বিষন্ন কাজল

বিষন্ন কাজল
.
.
গেট খুলে সামনে তাকাতেই তিথির মন ভাল হয়ে গেল।সকাল থেকে ওর মন খারাপ ছিল।
ভোর রাতে ও স্বপ্ন দেখেছে ওর বিয়ে অন্য একটা ছেলের সাথে হচ্ছে,আর রাশেদ সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে।এ জন্য ও সকাল থেকেই চাইছিল রাশেদ একবার বাড়িতে আসুক। তাই গেট খুলে রাশেদ কে দেখেই ওর মন টা ভাল হয়ে গেল।
.
তিথির একবার মনে হল যে রাশেদ কে বলবে,
-তোমার জন্য আমার মন ভাল হয়েছে রাশেদ ভাই,তাই তোমাকে খাওয়াব।বল কি খাবে?
রাশেদ খেতে চাইলেও বেশি কিছু চাবেনা,ওর খাওয়া সিমীত।ও এ বাড়িতে এসে খেতে চাইলে বলবে এক প্লেট গরম ভাত আর একটা ডিম ভাজি সাথে ঘি থাকলে ভাল।
.
এমন কিছু হল না।তার আগেই রাশেদ বলল,
-তিথি, খালা আছে বাসায়?
-না একটু বাহিরে গেছে,
-খালু?
-বাবা অফিসে,
-ও, আচ্ছা আমি যাই তাইলে,
-যাবে কেন?বসো খেয়ে যাও,
-না থাক,বাসায় কেউ নেই,
-এখনি আসবে,বসো।
.
রাশেদ ভিতরে ঢুকে সোফায় বসে।তিথি রাশেদের সামনে এসে দাড়ায়।তিথি জানে রাশেদ ওকে দেখতে আসে।মুখে বলেনা কিন্তু তিথি ঠিক ব্যাপার টা বোঝে।তিথি সামনে দাঁড়ায় যেন রাশেদ ওকে দেখতে পায়।
তিথিকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রাশেদের অস্বস্তি হয়, মুখে কিছু বলতেও পারেনা। রাশেদ মাঝে মাঝে চোখ তুলে তাকায় তিথির দিকে। তিথি চোখে কাজল দিয়েছে,গাড় করে।তিথি সবসময় কাজল দেয়না,যেদিন ওর মন বলে রাশেদ আসবে সেদিন করেই কাজল দেয়।
.
আজও ওর মনে হয়েছিল যে রাশেদ আসবে তাই ও নিজে রান্না করেছে।
-তিথি তোমাকে দেখতে ভালই লাগছে,
-সত্যি,
-হুম,
.
তিথি একটু লজ্জাই পায়।রাশেদ কখনো মুখ ফুটে কিছু বলেনা।রাশেদ মাঝে মাঝে তিথিকে ফোন করে।ফোন করেও কিছু বলতে পারেনা।দুই একটা কথা বলেই রেখে দেয়।
তিথি চায় রাশেদ একটু সাহসী হোক,তিথি কে বলুক ভালবাসি। তিথির বাবাকেও বলুক যে ও তিথি কে বিয়ে করতে চায়।তিথির বাবা অবশ্য রাজী হবেনা কারণ রাশেদ কোন কাজ টাজ করেনা তবে একটা কাজ জোগাড় করে নিতে কতক্ষন।তিথির মন বলে রাশেদ ঠিক পারবে।
.
এই একই চিন্তাটা রাশেদের মাথাতেও,কাজের চেষ্টা ও নিজেও করছে।কোন কিছু একটা হয়ে গেলে সোজা তিথির বাবাকে বলবে, আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই?
তিথির বাবা একটু ভেজাল করলেও না করতে পারবেনা।কারণ রাশেদ জানে তিথির মা নিজেও রাশেদ কে অনেক পছন্দ করে,শুধু বেকার বলে কিছু করতে পারছেনা।রাশেদের কিছু একটা চাকুরী বাকরী হয়ে গেলেই তিনি রাশেদের সাথে তিথির বিয়ে দিতে দ্বিমত করবেন না।
.
-তিথি এক কাপ চা খাওয়াতে পারবে,
-শুধু চা,
-হ্যাঁ, খালা আসুক,
-খালা আসতে হবে কেন? আমি রান্না পারি,
-কি পারো?
-যা খেতে চাও?
-আচ্ছা,যা ভাল পারো নিয়ে আসো,
.
তিথি খুশি মনে রান্না ঘরে চলে যায়। ও প্রায় সব রান্নাই ভাল পারে।তাই কি কি রান্না করবে ভেবে পাচ্ছেনা।আগে এক কাপ চা খাওয়াতে হবে। আচ্ছা কি চা করবে তিথি?
লাল চা না দুধ চা।ঘরে কি দুধ আছে।তিথির গা ঘেমে যাচ্ছে।ও কি দুটা চা করবে নাকি?
রাশেদ কে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে, ও কি চা খেতে চায়? আগের বার কি চা খেয়েছে? কিছুতেই মনে পরেনা তিথির।
.
তিথি দুধ চা করে নিয়ে এসে রাশেদেএ সামনে বসেছে,চা কেমন হয়েছে বলা যাচ্ছেনা।তবে রং অনুযায়ী ভাল হওয়ার কথা।রাশেদ কেন চায়ে চুমুক দিচ্ছেনা বলা যাচ্ছেনা।
.
রাশেদ প্রথম বার চুমুক দিয়েই বলল,
-বাহ,দারুন,
.
তারপর আর কিছু না বলে,পুরো চা শেষ করে ফেলল।খুশিতে তিথির চোখে পানি এসে গেছে।
ওর ইচ্ছে হল,নিজে এক কাও চা বানিয়ে খেতে । এত ভাল কি করে বানালো?
নাকি রাশেদ বাড়িয়ে বলছে।
.
-রাশেদ ভাই কেমন হয়েছে?
-দারুন,
-সত্যি?
-হ্যাঁ
-আরেক কাপ খাবে,
-না আরেক দিন।ভাল জিনিষ এত বেশি বার না,
-আর কি খাবে?
-খাবনা, বসো এখানে
-বসেই তো আছি,,
-হ্যাঁ,তাই তো।বলছিলাম তোমার জন্য একটা জিনিষ এনেছি,
-কি এনেছেন,
-এক শিষি কাজল,
-আমি তো কাজল দেইনা,
.
রাশেদ কিছু বলেনা,ওর মন খারাপ হয়।মন খারাপ কাঁটিয়ে বলে,
-এনেছি যখন ফেরত দেয়া যাবেনা,রেখে দেও।
.
কাজলের শিষি হাতে নিয়ে তিথির রাগ হয় কেন ও বলতে গেল ও চোখে কাজল দেয়না।ওর চোখে এখনো কাজল দেয়া।
তবে মন খারাপের মত মন ও ভাল হয়। মানুষটা তার জন্য কিছু তো এনেছে।তবে তিথি বেশি কিছু চায়।রাশেদ যদি খোলা বাজার থেকে চুড়ি এনে বলত, দেখি তিথি তোমার হাত টা দেখি।চুড়ি পড়িয়ে দেই। কত ভাল হত।
এমন হয়না,তিথি জানেনা কখনো এমন হবে কিনা?
.
হঠাৎ করেই তিথির কানে গেট ধাক্কানোর শব্দ এল। গেট ধাক্কানোর শব্দ শুনে তিথির হাত পা জমে এল।মনে হল ও এখনি মাথা ঘুরে মাটিতে পরে যাবে।
.
গেটের বাইরে কে?
তিথি দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে টাইম টা দেখে নিল, নটা বিশ বাজে।তিথির বাবা আসাদুজ্জামান আসেন দশটায়,তবে মাঝে মাঝে জলদিও চলে আসেন।আজ যদি উনি আসেন তবে তিথির কি হবে এটা ভাবতেই তিথির মাথা ঘুরে গেল।
ওর ভয় কোন ভাবেই যাচ্ছেনা,সামনে রাশেদ বসে আছে,রাশেদ ওকে দেখে কি ভাবছে কে জানে?
.
রাশেদ বলল,
-খালু আসছে হয়ত,যাও গেট খোল
-রাশেদ ভাই,চুপ করে বসো তো,কোন কথা বলবা না,
.
রাশেদ হঠাৎ অবাক হয়ে গেল, তিথি এভাবে কথা বলবে ভাবেনি। তিথি জানে ওর বাবা রাশেদ কে দেখলে কোন ভাবে বাসা থেকে বের করে দিবেই ।ঈশ রাশেদ কে কোথাও লুকিয়ে রাখতে পারলে ভাল হত।
.
ভীত পায়ে গিয়ে গেট খুলে দেয় তিথি। আসাদুজ্জামান মেয়ের মুখ দেখে বলে,
-কি হয়েছে?
.
তিথি জবাব দেয়না,তিথির বাবা সামনে তাকিয়ে রাশেদ কে দেখে আপনা আপনি বলে,
-ও,,
.
আসাদুজ্জামান ভাল ভাবেই জানেন রাশেদের প্রতি তার মেয়ের একটা টান আছে।উনি অনেক চেষ্টাই করেন এ টানটা নষ্ট করার জন্য।
তিথি অনেক ভাবে ইশারায় বোঝায় ওর বাবাকে, যেন রাশেদ কে না যেতে বলে। আসাদুজ্জামান ও আশ্বাস দেয় তিনি বলবেন না। তিথি সেই বিশ্বাসেই রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ায়।রান্না ঘর টা বসার ঘর থেকে একটু দূরেই।
.
তিথি যেতেই তিথির বাবা রাশেদের সাথে কথা বলা শুরু করে। তিথির বাবা বেশি কিছু বলেনা,শুধু বুঝিয়ে দেয় এখানে থাকা তার ঠিক না,মোটেও ঠিক না।রাশেদ বেরিয়ে পরে তিথি ভিলা থেকে।
রাশেদের খুব ইচ্ছা করছিল তিথিকে বলে যাওয়ার জন্য,,, কিন্তু উপায় ছিল না।
.
তিথি রান্না শেষ করে এসে দেখে রাশেদ নেই,শুধু ওর বাবা বসে আছে । টেবিলের উপর কাজলের শিষিটাও আছে,শুধু রাশেদ নেই। ও জিজ্ঞেস করেনা ওর বাবাকে,ও জানে বাবাই চলে যেতে বলেছে রাশেদ কে।আগেও কয়েক বার এমন হয়েছিল।
.
তিথির মন খারাপ হয়,সকালে যত টা ছিল তার থেকে বেশী,অনেক বেশি ।রাশেদ একটু বসলেই পারত।রাগ ওঠে রাশেদের উপর,রাগ ওঠে বাবার উপরেই।
অসহ্য যন্ত্রনা হয়,কাঁদতে ইচ্ছে করে।
তিথি কাঁদেনা,কাঁদলে চোখের কাজল নষ্ট হয়।কাজল গুলো নষ্ট করার কোন ইচ্ছা তিথির নেই । ও কাজল গুলোর নাম দিয়েছে বিষন্ন কাজল,যারা মন খারাপেও কাঁদেনা।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
ZG93bmxvYWQgbHluZGEgY291cnNlIGZyZWU=
download karbonn firmware
Download WordPress Themes Free
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.