বিকালে ঘুম ভাংলো

বিকালে ঘুম ভাংলো মুহিনের ডাকে। মুহিন আমার ছোট ভাই।এবার পিএসসি দিলো। চোখ খুলতেই মুহিন বলল,
-ভাইয়া তোর মনে আছে আজ খেলা আছে?
-কার খেলা,,
-ব্যাডমিন্টন খেলা,,
-হুম, মনে আছে।
-ভাইয়া ৫০০ টাকার বাজি তার সাথে মান সম্মান এর ব্যাপারো,,
-আরে নো টেনশন, ভাইয়ার উপর ভরসা রাখ,,
-হুম,, হারলে দেখিস,,
-হারবো না।
.
খেলার কথা ভুলেই গেছিলাম প্রায়।
এলাকায় এক নতুন মেয়ে আসছে নাকি?
খুব ভাল ব্যাডমিন্টন খেলে।এলাকার কেউ নাকি তাকে হারাইতে পারেনাই। তাই মুহিন মেয়েটারে আমার হয়ে চ্যালেঞ্জ করে আসছে।আমিও ছোট ভাই এর চ্যালেঞ্জ টাকে নিজের করে নিছি,যে কোন মূল্য মেয়েটাকে হারাই দিবো।
.
-মুহিন খেলা কই?
-প্রিন্সিপালের বাসায়,,
-মেয়েটা প্রিন্সিপালের কে হয়?
-ভাগ্নি,
-ও আচ্ছা,,
-হুম, এখানে পড়া লেখা করতে আসছে। খুব অহংকার,, আমার গাল টানছে,,
-বলিস কি? এত বড় সাহস। দেখতে কেমন?
-সুন্দর,,,
-তাই নাকি?
-সুন্দর হোক আর কি হয় হোক।তুই জিতবি,,
-হুম,জিতবো।নাম কি মেয়েটার?
-কুমু,,
-কুমু? এটা কোন নাম হলো নাকি?
-হুম,,
.
যথারিতী সন্ধ্যার দিকে উপস্থিত হলাম আমাদের এলাকার কলেজের প্রিন্সিপালের বাসায়। বাসায় বলা ভুল,, প্রিন্সিপাল এর বাসার সামনের মাঠে।ছোট একটু জায়গা, ব্যাডমিন্টন খেলা হয় এখানে শুধু। আমরা এলাকার সবাই পরচিত তাই এক খানে ছেলে মেয়ে থাকলে খুব একটা সমস্যা হয়না।অবশ্য মেয়ের সংখ্যা কম।
.
মুহিন হাত দিয়ে মেয়েটাকে দেখিয়ে দিল।আমি দেখে পুরাই টাস্কি। এত সুন্দর মেয়ে,,কি কিউট?
তবে একটু বাচ্চা বাচ্চা লাগলো।
এই মেয়েকে হারাইতে নিজেরি খারাপ লাগবে। আবার না খেললেও মান সম্মান নিয়েও টানাটানি পরে যাবে।
কুমুর সাথে কথা বলার ইচ্ছা হলো তবুও কথা বলার আগ্রহ চেপে গেলাম।
.
কিছুক্ষন পর খেলা শুরু হল।
খেলার প্রথম দিকে অনেক ভালই খেললাম,, শেষ টুকুতে নিজের ইচ্ছাতেই হেরে গেলাম।
সবাই ভেবেছিল আমি জিতে যাচ্ছি,,হেরে যাওয়াতে সবাই অবাক সাথে মেয়েটাও।
কুমু হয়ত বুঝতে পেরেছে আমি নিজের ইচ্ছাতেই হেরেছি।
.
খেলা শেষ হতে আমি আর মুহিন ওখানে দাঁড়ালাম না।সোজা বের হয়ে এলাম মাঠ থেকে।মুহিনের জন্য একটু কষ্টই হলো।ও আমার হারের কষ্টে কেঁদেই ফেলল। দুটা আইস্ক্রিম কিনে দিয়েও ওকে শান্ত করা গেলনা। শেষ মেস বলেই ফেললাম,
-মুহিন ওটা তোর ভাবী হয়,,ভাবীকে কি হারানো যায়?
-ওই মেয়ে আমার গাল টান দিছে?
-আরে ভালবেসে টানছে,, তুই এক মাত্র দেবর না,,
-উহু,, কথা বলিস না আমার সাথে,,
আমি ওকে ঘাড়ে তুলে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
.
খেলার কথা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম,, সাথে কুমুকেও। মুহিনকেও যেতে মানা করেছিলাম ওখানে খেলার জন্য। তবে আজ সকালে যখন বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমেছি তখনি পিছন থেকে কেউ ডাকলো,,
-এই যে নয়ন সাহেব শুনছেন?
.
আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি কুমু দাঁড়িয়ে।এই মেয়ে আমার নাম জানলো কিভাবে।আমি পিছন ফিরে জবাব দিলাম,,
-আমাকে বলছেন?
-হ্যাঁ, আপনাকেই ?
-আচ্ছা,, বলুন।
-আপনি সেদিন ইচ্ছা করে হেরে গেলেন কেন?
-কই নাতো,,
-সত্যি করে বলেন?
-আরেহ নাহ,, আপনি ভাল খেলেছিলেন বেশি তাই জিতেছেন।
-নাহ,,
-এটাই সত্য,,
-দেখেন সেদিন থেকে আমার খুব রাগ লাগতেছে,, এজন্য খেলাও ছেড়েছি।আপনি সত্যিটা বলবেন কি?
-আসলে আপনি অনেক সুন্দরতো তাই,,
-এখানে খেলার সাথে সুন্দরের কি সাথ?
-সুন্দর কোন মেয়ের মন খারাপের কারণ আমি হতে চাইনা,,
-ফ্লাটিং করতেছেন?
-জ্বি না,, এই জন্যই তো সত্যিটা বলতে চাইনাই,,
-আচ্ছা,, সত্য বলার জন্য থ্যাংক্স।
.
কুমু ওর ব্যাগ থেকে দুটা এক পাঁচশ টাকার নোট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-আপনার টাকা,,
-কেন?
-ওই খেলায় আপনি জিতেছিলেন,,
-আচ্ছা,, আমি আমার টা নিচ্ছি,, আপনি আপনার টা রাখুন।
-আচ্ছা,, ঠিকাছে। ‘
-হুম,, টাকা ফেরত দিলেন।চলুন এর বদলে এক কাপ চা খাওয়াই,,
-আচ্ছা,, চলেন।।
.
চা খেতে খেতে কুমুর ব্যাপারে সব কিছু জেনে নিলাম।
মেয়েটাকে যত পিচ্চি ভেবেছিলাম ততটা নয়,, মেয়েটা অনার্স এ পড়ে,,অবশ্য ফাস্ট ইয়ারে কেবল।
.
কুমু যাওয়ার আগে আমাকে রাতে খেলতে আসার জন্য ইনভাইট করে গেল।আমি রাতে মুহিন কে নিয়ে চললাম কুমুর কাছে। মুহিন কে বললাম,,
-আজ কুমু তোর সাথে ভাল ব্যাবহার করবে?
-সত্যি,,
-হুম, তোর ভাবী তোর সাথে তো ভাল ব্যাবহার করবেই।
.
মাঠে গিয়ে দেখি কুমু এক পাশে দাঁড়িয়ে।আছে।
আমাদের দেখে ও এগিয়ে আসলো, আমার সাথে কথা বলার আগে মুহিনের গাল টেনে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-কেমন আছ মুহিন বাবু?
.
মুহিন একটু রেগে গিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
-লাগবেনা এমন ভাবি,,
.
আমি ইশারায় ওকে চুপ করতে বললাম।কুমু এটা দেখে বলল,
-কি হইছে?
-কিছুনা,,
-মুহিন কি বলল?
-কই কিছুনা,,
.
মুহিন কে আমি অন্য পাশে পাঠিয়ে দিয়ে কুমুর সাথে গল্প করতে লাগলাম।সে রাত্রে আর কোন খেলা হয়নি শুধু গল্পই করেছি।আর বাসায় ফেরার সময় সাথে কুমুর মোবাইল নাম্বার টাও নিয়ে আসছি যেন রাত বিরাতেও গল্প করা যায়।
.
ফোন নাম্বার নিয়ে এসে তো চুপ করে থাকা যায়না। তাই রাতে কল দিলাম। দুবার বাজতেই ও পাশ থেকে কেউ একজন ফোন ধরল,,
আমি হ্যালো বলতেই ও পাশ থেকে কুমু বলল,
-আপনার কথাই ভাবছিলাম।
-মানে? আমার নাম্বার আপনার কাছে
-হ্যাঁ,আছে তো।আগে নিয়েছিলাম,,
-ও আচ্ছা।।কি ভাবছিলেন?
-এমনি বোর হচ্ছিলাম তাই ভাবছিলাম আপনাকে ফোন দেই।
-সারাদিন বাসাতেই থাকেন?
-হুম, খুব একটা পরিচিত নাই তো,,তাই
-বের হবেন কাল?
-কার সাথে?
-আপত্তি না থাকলে আমার সাথে,,
-অবশ্যই,,
.
এভাবেই আস্তে আস্তে কুমুর কাছে আসা।আপনি থেকে তুমি হওয়া,,
মাঝে মাঝেই কুমুর সাথে ঘুরতেও বের হতাম,,ভাল লাগত যতক্ষন মেয়েটার সাথে থাকতাম।
হয়ত ভালবেসে ফেলেছি।খুব শীঘ্রই বলার ও চিন্তা ভাবনা করছিলাম,, মাঝে মাঝে মনে হত কুমুও আমাকে পছন্দ করে??
.
আজ বিকেলে মুহিন এসে আমাকে বলতেছে,
-ভাইয়া ভাবি পছন্দ হইছে?
-হঠাৎ??
-ভাবি আজ গাল টানেনি,, গালে একটা চুমু দিছে,,
-আমি এখনো কোন চুমু পাইলাম না, তার আগেই তুই। ভালো তো।।
.
রাতে যখন কুমুর সাথে দেখা করতে গেলাম তখন অবাক হলাম।আজ মাঠে কেউ নেই।কুমু বারান্দায় বসে আছে।
কথা বলার সময় ওকে একটু অন্য রকম মনে হল।কুমুই প্রথম বলল,
-মুহিন কে কি বলছ?
-কই কি?
-আমি ওর ভাবি??
-মুহিন তোমাকে সব বলে দিছে,,
-হুম,,
মুহিনের উপর একটু রাগ উঠল।
কুমু আবার বলল,,
-ক্লিয়ার করো সব?
.
আমি একটু ভেবে বললাম,
-আরে আমি কিছু বলিনাই।মুহিনের তোমাকে পছন্দ হইছে আমার জন্য,,
.
কুমু একটু মন খারাপ করে বলল,,
-ওহ, আমি তো ভাবছিলাম তুমি বলছিলা।
-হ্যাঁ,, আমিও বলছিলাম,,
-মানে?
-মানে তোমাকে দেখে ভাল্লাগে,,
-শুধু ভাল্লাগে,,
-না ভালবাসি,,
-শিউর।
-হ্যাঁ,,,
-আচ্ছা,, যাও আজকে,,
-কই যাবো?
-বাসায় যাও
-আজব,উত্তর?
-কিসের উত্তর,,
-ভালবাসি তার,,
-ও,, আচ্ছা। কাল ভোর চার টায় মাঠে আসিও,,
-এত ঠান্ডায়?
-হ্যাঁ,,ভালবাসার জন্য মানুষ কত কি করে আর তুমি এত টুকু করতে পারবানা,,
-হুম,, পারবো।
.
কাল চার টায় আসতে পারব কি পারব না জানিনা,,
তবে এত জলদি বাসায় যেতে ইচ্ছা করছেনা,, তাই কুমুকে বললাম,,
-একটু পরে যাই?
-কেন?
-একটু বসি তোমার পাশে,,
-আচ্ছা,,বসো,
.
আমরা ঠান্ডায় ঘাসের উপর বসে পরলাম।
লাগুক একটু ঠান্ডা সমস্যা কই।
আজ কোন খেলা হচ্ছেনা,, চারপাশে অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা। চাঁদের হালকা আলোয় আমার পাশে বসা মেয়েটেকা কি সুন্দরই না লাগছে।
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download Nulled WordPress Themes
Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
udemy paid course free download
download lenevo firmware
Download Nulled WordPress Themes
online free course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.