,এলাকাতেই আছি,
.
রিনি আমার কথা শুনে হাসি মুখ করে বলল,
-বাহ!আজ সবাই ফ্রি,
-হ্যাঁ,
-আচ্ছা, যাই তাহলে,,
.
রিনি আর কথা না বাড়িয়ে আস্তে আস্তে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগল।
রিনিকে এভাবে যেতে দেখে নিজেরি উপর রাগ লাগল, আরে নয়ন মিয়া এত বোকা হলে কিভাবে হবে? মেয়েটা নিজে থেকেই বলছে সে ফ্রি তারমানে সে চায় তোমার সাথে ঘুরতে। এসব চিন্তার মাঝে একবার এলো, বেশি ভেবে ফেলছি না তো?
..
আমি ওখান থেকেই ডাকদিলাম,
-রিনি,
.
রিনি দোতলায় উঠে গিয়েছিল তবে আমার চিৎকার ওর কানে পৌছে গিয়েছিল।ও নিচে নেমে এসে বলল,
-কিছু বলবেন?
-হ্যাঁ, আসলে আজ আমার জন্মদিন?
.
রিনি আমার কথা শুনে হেসে উঠল।আমার বেশ অস্বস্তি লাগল। কি বোকামী টাই করলাম। গত মাসেও তো জন্মদিনের কথা বলেই ওর সাথে ঘুরেছি,আবার এ মাসেও।
আমি কথার পিঠে আবার বললাম,
-এটা রিয়েল, আগের টা সার্টিফিকেট এর ছিল,
.
রিনি এবার আরো জোরে হাসলো। আমি মাথা নিচু করে সিড়ির দিকে তাকিয়ে রইলাম।
রিনি হাসি থামিয়ে বলল,
-সামনের এলাকায় একটা নতুন ফুচকার দোকান হয়েছে, ট্রিট দিবেন?
-হ্যাঁ,দিবো।
-আচ্ছা,রিকশা ঠিক করেন। আমি আসছি।
.
রিনি এত সহজে রাজী হবে চিন্তাও করিনি।
জন্মদিন নিয়ে যে ও কিছু বলেনি এটা একটা ভাল ব্যাপার ছিল।
আমি রিকশা ঠিক করে বাসার বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলাম।আধাঘন্টা বাদে রিনি এলো।
হালকা সাজগোজ করে এসেছে। পরনের জামা টা চেঞ্জ করে সাদা একটা সেলোয়ার কামিব পড়েছে। চুল বেধেছে। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক ও দিয়েছে।সেলোয়ার কামিজেও রিনিকে ভাল মানায় তবে আমার মনে হয় ওকে শাড়ি পড়লে আরো ভাল মানাতো। তবে শাড়ি পড়লে বাসায় অনেক অজুহাত দিতে হয়।কার সাথে দেখা করতে যাচ্ছ, কই যাও? ইত্যাদি ইত্যাদি।
এর চেয়ে সেলোয়ার কামিজ পড়া ঢের ভালো।
.
রিনি রিকশায় উঠে বলল,
-কেমন লাগছে আমাকে?
-ভাল,
-শুধু ভাল? এত সাজগোজ করলাম।
-না, বেশ ভালই। আচ্ছা,বলো তোমার ফুচকার দোকান কোথায়?
-কিসের ফুচকা?
-তুমি যে বললা নতুন দোকান,
-কি জানি মনে নাই,, এক কাজ করেন রিকশা ওয়ালারে ঘুরতে বলেন ঢাকা শহর। দুপুর পর্যন্ত ঘুরি।
-আচ্ছা,
.
রিকশাওয়ালা আমাদের নিয়ে ঘুরতে লাগলো।
আমি আর রিনি বসে রইলাম রিকশায়। ভাবছিলাম ওকে বলে দিবো কিনা মনের কথাটা।এরকম একাকী ভাবে ওকে খুব কমই পাওয়া যায়। আজ নিয়ে আমাদের তৃতীয় বার রিকশায় এক সাথে চড়া,আগের দুবারেও ওকে বলার খুব চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু পারিনি।
.
এসব ভাবনা চিন্তার মাঝখানে রিনি বলে উঠল,
-আপনার কি মন খারাপ?
.
আমি একটু অবাক হলাম রিনির কথা শুনে।
-কেন এমন মনে হল?
-না এমনিতেই।আপনার জন্মদিনে আপনার মন খারাপই থাকে,
-বেশি খারাপ না,একটু খারাপ,
-এখন ভাল?
-হ্যাঁ, এখন ভালো।
-তাহলে রিকশা ঘুরতে বলেন, বাসা যাই।
-কেন?
-এমনিতেই,,
.
আমার রিনিকে বেশ অচেনা লাগলো।
এমন ভাবে কখনো দেখিনি ওকে।
-আরেক টু ঘুরি?
-আচ্ছা, দশ মিনিট আর।
-আচ্ছা,
.
এভাবে আরো কিছুক্ষন চলে গেল।দুজনেই চুপ করে রইলাম। এক সময় নিরবতা ভেঙে বললাম,
-রিনি, আমার মনে হয় আমি তোমাকে পছন্দ করি।
-কি?
-মানে পছন্দ করি।
-তাই নাকি? আমি তো ভাবছি আপনার মন খারাপ হলে আপনি আমার সাথে টাইম পাস করেন,,
.
এ কথার উত্তরে আমি কিছুই বললাম না। এসময় রিনি আসল বোমাটা ফাটালো। ও বলতে লাগল,
-একটা মানুষের বছরে তিনবার কিভাবে জন্মদিন হয়?
-মানে?
-এটা নিয়ে আপনি চার মাসে তিনবার জন্মদিনের অজুহাত দিয়েছেন,,
.
আমি তো ভেবেছিলাম রিনি জন্মদিনের কথা ভুলে গেছ।কিন্তু ভুলে তো গেছি আমি।তিনবার কিভাবে?
আমার হিসেবে তো দুবার।
.
-কি ভাবছেন?
-না মানে,আমার হিসেবে তো দুবার,,
-ধুর,
-কি হলো?
-আপনার সাথে তো কথা বলাই বেকার। যে একটা ভাল অজুহাত দিতে পারেনা,,
.
ততক্ষনে বাসাও চলে এসেছে। আমার নামার আগেই রিনি নেমে গেটের ভেতরে চলে গেল। ফিরে এলো সাথে সাথেই,এসে বলল,
-এর পর থেকে ভাল অজুহাত নিয়ে আসবেন। বাসায় কিভাবে একজনের তিন চার বার জন্মদিনের অজুহাত দিয়ে বের হবো?
.
আমি রিকশা ওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে বললাম,
-আমার মন খারাপ, এটা শক্ত পোক্ত অজুহাত নয়??
.
রিনি কি জানি ভেবে বলল,
-হ্যাঁ,শক্ত পোক্ত।কিন্তু এত শক্ত পোক্ত চলবেনা,একটু নরম দরকার। এত শক্ত পোক্ত বাসায় বললে কি হবে বোঝেনই তো,,
.
রিনি আর দাঁড়াল না। সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগল,আমি একটু জোরেই চিৎকার করে বললাম,
-রিনি আমি তোমাকে ভালবাসি,
.
রিনি পিছন ঘুরে তাকিয়ে একটু হেসে আবার উপরে উঠতে লাগল।আরেক টু উপরে উঠে গিয়ে বলল,
-রাতে ছাদে দেখা হবে,, এসো,
.
আমি “ওকে” বলে পিছনে তাকালাম দেখি বাবা দাঁড়িয়ে। বাবা বলল,
-কি ওকে?
আমি একটু ভেবে বললাম,
-ওকে না বাবা বুকে,
.
আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-অনেক দিন ধরেই তোমার সাথে বুক মিলাই না। তাই বলছিলাম বুকে আসো,
.
বাবা আমার কথা শুনে বেশ খুশি হলেন। উনি খুশি মনেই আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আর আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
এখন শুধু রাত হওয়ার অপেক্ষা,রাতে কারেন্ট চলে গেলে তো আরো ভালো।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download Premium WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download Premium WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
free online course
download micromax firmware
Free Download WordPress Themes
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.