বৃষ্টির দিন গুলোতে প্রেম

বৃষ্টির দিন গুলোতে প্রেম,,,
.
.
এক
.
-আপনি কি আজও ছাতা আনতে ভুলে গেছেন?
আরুবা ওর ছাতা খুলতে খুলতে আমাকে জিজ্ঞেস করল।
.
আমি আস্তে করে বললাম,
-হুম,
.
আমার উত্তর শুনে আরুবা এমন ভাবে আমার দিকে তাকাল মনে হল আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি,মানুষ খুন করার মত ভুল।আরুবা চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল,
-আনেন নি কেন?
-মনে ছিল না,
-আপনি তো আপনার ক্লাসের টপার ছিলেন তাইনা?
-হুম
-তাহলে এত ভুলে যান কিভাবে?
.
আমি কিছু বললাম না চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।
আমি ছাতা আনতে ভুলিনি,ছাতা আমার ডেস্কেই আছে।কিন্তু আরুবা কে ছাতা এনেছি বলা যাবে না, কোন ভাবেই না।
.
আরুবা ছাতা মাথায় দিয়ে রাস্তায় নামতে নামতে আবার জিজ্ঞেস করল,
-কিভাবে যাবেন তাহলে?
-ভিজে ভিজে চলে যাব?
-থাক,ভিজতে হবে না।আসুন আমার ছাতার নিচে।
.
আরুবা বলার সাথে সাথে আমি ওর ছাতার নিচে চলে গেলাম।প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে,আর এ সময়ে মানে অফিস ছুটি হওয়ার সময় বৃষ্টি আপনা আপনি বেড়ে যায়।
তাই আমি সপ্তাহ খানেক ধরেই আরুবার ছাতার নিচে যাওয়া আসি করছি।আর এটা আমার কাছে দারুন লাগে,মন চায় সারাজীবন যেন বৃষ্টি হয় তাহলে সারাজীবনই আমি আরুবার ছাতার নিচে চলাচল করতে পারব।
.
আরুবার সাথে এক ছাতার নিচে যাওয়ার সময় অন্য রকম লাগে।আরুবা আমার অনেক কাছে থাকে,ওর শরীরের গন্ধে মাঝে মাঝেই মোহিত হয়ে পরি।
.
ও যেদিন প্রথম অফিসে জয়েন করল সেদিন ওকে প্রথম দেখেই ভালবেসে ফেলেছি।সেটা ওকে সরাসরি না বললেও অনেক ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
কিন্তু এই বোকা মেয়ে সেসব কিছুই বোঝেনা।
মেয়েদের নাকি তৃতীয় চক্ষু থাকে,আরুবার মনে হয় নেই।
.
অফিস থেকে মিনিট পাঁচেক হাটলেই বাস স্টান, এখানেই আমাদের ছাতার নিচে পথ চলা শেষ হয়ে যায়। তারপর বাসে উঠতে হয়।বাসে করে আরুবার বাসায় যেতে আধাঘন্টার মত লাগে, আমার বাসা আসতে আরো কিছুক্ষন সময় লাগে।
.
বাসা এক দিকে হওয়ায় অনেক টা সময় আমরা এক সাথে কাঁটাতে পারি।
সময় কাঁটানো বলতে শুধু বসে থাকাই হয়,কথা বলা আর হয়না।মাঝে মধ্য অফিসের প্রয়োজনের কিছু কথা হয়।তবে আমি ইদানিং ওকে মনের কথাটা বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু ভয় পাচ্ছি।যদি রাজী না হয় ?
.
বাসে উঠে দেখি আমার মাথা পুরো পুরি ভিজে গেছে। হাত দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে আরুবার পাশে গিয়ে বসলাম।আমার মাথা ভেজা দেখে আরুবা বলল,
-আপনার মাথা তো পুরো ভিজে গেছে।
-ব্যাপার না,
-এভাবে থাকলে তো জর এসে যাবে?
.
আমি উত্তরে কিছু বলব, সে সুযোগ না দিয়ে আরুবা ওর ওরণা দিয়ে আমার মাথা মুছে দিতে লাগল।কি এক্সে ভাল লাগল, বোঝানো যাবেনা।
মাথা মুছিয়ে দেয়া শেষ হতেই আমি ওকে ধন্যবাদ দিলাম।আমার ধন্যবাদ দেওয়ায় মনে হল ও একটু লজ্জা পেল।
.
কিছুক্ষন বাদেই ও বলল,
-কিছু বলতে চেয়েছিলেন?
-হুম,
-বলে ফেলেন,,
আমি একটু থেমে দম নিয়ে ইতস্তত করে বলতে লাগলাম,
-আসলে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হল
-প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে একি লাইনে আটকে আছেন সামনে কিছু বলুন
-মানে আমি বলছি যে আমি,আসলে আপনি কি ভাবে নেবেন ব্যাপার টা
-আচ্ছা,আমি একটা কথা বলি শুনুন,
-হুম,বলেন,
-আমার বিয়ে ঠিক হিয়ে গেছে,
-মানে কি?
-মানে আবার কি? ছেলে ভাল জব করে।
সামনের মাসেই বিয়ে,
.
কথাটা শোনা মাত্রই আমার মাথা গরম হয়ে গেল।
আমি চিৎকার করেই বললাম,
-না আরুবা এমন হতে পারেনা,তুমি শুধু আমার।
.
তখনি মনে হল কেউ আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে।আমি সাথে সাথে চোখ খুলে দেখি আরুবা আমার দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে আর আমি ওর কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছি।
.
আমার চোখ খোলা দেখে ও বলল,
-কি হয়েছে আপনার?
-আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।প্লিজ তুমি অন্য কাওকে বিয়ে কোরোনা।
.
ও আমার কথা কি বুঝল কে জানে?
আরুবা বলল,
-আপনাকে কে বলল,আমি কাওকে বিয়ে করছি। স্বপ্ন দেখেছেন তাইনা?
.
আমি কিছু বললাম না।এটা তাহলে স্বপ্নই ছিল। যাক বাঁচা গেল।তবে খুব খারাপ একটা ব্যাপার ঘটে গেল।তবু ভাল হয়েছে মনের কথা গুলো সব জানিয়ে দেয়া হয়েছে ওকে।
.
আমার অসস্তি লাগা শুরু হল আরুবার পাশে বসে থাকতে।ভাবছিলাম,ওর নামার স্টান আসেনা কেন?
কিছুক্ষন বাদেই ওর গন্তব্য স্থান এসে গেল,রোজ ওকে নামিয়ে দেই মানে ওর সাথে বাসের গেট পর্যন্ত আসি, আজ গেলাম না।ও নেমে গেল,বাস যেই ছাড়বে তখনি ও আবার উঠে এসে আমার সামনে দাঁড়াল ।তারপর বলল,
-আসো আমার সাথে?
-কোথায়?
-আমার বাসায়
-কেন?
-বাবা মাকে বলবা তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাও?
.
আমি কিছু বললাম না,ওই আবার বলল,
-আমার জন্য ছেলে দেখা হচ্ছে, তুমি বিয়ে না করতে চাইলে অন্য ব্যাপার।
.
ও একথা বলে আর দাঁড়াল না।গট গট করে হেঁটে বাস থেকে নেমে গেল।আমিও সাথে সাথে নেমে পড়লাম বাস থেকে।ওকে কোন ভাবেই হারাতে চাইনা।আমি ওর পাশে গিয়ে বললাম,
-আমি সব সময় তোমাকে চাই
.
আরুবা আমার কথার কোন জবাব দিলনা।শুধু একটু হাসল।তখন ও বৃষ্টি পড়ছে। আরুবার হাতে ছাতা আছে তবুও ও খুলছে না।আমিও চাইছিনা ও ছাতা খুলুক।ভিজতে চাইছি দুজনে।ভিজে একাকার হয়ে যেতে চাই একে অপরের ভালবাসায়।
.
.
দুই
.
এখন ও আমি আরুবার ছাতার নিচে চলাচল করছি।আগে আরুবার হাতে ছাতা থাকত, এখন আমার হাতে ছাতা থাকে।
আরুবা এখন অবশ্য বলেনা,ছাতা কোথায়?
.
আরুবার বাবা আমাকে যে পছন্দ করবেন,এ বিষয়ে আমি শিউর ছিলাম।সেদিনের আগেও কয়েকবার ওর বাসায় গিয়েছিলাম,ফলে আগে থেকেই ওর বাবা মায়ের সাথে ভালই সমর্পক গড়ে উঠেছিল।
আর তাছাড়াও আমাকে অপছন্দ করার কোন কারণ ও ছিলনা তাদের কাছে।তাই খুব জলদি আমাদের বিয়ে টা হয়ে যায়।
.
এখন যদিও বৃষ্টি খুব কম হয়,তবুও আমরা মাথায় ছাতা দিয়ে হাঁটি,কে জানে কখন বৃষ্টি শুরু হবে। আমি এখন অনেক সাহসী,ইচ্ছে হলেই ওর কাঁধে মাথা দিয়ে আরাম করি।তাতে আরুবা রাগ হয়না, ও খুব সন্তপর্ণে ওর হাত দিয়ে আমার মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দেয়।
এখন আর আগে পরে নামতে হয়না,দুজনেই একসাথে এক খানেই নামি।
তার পর হাত ধরেই বাসার দিকে যাই।
.
.
বি.দ্র-অনেকেই বলে, আমি নাকি গল্প অসম্পূর্ণ রাখি তাই এবার ফিনিশ করে দিলাম।নিশ্চয় আর কারো কোন অভিযোগ থাকবেনা।
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download Premium WordPress Themes Free
Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Best WordPress Themes Free Download
lynda course free download
download coolpad firmware
Download WordPress Themes Free
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.