বিরিয়ানী হাউসের গল্প

-এভাবে পা নাচাচ্ছ কেন?
.
তমা কথাটা একটু জোরেই বলল।
এত জোরে যে আশাপাশের টেবিলে বসা লোক জন ও আমাদের দিকে তাকালো।
আমি সাথে সাথে পা নাচানো বন্ধ করে তমার দিকে তাকালাম।
.
তমা খুব তৃপ্তি নিয়ে বিরিয়ানী খাচ্ছে,,
সকালে এ কারণেই ও আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলছে। এ দোকানের বিরিয়ানী নাকি খুব ভাল হয়।
.
বিরিয়ানী ব্যাপার টা যদিও একটা উছিলা। আমার মনে হয় অন্য কোন কারণ আছে দেখা করার।কারণ অফিস ফাঁকি দিয়ে তমা বিরিয়ানী খাওয়ার জন্য আসবেনা।
.
তমার খাওয়ার দিকে আমার খুব একটা নজর নেই কারণ খাওয়ার বিল আমি দিবোনা,তমাই দিবে।
আমি যদি বিল দিতাম তাহলে আমার তমার খাওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখতে হত।।
ও যত কম খেত ততই লাভ হত আমার।
বেকার ছেলেদের এদিক টা একটু লক্ষ্য রাখতে হয়।
.
আমার চেয়ে থাকা দেখে তমা জিজ্ঞেস করলো,
-তুমি কিছু খাবানা?
-নাহ,,খেয়ে আসছি তো,,
-আমি তো বলছিলাম না খেয়ে আসতে,,
-মনে ছিলনা,,
-অন্য কিছু খাও,
-নাহ,
-তাহলে কি করবা? এভাবে পা নাচাবা শুধু?
.
তমা নিজেই ওয়েটার কে ডাক দিলো।আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-কি খাবা অর্ডার দাও
-আচ্ছা,,
.
প্রেমিকার টাকায় কিছু খাওয়া ব্যাপার টা কেমন জানি? তবুও এত যেহেতু জোর করছে সেহেতু কিছু খাওয়াই যায়।
আমি ওয়েটার এর মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-এক কাপ চা,, খুব গরম,, যেন খেতে সময় লাগে অনেক,,
.
ওয়েটার কেমন করে যেন আমার দিকে তাকালো, তমার দিকেও একবার তাকালো তারপর বলল,
-চা নেই,,
-কি আছে?
-কফি,,
-আচ্ছা,খুব গরম।
-গরম হবেনা,, কোল্ড হবে,,
-আচ্ছা, যা হয় নিয়ে আসো।।
.
ওয়েটার চলে যেতেই আমি তমার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলাম। এই মেয়ে এত খায় তবুও মোটা হয়না কেন বুঝিনা?
আমাদের প্রথম ডেটের কথা এখনো মনে আছে সেবারেও আমি তমাকে বিরিয়ানীই খাইয়েছিলাম। তখন অবশ্য দাম কম ছিলো।
তমা অবশ্য নিজেও বিরিয়ানী ভাল বানায়।আমাকে কয়েক বার বাসা থেকে রেঁধে নিয়ে এসে খাইয়েছে।আমি গ্যারান্টি দিতে পারি এই দোকানের থেকে তমার হাতের বিরিয়ানী বেশি ভালো।
.
তমা খাওয়ার মাঝেই বলল,
-কিছু ভাবলা?
-কি নিয়ে?
-কি করবা সামনে?
-প্রাইভেট পড়িয়ে প্রচুর ইনকাম করছি,,
-তাই নাকি?
-হুম, ১৫ হাজার হয়ে যায়।
-এতে হবে আমাদের,,
.
আমি একটু অবাক হওয়ার ভাব এনে বললাম,
-আমাদের মানে?
-তোমার আমার,,
-আমার তো হবে তোমার কেন?
-কেন আবার,বিয়ে করবোনা।
-তোমাকে বিয়ের আশা অনেক আগে বাদ দিয়েছি যেবার তুমি পাবলিকে চান্স পেয়ে আমারে ছ্যাকা দিছিলা।।
-বাট পরে তো সব ঠিক হইছে।
.
আমি তমার কথা শুনে হাসলাম। ও তাই দেখে খাওয়া বন্ধ করে বলল,
-হাসছ কেন?
-আমি বেকার তাই,,
-জবের ট্রাই ও তো করোনা,,
-জব করবোনা,
-কেন করবানা?
-নিয়ম কানুন মেনে চলা আমার দাড়ায় হবেনা,,
-তাহলে কি করবা?
-ব্যাবসা,,
-কিসের ব্যাবসা?
-বিরিয়ানীর,,
-কিহ,? বিরিয়ানীর
.
তমা একটু অবাক হলো।আমি বুঝলাম না অবাক হওয়ার কি আছে। বিরিয়ানীর ব্যাবস্যা খুব লাভ জনক।খরচ কম মুনাফা বেশি।
আমি আবার বললাম,
-নাম ও ঠিক করে ফেলছি,
-কি নাম??
-তমায়ন বিরিয়ানী হাউস,, তোমার আমার নামের মিল রেখে।
-তুমি মজা করতেছ?
-জ্বী না,শোন কয়েক প্রকার বিরিয়ানী বেঁচবো আমরা,, লিস্টও করে ফেলছি।শুনবা,
-না শুনব না,,
-শোনই না,
-সিরিয়াস হও,,
-আগে তুমি খাওয়াটা শেষ করো তারপর সিরিয়াস হচ্ছি।
.
তমা আবার খাওয়া শুরু করলো।এবার খুব দ্রুত খেতে লাগলো। ও টেনশনে সব কাজ দ্রুত করে। আর আমি চাইছিলামও এটা, আধাঘন্টা পর আমার একটা টিউশনি আছে সেটাতে যেতে হবে।তমার কারণে কোন ভাবেই মিস করতে চাইনা।
.
তমার সাথে আমার কিছু হবেনা এটাও জানি। তাই ওর পিছনে টাইম নষ্ট করে লাভ নাই।
তমার বাবা আমাকে অপছন্দ করে,বেশ অপছন্দ। সেটা ভাল করেই জানি।
সেদিন রাস্তায় তমার বাবার সাথে হঠাৎ করে দেখা হয়েছিল।এই মহাশয় আমাকে খুব ভালো করেই চেনেন।
উনি নিজে থেকেই ডেকে বললেন,
-তমা নতুন জব পাইছে জানো?
-জ্বী চাচা,,
-তুমি কি করতেছ?
-ঘুরে বেড়াই,
-মাঝে মাঝে দেখি সিগারেট খাও,টাকা কই পাও,
-বাবা দেয়,,
-তোমার বাবা ভাল মানুষ,,তুমি বেকার কেন?
-সবাই বাপকা বেটা হয়না,,
.
উনি একটু থেমে বললেন,
-আমার মেয়ের বিয়ে দিবো সেই রকম ছেলের সাথে যে আমার মেয়ের চাইতে ভাল জায়গায় জব করবে,,
.
বুঝলাম কথাটা আমাকে শুনিয়ে বলেছেন।
আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না।চুপ করে রইলাম।
.
উনি আর কিছু না বলে চলে গেলেন।
আমি শিউর তমার বাবা আমার সাথে তার মেয়ের বিয়ে কখনোই দিবেনা।
এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা অবশ্য তমাকে বলিনি।
.
খাওয়া শেষ হতেই তমা বলল,
-সিরিয়াসলী কথা বলো,
-তোমার বাবা কোন ভাবেই তোমার সাথে আমার বিয়ে দিবেনা।
-কেন?
-উনি আমাকে পছন্দ করেন না,,
-কেন?
-এমনিই করেনা,, তুমি আমার চাইতে ভাল জব করো তাই।
.
তমা আমার কথার কোন উত্তর দিলনা। ওর চুপচাপ বসে থাকা দেখে আমি শুধু বললাম,
-এক কাজ করা যায়?
-কি?
-বাসায় না জানিয়ে বিয়ে করবা,
.
তমা কিছু বলল না।
আমি চেয়ার থেকে চুপ চাপ উঠে পরলাম। একটু পর একটা প্রাইভেট আছে সেখানে যেতে হবে।
এখানে বসে এত টাইম নষ্ট করার কোন মানে হয়না।
.
আমি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আড়মোড়া ভাংলাম।আধাঘন্টা এক জায়গায় বসে থাকা খুবই প্রবলেমের।আরো আগে বের হয়ে আসতে হতো।
.
আজকের আবহাওয়া ভাল বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব।এই দুপুরে এ পরিবেশে হাঁটতে মন্দ লাগবেনা।
আমি রাস্তায় নামবো এমন সময় তমাও বের হয়ে আসলো।
কত বিল হয়েছে দেখতে হত,,মোহাম্মদ পুরের নতুন ছাত্রী টা সব সময় ট্রিট চায় ওকে এনে এক প্লেট বিরিয়ানী খাইয়ে দিলে মন্দ হবেনা।
.
তমা এসে আমার পাশে দাঁড়ালো।গা লাগানো ভাবে। এক টা খালি রিকশা দেখে ডাক দিলো। -কই যাবেন আপা?
-কাজী অফিস
-উঠেন
.
তমা রিকশায় উঠে এক পাশে সরে গেল, আমিও দেরী করলাম না উঠে পড়লাম ওর পাশে।
রিকশায় উঠে আফসোস হলো,, এক প্লেট বিরিয়ানী খেলেই পারতাম।হবু বউয়ের টাকায় খাওয়া যেতেই পারতো।
.
রিকশায় উঠে তমাই প্রথম মুখ খুলে বলল,
-বিরিয়ানী রান্না শিখে নাও,, বিরিয়ানী হাউসের রান্না তোমাকেই সামলাতে হবে।
.
আমি ওর জবাবে কিছু বললাম না।শুধু একটু হাসলাম।এই মেয়েটা এত সাহসী কিভাবে হলো বুঝলাম না।
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy free download
download xiomi firmware
Download Premium WordPress Themes Free
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.