বিভ্রান্ত

এক
-ভাইয়া,,
.
আস্থার ডাক টা শুনে একটু বিরক্তই হলাম। সকাল সকাল এই মেয়ে এখানে কি করে?
আমি আস্থার কথার কোন জবাব না দিয়ে চুপচাপ বসে টিভি দেখতে লাগলাম।
এই মেয়ের সাথে কথা বলা মানে এক প্রকার ঝামেলা বাড়ানো।
.
আস্থা এসে সোজা আমার পাশে বসল।তারপর বলল,
-ভাইয়া কি করেন?
.
ওর প্রশ্ন টা শুনে খুব রাগ উঠল।
একবার ইচ্ছে হলো এই প্রশ্নের উত্তরে বলি, তুমি কি কানা।চোখে দেখো না যে আমি টিভি দেখছি। আমি সহজজ হয়েই উত্তর দিলাম,
-টিভি দেখছি,,
.
ঘরে মা বসে ছিল তাই আস্থা কিছুক্ষন আম্মুর সাথে কথা বলে আবার আমার সাথে টিভি দেখায় যোগ দিল।
কিছুক্ষন টিভি দেখে হুট করেই ও বলল,
-ভাইয়া আপনি কি ছ্যাকা খাইছেন?
.
আমি আকাশ থেকে মাটিতে পরলাম,বলে কি এই মেয়ে।
-কেন?
-এই যে মনির খানের গান শোনেন,
-যারা ছ্যাকা খায় তারা কি মনির খানের গান শোনে?
-হ্যাঁ,, আমাদের বাসার সামনে যে পাগল টা বসে থাকে। সে মনির খানের গান শোনে।
-তাই নাকি?
-হ্যাঁ, সে ছ্যাকা খেয়ে পাগল হইছে,এখন মনির খানের গান শোনে।রঞ্জনা গানটা.
-জানতাম না তো।আর ওটা রঞ্জনা নয় অঞ্জনা,
-যাই হোক,এবার সত্যি করে বলেন আপনি ছ্যাকা খাইছেন কিনা?
-আরেহ নাহ,
.
আমি সাথে সাথে চ্যানেল চেঞ্জ করে দিয়ে মায়ের দিকে তাকালাম। মা আমার দিকে কিভাবে যেন তাকিয়ে আছে। উনিও হয়ত বিশ্বাস করে ফেলেছেন আমি ছ্যাকা ট্যাকা খাইছি।আমি মাথা নাড়িয়ে জানান দিলাম না এমন কিছু না।
তারপর মা চোখ নামিয়ে আবার শাক বাছতে লাগল। আমি আসলেই জানতাম না,মনির খানের গান শোনে তারাই, যারা ছ্যাকা খায়।
.
মায়ের সাথে চোখাচুখি ব্যাপার টা আস্থার চোখ এড়ায়নি। ও এটুকু দেখে হেসেই খুন।
এ মেয়েটাকে রেগে কিছু একটা শুনিয়ে দিবো তারো উপায় নেই। আমার বাসায় আমার চাইতে এই মেয়েটার প্রাধান্য বেশি থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয় এটা আমার বাড়ি না আস্থার বাড়ি,, এগুলো আমার বাবা মা না আস্থার বাবা মা।
.
বছর দুয়েক আগে যখন আমরা এখানে এলাম তখন আস্থা ইন্টারে পড়ে। প্রথম প্রথম আস্থাকে আমার বেশ লাগত। সুন্দর মেয়ে, হাসলে বড় একটা টোল পরে গালে। কিন্তু এই ভাললাগা বেশিদিন রইলো না,ও যখন তখন সবার সামনে আমাকে অপমান করত। বিপদে ফেলে দিত।এ কারণেই ওকে অপছন্দ হতো।
.
আজকের ব্যাপার টা কিছু নয়,এর আগের ঈদে যেটা করেছিল সেটা একটু বেশি হয়ে ছিল।সেদিন ওদের বাসায় আমাদের দাওয়াত ছিল,দুই ফ্যামিলি একখানে ছিলাম।
সেখানে আস্থা হুট করে বলল,
-ভাইয়া, কি প্রেমে পড়েছেন ফেসবুকে শুধু প্রেমের গল্পই লেখেন,
.
আমি এমন কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এসব শুনে সবাই হেসে উঠল। হাসলো না শুধু বাবা,উনি মুখ গম্ভীর করে বলল,
-প্রেম ভালবাসা বাদ দিয়ে লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দাও,,
.
আমি বাবার কথায় একটু মনে কষ্টই পেলাম। বছর দুয়েক পর যার অনার্স কমপ্লিট হবে তাকে এভাবে পড়তে বলার কি দরকার।ছোট থেকেই তো পড়েই আসলাম।
যাই হোক তখন থেকেই আমি মোটামুটি আস্থাকে এড়িয়ে চলি।
তবে আজ কি মতলবে এসেছে এখনো বোঝা যাচ্ছেনা।
.
আস্থা হাসি থামিয়ে সোফা থেকে উঠে গিয়ে মায়ের কানে কানে কি যেন বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। আমিও আর দেরী করলাম না,টিভি বন্ধ করে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালাম।
তখনি মা বলল,
-আস্থা কে একটু ওর কলেজে রেখে আয়?
-মানে,
-মানে আবার কি? ওর নাকি লেট হয়ে গেছে তাই রেখে আয়।
.
আমি একটু রাগ হয়ে বললাম,
-লেট হয়ে গেলে আগে বের হইতো, এখানে এসে গল্প করত না,
-এত কিছু বলার কি দরকার? যা রেখে আয়
-বাইকে তেল নাই,
-তেলের টাকা দিবো পরে এখন যাও!
.
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগে আবার আস্থার ডাক,
-ভাইয়া?
.
আমি মাকে আর কিছু বোঝানোর বৃথা চেষ্টা না করে আস্থার দিকে তাকালাম।মেয়েটা সেজে গুজে চলে এসেছে। এই মেয়ে কলেজ যাচ্ছে নাকি ডেটে।
.
আস্থা আবার বলল,
-ভাইয়া আসেন,দেরী হচ্ছে।
.
নিজের সমস্ত রাগ নিজের মধ্য জমা রেখে আস্থার পিছন পিছন চললাম।
.
বাইকে করে কিছুদূর আসার পর আস্থা বলল,
-ভাইয়া আপনি কি আমার উপরে রেগে আছেন?
-নাহ,,
-আমি কি আপনাকে ধরে বসবো?
-বসো,,
-আচ্ছা,ধন্যবয়াদ। আপনি আমাকে কলেজ নিয়ে যাচ্ছেন তার বদলে আমি আপনাকে দশ টাকার বাদাম খাওয়াবো,,
.
আমার ওর কথা শুনে হাসি পেলো। আমি বললাম,
-তোমার কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে বলো,,
-হ্যাঁ,আইস্ক্রীম খাবো,
-এখন?
-হুম,
-তোমার নাকি লেট হচ্ছে?
-একদিন কলেজ লেট করে গেলে কি এমন হবে?
-হুম। তা অবশ্য ঠিক।
.
আমরা একটা আইস্ক্রীমের দোকানে আইস্ক্রীম খেয়ে তারপর আবার ওর কলেজের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।এই মেয়েটাকে আমি কখনো আইস্ক্রীম খাওয়াবো ভাবিনি। যার উপর এত রাগ। মেয়েটা যে কেন আমার সাথে এমন করে?
কিছুক্ষন যেতে আস্থা আবার বলল,
-ভাইয়া আপনার বাইক টা কিন্তু আজ ধন্য?
-কিভাবে?
-আমার মত একটা মেয়ে বসছে তাই,
.
আমি একটু মজা পেলাম ওর কথায়,,বললাম,
-তুমি কি খুব স্পেশাল
-জ্বি হ্যাঁ,
-কিভাবে?
-যেভাবেই হোক।আজকের পর থেকে আপনার লাইফ চেঞ্জ হয়ে যাবে,,
-তাই নাকি? ঠিকাছে দেখা যাবে।
.
কিছুক্ষন বাদে আমি যখন আস্থার কলেজে পৌছালাম তখন বেশ অবাক হলাম।
আস্থা ওর কলেজে এত পপুলার জানতাম না।
ওর সাথে দুবার ওর কলেজে এসেছিলাম বাট তখন ও নতুন ছিল। কলেজের প্রায় সবাই ওকে হায় হ্যালো করছিল। আমি এটা দেখে তো আস্থাকে জিজ্ঞেস ও করলাম,
-এরা সবাই তোমাকে চেনে?
-না,সুন্দরী মেয়ে দেখলেই এমন করে,
-ওহ আচ্ছা।
.
আমি আস্থাকে নামিয়ে দিয়ে চলে আসতে চাইলে ও আমাকে থাকতে বলল।
ওর নাকি অল্প একটু কাজ আছে লাইব্রেরীতে, সেটা শেষ করে আবার ফিরবে।
আমি বিরক্ত হলাম না, রাজী হয়ে গেলাম।কেন রাজী হলাম জানিনা, এতে অবশ্য আমার বিরক্ত হওয়া উচিত ছিল। এই সামান্য কাজের জন্য আমার এত সময় নষ্ট হচ্ছে।
.
ও ওর বন্ধু বান্ধবীদের সাথেও আমার আলাপ করিয়ে দিলো।সবার সামনে আমার পরিচয় দিল আমি ওর ফ্রেন্ড। ব্যাপার খানায় একটু অবাকই হলাম। তবে আমি নিশ্চিত বাইকে আমাকে আর আস্থাকে এক সাথে দেখে ওর বন্ধুরা আমাদের দুজন কে প্রেমিক প্রেমিকা ভেবেছে। আস্থা আমাকে ফ্রেন্ড বললেও কেন যেন ওরা বিশ্বাস করলোনা ব্যপার টা। ওরা হাসা হাসি করতে লাগলো।
.
কিছুক্ষন পর আস্থা আমাকে রেখে লাইব্রেরীতে চলে গেলো। আমাকেও যেতে বলল কিন্তু আমি মানা করে দিলাম।
আমি ওদের লাইব্রেরীর সামনে একাই বসে ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।অবশ্য যাওয়ার আগে আস্থা আমাকে দশ টাকার বাদাম কিনে দিয়ে গেছে,সেটাই বসে খাচ্ছিলাম।
.
ঠিক সে সময় কয়েক টা ছেলে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। দেখেই বোঝা যায় এরা কলেজের গুন্ডা পান্ডা।বাংলা সিনেমায় দেখা যায় ভিলেন রা যেভাবে নায়কের সামনে এন্ট্রি নেয় ওরাও সেভাবে আমার সামনে এন্ট্রি নিলো।
যদিও আমি কারোর হিরো না।
.
ওদের মধ্য বড় বড় চুল ওয়ালা স্টাইলিশ ছেলেটা বলে উঠল,
-আপনার নাম নাহিদ?
-হুম,
-আপনি আস্থার লাভার?
-নাহ,
-কিন্তু আস্থা তো বলে আপনি নাকি?
-আরেহ নাহ, আমি ওর ফ্রেন্ডের মত
-আচ্ছা,,তাহলে তো আমার লাইন ক্লিয়ার।
-কিসের লাইন?
-আস্থার আর আমার।
.
আমি একটু হেসে বললাম,
-হুম,,
তখনি ছেলেটা বেশ রিস্পেক্ট দিয়ে বলল,
-ভাইয়া চা খাবেন?
-নাহ,
-ভাইয়া আমার কথা আস্থা কে বইলেন?
-আচ্ছা, কি নাম তোমার?
-সাদিক,
-আচ্ছা, ঠিকাছে।
.
ছেলেগুলো চলে যাওয়ার কিছুক্ষন বাদে আস্থা ফিরে এলো।আমি কিছুক্ষন আস্থার দিকে তাকিয়ে রইলাম, মেয়েটা অনেক সুন্দর। এই মেয়ের পিছনে যে কোন ছেলেই ঘুরবে।আমার পরিচিত না হলে হয়ত আমিও ঘুরতাম। সাদিকের ব্যাপার টা আর ওকে জানালাম না। আমি ওকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।
কলেজ পার হয়ে আসতেই আস্থা জিজ্ঞেস করলো,
-সাদিক আসছিল আপনার কাছে?
-হুম,
-কি বলছে?
-তোমাদের লাইন ক্লিয়ার করে দিছি?
-মানে?
-মানে আবার কি? আমি বলছি আমাদের মধ্য কিছু নাই।
-এমন বলছেন কেন?
-সত্যিটাই তো বলছি,,
-ও আবার ডিস্ট্রাব করা শুরু করবে,,
-ও তোমাকে ডিস্ট্রাব করে?
-খুব,
.
আমি বাইক টা ঘুরিয়ে নিয়ে আবার ওর কলেজের দিকে চললাম। আস্থা তাই দেখে বলল,
-কোথায় যান?
-তোমার কলেজে,
-কেন?
-গেলেই বুঝবা,
-গন্ডগোল করার দরকার নাই,,ও লীগ করে,
-হাহাহা,, তোমার কি মনে হয় আমি গন্ডগোল করার লোক?
-তাহলে,
-গেলেই বুঝবা,,
.
কলেজে গিয়ে সোজা সাদিকের সামনে বাইক থামালাম।ও আমাদের দেখেই বলল,
-ভাইয়া লাইন ক্লিয়ার করছেন?
-হুম, তুমি নাকি ওকে ডিস্ট্রাব করো?
-হ্যাঁ, মানে?
-শোন, আর করবানা ওর সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেছে।
কাল আমাদের বাড়িতে আসিও চা খাওয়াবো।
-আপনি না বললেন ও আপনার ফ্রেন্ড,
-এমনি বলছিলাম,, অন্যর বউকে ডিস্ট্রাব করা ঠিল নয়,তাই না?
.
সাদিক আর কিছু বলল না,চুপ করে তাকিয়ে রইল।আমি আস্থাকে নিয়ে আবার ওখান থেকে চলে এলাম। কিছুদূর আসতে আস্থা বলল,
-আমি বয়ফ্রেন্ড বলছিলাম,আর তুমি ডাইরেক্ট বউ?
-এবারে ভাল কাজ হবে,,
-ও যদি কাল বাসায় আসে,,
-আসলে আসবে,
-তারপর কি হবে?
-কিছুইনা,,
-না হলেই ভালো,,
.
আমি একটু থেমে বললা
-এক মিনিট দাঁড়াও, তুমি আমাকে তুমি করে বলতেছ কেন?
-প্রাকটিস,
-মানে? সাদিক যদি কাল আসে তখন ওর সামনে আপনি বললে তো প্রবলেম,,
-ফায়দা নিচ্ছ,,
.
আমার কথা শুনে আস্থা হেসে উঠলো।
বলল,
-ফায়দায় হোক,হ্যাজবেন্ড বলে আসছো।
-তা বলছি,
-হ্যাজবেন্ড না হও,, বয়ফ্রেন্ডই হোক,,
-প্রেম,,
-জ্বি, প্রেম।
.
জানিনা এটা প্রেম টাইপ কিছু কিনা,
তবুও মনে হচ্ছে আমাদের ভেতর কিছু হচ্ছে।
তা স্পষ্ট, আমি আস্থার প্রতি বিরক্ত হচ্ছিনা, আর আস্থা আমাকে তুমি করে বলছে। ব্যাপার খানা খেয়াল করতে করতে আমরা বহুদুর চলে এসেছি।
.
দুই,
সকালে কেউ ঘুম থেকে ডাকলে আমি বিরক্ত হই। খুবই বিরক্ত হই।
এটা বাসার সবাই জানে।সবাইকে মানা করে দেয়া আছে।তবুও আজ ঘুম ভাঙলো কারো ডাকা ডাকি তে।
আমি চোখ খুলে দেখলাম আস্থা। একটা ঝাড়ি দিবো তার আগেই আস্থা বলল,
-একটা সমস্যা হইছে?
.
আমি বিরক্ত হয়েই বললাম,
-কি?
-সাদিক বাসায় আসতেছে?
-মানে? কোন সাদিক,
-আরে যে ছেলে আমাকে ডিস্ট্রাব করে,,
.
আম ধরপর করে বিছানায় উঠে বসলাম।
আমি কল্পনাও করিনি সাদিক আসবে। আমি তো যাস্ট এমনিতেই বলছিলাম।
আমি আস্থা কে জিজ্ঞেস করলাম,
-কে বলছে ও আসতেছে?
-শুধু ও না, অন্য বন্ধু বান্ধবীরাও আসতেছে। একটা ফ্রেন্ড ফোন করে জানালো।
-ওরা আসলে বইলো সব এমনিতেই বলছি,
-তাতে অনেক প্রবলেম হবে, কলেজে সবাই আমাকে কেমন ভাববে?
.
আমি একটু ভেবে বললাম,
-আচ্ছা, ঠিকাছে। শোনো আমার আম্মুকে গিয়ে বলো তোমার আম্মু মানে আন্টি তোমাদের বাসায় ডাকতেছে,,আর সবাইকে এ বাসায় আনো।
-আম্মু তো ডাকতেছে না?
-আরে গিয়ে বলো না,
-আচ্ছা,,
আস্থা দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে এসে বললো,
-তোমার আম্মু তো আবার চলে আসবে
.
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,
-আসবে না, দুইজন এক সাথে হলে গল্পের ফুল ঝুড়ি শুরু হয়,
.
আম্মু চলে যাওয়ার কিছুক্ষন বাদে আস্থার সব ফ্রেন্ডরা চলে এলো। আমাদের দুজন কে এক বাসায় দেখে ওরা কোন সন্দেহ করলো না, আর সন্দেহ করার কিছু ছিলোও না।
আস্থা পুরো আমার বউ এর মত আচরণ করছিল।আমার শুধু ভয় হচ্ছিল ব্যাপার টা বেশি বাইরে না গেলেই হয়।
.
সাদিক যাওয়ার আগে আস্থাকে সর‍্যি বলে গেল। আরো বলল, ও আগে জানলে আস্থাকে কখনোই ডিস্ট্রাব করত না।
আমিও বেশ খুশি হলাম কোন ঝামেলা ছাড়াই সব মিটে গেছে।
.
তবে আসল কাহিনী ঘটল রাতে,,
সন্ধ্যায় দুটা টিউশনি করাই।সেটা শেষ করেই ফিরছিলাম,তখনি আস্থার ফোন।ফোন ধরতেই ও বলল,
-কোথায় তুমি?
-বাসায় যাচ্ছি,
-আমাদের বাসায় আসো সোজা,
-কেন?
-সমস্যা হইছে,
-কি সমস্যা?
-আসো আগে,,
-আচ্ছা,
ফোন রেখে একটু চিন্তায় পরে গেলাম।কি এমন হলো যে এভাবে যেতে হবে,সকালের ব্যাপার টা নিয়ে নয়ত।
এটা ভাবতেই মাথা হ্যাং হয়ে গেল।বাবা মা জেনে গেলো পুরা শেষ।
.
যখন আমি আস্থাদের বাসায় পৌছালাম তখন বেশ অবাক হলাম।আব্বা আম্মা সবাই ওখানে।আমি গিয়ে আস্থার পাশে দাঁড়ালাম। ওকে চোখের ইশারা করে জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হয়েছে,,
.
কিন্তু ও কোন কিছু বলল।ওর বদলে আমার বাবা জিজ্ঞেস করল,
-তোরা নাকি বিয়ে করেছিস?
.
আমি উত্তর দেয়ার আগে আস্থা বলে উঠল,
-না, করবো,
.
আমি বললাম, করবো মানে।
বাবাও পাশ থেকে বলল,
-এলাকার সবাই তো বলতেছে করে ফেলছিস। সকালে নাকি তোদের বান্ধুরাও আসছিলো,
-ওরা তো এমনি আসছিল,,
.
মা পাশ থেকে বলল,
-এলাকার সবাই তোদের বিয়ের কথা জানে শুধু আমরাই জানি না,
-আসলে আম্মু ব্যাপার টা যা ভাবতেছ তা নয়।
.
আস্থার মাও বলল,
-আস্থার সাথে পড়ে যেই মেয়েটা কি যেন নাম, নীল না কি?
ও তো নিজে বলছে আমাকে তোমাদের বিয়ের কথা।
.
আমি শুধু বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
-বাবা আময়াদের বিয়ে হয়নি,
.
বাবা আমার কথা শুনে বলল,
-তোরা যা,আমরা দেখছি।
.
আমি আর আস্থা ঘর থেকে বের হয়ে ছাদে আসলাম।এসেই ওকে জিজ্ঞেস করলাম,
-তুমি বিয়ে করবো বললা কেন?
-আজব, তুমি সব ঝামেলা করছ,
-আমি কি করছি?
-সাদিক কে বিয়ের কথা কে বলছিল?
-সেটা তোমার ভালর জন্য বলছিলাম,, আর তুমি তো,
-এখন এসব বলে লাভ নাই,, তোমার জন্যই এসব হইছে।
-বাবা মা কি ভাবতেছে?
-এলাকার মানুষ জন যে আমাক খারাপ ভাববে যখন শুনবে আমার বিয়েই হয়নি শুধু শুধু….কলেজের সবাইও
এটুকু বলেই আস্থা চুপ হয়ে গেল, মনে হলো ও কাঁদছে। ছাদে অল্প আলো তাই দেখা যাচ্ছেনা তবে বোঝা যাচ্ছে ঠিকই। এই মেয়ে কখনো কাঁদতে পারে ভাবিনি।
.
কি বলব ওকে ভেবে পেলাম না।
এই সামান্য ব্যাপার যে এত বড় কিছু হয়ে যাবে ভাবিনি।আস্থার জন্য নিজেরি খারাপ লাগলো।
কে জানত এমন হবে?
দেখা যাক বাবা মা কি সিদ্ধান্ত নেয়।অবশ্যই ভাল সিদ্ধান্ত নিবে যাতে সম্মান হানি না হয়।
.
এসব ভাবতেই আস্থার ছোট ভাই দৌড়ে ছাদে এলো।এসেই বলল,
-তোমাদের বিয়ে দিবে,
-মানে,
-মানে আবার কি?
-তোমাদের বিয়ে ঠিক করছে সবাই মিলে,

আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করবো তার আগে আবার সে দৌড়ে নিচে চলে গেল।আমি বিয়ের ব্যাপারে কিছু বললাম না।
আমি আগে থেকেই জানতাম এমন কিছুই হবে। আর এটাই হয়ত ঠিক হবে,, এলাকায় মান সম্মান ও বাঁচবে।
.
আমার চুপ করা থাকা দেখে আস্থা বলল,
-আমি গিয়ে কথা বলছি,
-কি বলবা?
-যেন বিয়ে না হয়,
-তোমার বিয়ে করতে সমস্যা?
-আমার তো নয় তোমার,,
.
আমি একটু হেসে বললাম,
-এর পর থেকে যদি অপমান না করো তাহলে আমি রাজি,,
.
আস্থার আমার কথা বুঝতে একটু দেরী হলো। দেরী করে বুঝলেও ও হেসে উঠলো। এই হাসির মানে যে হ্যাঁ সেটা বুঝতে বাকী রইল না।
তবুও আস্থা মুখ খুলে বলল,
-আগে বিয়ে হোক তারপরে,
-তুমি বলার প্রাকটিস আগে করতে পারো এটা আগে কেন নয়?
-তুমি আর এ বিষয় এটা অন্য, বুঝলা?
-হুম, বুঝছি।
.
আমি যেই আস্থার হাত ধরতে যাবো তার আগেই আস্থা ছুটলো আমার থেকে দূরে, আমিও ছুটলাম ওর পিছন পিছন।
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Premium WordPress Themes Download
Premium WordPress Themes Download
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
online free course
download samsung firmware
Download WordPress Themes
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.