বদ মেয়ের সাথে রিকশা ভ্রমন

এক..
-আপনি নয়ন না ?
.
মেয়েটা একটু চিল্লিয়ে বলল,রাস্তা ঘাটে এভাবে চিল্লিয়ে কোন মেয়ে আপনার নাম ধরলে আপনি অবশ্যই বিভ্রান্ত হবেন। আমি ও বিভ্রান্ত হলাম মেয়ে টার মুখের দিকে তাকিয়ে। না,মেয়েটাকে চিনতে পারলাম না।
মেয়েটা আবার বলল,,
-আপনি লেখক নয়ন না?
.
মেয়েটা এমন ভাবে লেখক বলল মনে হল আমি হুমায়ন আহমেদ টাইপ কেউ।মাত্র দুটো বই বের হয়েছে আমার আর ফেসবুকেই একটু যা লেখালেখি করি।

-জ্বী,আমি। কিন্তু আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না?
.
মেয়েটা উচ্ছাসিত গলায় বলে উঠল,
-আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান। আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড ও
-ও আচ্ছা।
.
আমি মেয়েটার দিকে ভাল ভাবে তাকালাম, চিকন শরীর, একটা সাদা ল্যাগিংস পড়ে আছে।একটু আগে চোখে রোদ চশমা পড়ে ছিল সেটা এখন তার হাতে শোভা পাচ্ছে। মোটামুটি সুন্দরী টাইপ মেয়ে। মেকাপ করলে আরো সুন্দর লাগবে কিন্তু এখন মেকাপ ছাড়াই বের হয়েছে মনে হয়, তাই তেমন লাগছে না।
.
মেয়েটা আবার বলল,
-আপনি এখানে?কোথায় এসেছেন?
আমি উত্তর দিতে যাব তখনি পিছন থেকে রাফি আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল,
-তোরা কথা বল।আমরা আসছি।
-কোথায় যাচ্ছিস তোরা?
.
রাফি আর কিছু বলল না।রাফি আর মিতু সোজা হাটতে লাগল। আমি ওদের পিছে পিছে যাব তখনি মেয়েটা আবার ডাক দিল,
-শুনুন,
-জি,, বলুন তাড়াতাড়ি।আমাকে ওদের সাথে যেতে হবে।
-যাক ওরা,,আমি আপনাকে পৌছে দেব। কোথায় এসেছেন বলুন?
-আমার এক বন্ধুর বিয়ে তে আসছি,,,
.
আমি এটুকু বলে রাফি আর মিতুকে খুজতে ওদের পিছনে গেলাম।ওদের সাথেই এসেছি বিয়ে খেতে। পুরো জায়গা টুকু খুঁজে দুজনের একজনকেও পেলাম না।
আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম,এখন একা একা পৌছাব কি করে? এই প্রথম এখানে এসেছি। রাস্তাঘাট ও কিছু চিনিনা।
.
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুজনকে খুঁজতে লাগলাম,তখনি পিছন থেকে কেউ বলে উঠল,
-আমি আছি,টেনশন নিচ্ছেন কেন?
.
আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি ওই মেয়েটা। মেয়েটাকে দেখে বিরক্ত হলাম।এই মেয়ের কারণে প্রবলেম এ ফেসেছি।নিজের রাগ প্রকাশ করলাম না।এই মেয়েই এখন আমার একমাত্র ভরসা বিয়ে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য। আমি শান্ত ভাবে বললাম,
-আপনাকে আমি চিনলাম না এখনো?
-আমি ইতি।নুসরাত জাহান ইতি।
-সরি, তাও চিনলাম না।
.
আমার কথা শুনে মেয়েটার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।মেয়েটা কি যেন ভাবল।তারপর গম্ভীর মুখ টাকে হাসি হাসি বানিয়ে বলল,
-ওই যে একবার আপনার পোস্টে কমেন্ট করেছিলাম আপনার নাম নয়ন না হয়ে আঁখি হলে ভাল হত।
-ও আচ্ছা। চিনেছি।
.
যদিও চিনতে পারিনি।তবুও মেয়েটাকে চেনার ভান করলাম। কারণ এ মেয়ের সাথে ভাল ব্যাবহার করতে হবে।আমি মোবাইল বের করে রাফিকে কল দিলাম ও বলল, ও নাকি বিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।এখান থেকে খুব কাছে। আমি ঠিকানা টা নিয়ে নিলাম গ্রাম আলীপুর, ওখানে গিয়ে মতি মাস্টার এর বাড়ির কথা বললেই যে কেউ দেখিয়ে দিবে।পাঁচ মিনিটের পথ।আমি ভেবে পেলাম না এত তাড়াতাড়ি ওরা পৌছাল কি ভাবে।রাফিকে ডাকলাম এখানে আমাকে নিতে আসার জন্য কিন্তু ও বলল,
-পারবেনা।
.
আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আলীপুর চিনেন?
-হুম,কেন?ওখানে আপনার বন্ধুর বিয়ে নাকি?
-হুম।
-আমি ও তো সেদিকেই যাচ্ছি,,
-খুব ভাল তো।
-চলুন যাওয়া যাক।একটু হেটে রিকশা নিতে হবে।
-চলুন।
.
আমি ভাবতে পারিনি, আমার এমন কোন ফ্যান থাকতে পারে। ভাবতেই ভাল লাগছে।নিজেকে অনেক বড় কেউ মনে হচ্ছে।
.
হাঁটতে হাঁটতে ইতি বলল,
-আমি বিলিভ করতে পাচ্ছিনা আপনি আমার সামনে।
-আসলে আপনি আমাকে একটু বেশী সম্মান দিচ্ছেন।
-না মোটেও না।আপনি চমৎকার লেখেন।
-ধন্যবাদ।
.
মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর, আমরা একটা মোড়ে আসলাম।ইতি বলল,
-চলুন,সামন থেকে কোন রিকশা নেই।
-হুম চলুন।
.
সামনে একটা রিকশাওয়ালাকে গিয়ে বললাম,
-আলী পুর যাবেন।
.
রিকশা ওয়ালা আমার কথা শুনে আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল মনে হল চাঁদে যেতে চেয়েছি।
ইতি সাইড থেকে বলল,
-সোনা পাড়া চলুন।
.
আমি বললাম,
-সোনা পাড়া কেন?
-আলীপুড় অনেকে চেনেনা। সোনাপাড়ার পাশেই আলীপুর।
-ও আচ্ছা।
.
আমরা দুজন রিকশায় উঠে গেলাম।ইতিকে যতটা চিকন ভেবেছিলাম রিকশায় বসে মনে হল মেয়েটা ততটা চিকন নয়, মোটা বেশ মোটা। রিকশায় জায়গাই হচ্ছেনা, গায়ের সাথে গা লাগছে।
.
রিকশায় উঠে ইতি বলতে লাগল,
-আপনি ম্যাসেজের রিপ্লাই দেন না কেন?
-আসলে অনেক ম্যাসেজ আসে তো,তাই সবার টা দেওয়া হয়না।
-আচ্ছা,,এবার থেকে আমার টা দিবেন।
-হুম,অবশ্যই।
-আমার নাম কি মনে আছে আপনার?
-হুম ইতি।
-শুধু ইতি না নুসরাত জাহান ইতি।মনে থাকবে?
-হুম।
.
একটা মেয়ে এত তারাতারি আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারে আমি ভাবতে পারিনি।কিন্তু আমারও কিছুই করার ছিলনা,এ মেয়ের সাথেই আমার বিয়ে বাড়ি যেতে হবে।রাফি আমাকে নিতেও আসবেনা।ওকে ডাকলেই বলবে,
-তোর তো অনেক ফ্যান! ”
.
কিছুক্ষন চুপ থেকে ইতি আবার বলল,
-আপনি এত সুন্দর কিভাবে লেখেন?
.
আমি খুব বিরক্ত হলাম।এত কথা বলছে কেন মেয়েটা।আমি চুপ করে থাকলাম।আমার চুপ করে থাকা দেখে ও আবার বলল,
-বলুন না কিভাবে?
-কলম দিয়ে।
-আপনার কলমে কি যাদু আছে?
-আছে হয়ত।
-আপনার একটা কলম আমাকে দিবেন,যদি আমি ও কিছু লিখতে পারি।
.
আমি মেয়েটার কথায় বিরক্তের চরম সীমায় পৌছে গেছি।ইচ্ছে করছে রিকশা থেকে নেমে যাই। বিরক্তি ভাবটা আমার মুখেও প্রকাশ পাচ্ছে , কিন্তু মেয়েটার আচরণে মনে হচ্ছে ও কিছুই বুঝতে পারছেনা।
.
আমি বললাম,
-এখন সাথে তো কলম নেই।পরে অন্য সময় দেব।
.
আমি একটু চুপ করে থেকে আবার বললাম,
-আরো কতক্ষন লাগবে যেতে আমার ফ্রেন্ড বলেছিল ৫ মিনিট,কিন্ত প্রায় ১০ মিনিট হয়ে গেল।
.
আমার কথা শুনে ইতির মুখ কুচকে গেল। বুঝলাম না কেন?
আমি তো সেরকম কোন কথাই বলিনি।
.
ইতি রিকশাওয়ালা কে বলল,
-আলীপুর চল।
.
রিকশাওয়ালা পিছনে ঘুরল কিছু বলার জন্য,মুখে বিরক্তির ছাপ।
রিকশাওয়ালা কিছু বলার আগেই ইতি বলল,
-যেটা বলেছি সেটা করেন,টাকা দেয়া হবে।
.
রিকশাওয়ালা আর কিছু না বলে সামনে ঘুরে রিকশা চালতে শুরু করল।ইতি আবার বলল,
-অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাবেন।
-আইচ্ছা।টাকা বেশী দেওন লাগব কিন্তু আপা।
-দেওয়া হবে, চলেন আপনে।
.
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-আর কতক্ষন?
-আর ১০ মিনিট।
-আরো ১০ মিনিট কিন্তু আমার বন্ধু তো বলল শুধু ৫ মিনিট
-উনি এমনি বলেছেন।
-কিন্তু আপনি?
.
কিছু বলার আগেই ইতি আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলতে লাগল,
-পরে কলম কিভাবে দেবেন।আর তো আমাদের দেখাই হবেনা হয়ত।
.
আমি কিছুই বললাম না।ইতি আবার বলল,
-আচ্ছা,,আপনার মোবাইল নম্বর টা দেন!
.
আমার মনে ভয় ছিল এটার, যে ও যেকোন সময় আমার মোবাইল নাম্বার চাইবে।সেটা সত্যি হয়ে গেল।আমি মোবাইল নাম্বার দিয়ে দিলাম। কারণ আমি জানতাম, না দিতে চাইলে কোন না কোন ভাবে এই মেয়ে আমার নাম্বার নিয়েই ছাড়বে।
এখন শুধু ঠিক ভাবে বিয়ে বাড়ি পৌছালেই হয়।
.
কিছুক্ষন বাদে ইতি একজন কে ফোন করে বলল,
-আমার সাথেই আছে?যাচ্ছি আমরা।
.
এটুকু বলেই রেখে দিল।কিছুই বুঝলাম না ওর কথা।আমি সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা করলাম না, কারণ চিন্তা হচ্ছিল রাস্তা নিয়ে।
রাস্তা টা দেখে মনে হচ্ছিল কিছুক্ষন আগেও এ রাস্তা দিয়ে এসেছি।
.
আমি ইতিকে বললাম,
-মনে হচ্ছে এই রাস্তা দিয়েই কিছুক্ষন আগেও গেলাম আবার এই রাস্তা দিয়েই আসতেছি!
.
কথা টা শুনে ইতির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল,ও ততক্ষনাৎ হাসতে হাসতে বলল,
-নাহ,,ওটা অন্য রাস্তা ছিল।নতুন কোন জায়গায় গেলে সব রাস্তাই এক মনে হয়।
-ওহ,,হবে হয়ত।
.
ইতি একটু থেমে আবার বলল,
-দেখলেন না আমরা রাস্তা ঘুরলাম,এক রাস্তায় তো ব্যাক করিনি।
-হুম।
.
কিন্তু সন্দেহ বেড়ে গেল কিছুদূর আসতেই সামনের বট গাছ টার উপরে লাগানো সাইনবোর্ড দেখে।সেখানে লেখা জমি বিক্রয় হইবে ওটা আমি যাওয়ার সময় দেখেছি এটা আমার স্পষ্ট মনে আছে,কিন্তু আমি এ বিষয়ে ইতি কে কিছু বললাম না।আরেক টু শিউর হয়ে নেই তারপর বলব।
.
রিকশা থামল সেখানে, যেখান থেকে আমরা উঠেছি।এত ক্ষনে আমি বুঝে গেছি আমার সাথে কি হয়েছে?
.
এই মেয়ে অনেক বদ।
আমি এক দোকানের সাইনবোর্ড দেখে শিউর হলাম এটাই আলী পুর যেখানে আমি প্রথমেই এসেছি।৫মিনিটের পথই ছিল।নিজেকে অনেক বড় গাধা মনে হল।রিকশাওয়ালা আমার কথা শুনে কেন ওভাবে চেয়েছিল সব বুঝতে পারছি।
.
আমি রিকশা থেকে নেমে ইতির দিকে তাকালাম আর বললাম,
-এটা কেন করলেন?
-কি করলাম।
.
ইতি এমন ভাবে বলল মনে হল এ বিষয়ে ও কিছুই জানেনা।আমি একটু রেগেই বললাম,
-কি লাভ হল আপনার এটা করে!শুধু শুধু আমার সময় নষ্ট করলেন।
.
ইতি বলল,
-আপনার কথা কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা,
-ন্যাকামী করবেন না।আপনি আসলে একটা বদ মেয়ে।
.
আমার কথা শুনে ইতি হেসে ফেলল।ও হাসতেই হাসতেই বলল,
-কি করব বলেন নয়ন সাহেব? আপনার সাথে রিকশা ভ্রমনের এমন একটা সুযোগ নষ্ট করতে চাইনি।
.
আমার মেয়েটার কথা শুনে খুব রাগ লাগল।আমি হাঁটা শুরু করলাম।রিকশা ভারা না দিয়েই হাঁটতে লাগলাম, এটা এই বদ মেয়ের শাস্তি।
অল্প একটু হাঁটতেই ইতি পিছন থেকে বলল,
-নাক বরাবর হাঁটেন,মতি মাস্টার এর বাড়ি পেয়ে যাবেন। আর আমি রাতে ফোন দেব।
.
কোন রুপবতী মেয়ে এমন বদ হতে পারে ভাবিনি।আমি পিছনে না ঘুরেই হাঁটতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম ইতিকে মতি মাষ্টার এর বাড়ির কথা বলিনি ও কিভাবে জানল এটা??
.
.
দুই,
ইতির কথা মত নাক বরাবর কিছুদূর হেঁটেই ডান দিকে মতি মাষ্টার এর বাড়ি পাওয়া গেল।
আমি এতক্ষন বুঝে গেছি মতি মাষ্টার আমার বন্ধু ফারুকের(যার বিয়ে হচ্ছে) বাবা।
.
বাড়ির সামনে একটা বিশাল গেট সাজানো হয়েছে,বরের বাড়িতে কনে আমন্ত্রনের জন্য এত বড় গেট আমি আগে কখনো দেখিনি তাও আবার গ্রাম টাইপ এলাকায়।
.
বাড়িতে ঢোকার আগে গেটের কাছে দাড়িয়ে রাফি কে ফোন দিয়ে বাইরে ডেকে আনলাম। সরাসরি কারো বাড়িতে ঢোকা উচিত নয়।
রাফি বের হয়ে আসলে ওকে একটু রাগ হলাম।
রাফি জিজ্ঞেস করল, এত লেট হলাম কেন?
আমি জবাব দিলাম,এমনি।ইতির কথা ভুলেও বলা যাবেনা, বললে বিয়ে বাড়িতে এ নিয়ে মজা তো হবেই আবার ক্যাম্পাসেও হবে।
.
আমি আর রাফি বাড়িতে ঢুকলাম।বাড়িতে ঢুকে আমি অবাক, চারিদিকে এত মানুষ কেন? খুব চিল্লাচিল্লি হচ্ছে।গ্রামের কোন বাড়িতে বিয়ে হলে যা হয় আর কি?
আমি ভেবে পেলাম না এটা বরের বাড়ি নাকি বউ এর বাড়ি।
.
রাফির সাথে ফারুকের ঘরে গেলাম।সেখান কার অবস্থা যে খুব ভাল তা নয়।তবে হালকা কথা বলার উপযোগী জায়গা।
ফারুক আমাকে দেখতে পেয়েই বলল,
-তোর তো অনেক ফ্যান দেখি?
.
আমি হাসলাম। একটু পর আমি ফারুক কে জিজ্ঞেস করলাম,
-ভাবীর বাড়ি কতদূর?
.
ফারুক হাসতে হাসতে বলল,
-কাছেই,,গাড়িতে যেতে ঘন্টাখানেক সময় লাগে।
-ও আচ্ছা।তাহলে তো কাছেই।রোজ একবার করে যেতে পারবি।
-হুম
.
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,
-আমরা বের হব কখন?
-ঘন্টা খানেক পর।
.
আমি মনে মনে ভাবছিলাম রেস্ট নেওয়ার কথা। ঘন্টা খানেক যেহেতু আছে সেহেতু একটু আরাম করা যেতেই পারে।ইতির সাথে কথা বলে এমন মাথা ধরেছে যা বলার মত নয়। আমি এ বিষয়ে ফারুক কে বললাম,
-মাথা ব্যাথা করছে,বিশ্রামের জন্য অন্য কোন ফাকা ঘর পাওয়া যাবে কিনা?
.
ফারুক ব্যাবস্থা করল।আমি ভেবেছিলাম এ গ্যাঞ্জামের বিয়ে বাড়িতে হয়ত ফাকা কোন ঘর পাওয়া যাবেনা কিন্তু একটা ঘর পাওয়া গেল ওটা অবশ্য ফারুক দের বাসায় নয় ফারুকের ছোট চাচার বাসায়।
.
ফারুকের চাচার বাসা ফারুকদের বাসার পাশেই। ওই বাড়িতেও মানুষ অনেক কিন্তু একটা ঘর শুধুমাত্র বন্ধ করা, ওটাই আমার জন্য খোলা হল।ফারুকের চাচী আমাকে ঐ ঘরে নিয়ে গেলেন।
.
আমি ভেবেছিলাম, আমি যে লেখা লেখি করি এটা হয়ত এখান কার কেউ জানেনা।কিন্তু ফারুকের চাচী আমাকে অবাক করে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-তোমার লেখালেখি কেমন চলছে?
-ভাল।আপনি পড়েছেন আমার বই?
-হুম,,কিন্তু ওগুলো কম বয়সি ছেলে মেয়ের জন্য।সবি তো প্রেমের।
.
আমি ফারুকের চাচীর কথা শুনে লজ্জা পেলাম। আর কোন জবাব দিলাম না।চাচী আমাকে ঘর খুলে দিতে দিতে বলল,
-এটা আমার মেয়ের ঘর।ও তোমার বই পড়েছে,তোমার অনেক বড় ভক্ত।
-ও আচ্ছা।
-ওর ঘরে কাওকে ঢুকতে দেয়না কিন্তু তুমি থাকলে হয়ত রাগ করবেনা।
-ধন্যবাদ আপনাকে।
-আচ্ছা,,তুমি রেস্ট নাও।সবাই যাওয়ার আগে তোমাকে জাগিয়ে দেব।
-আচ্ছা আন্টি।
.
আমি ঘরে ঢুকলাম।সুন্দর ঘর,এই ঘরে কেন কাওকে ঢুকতে দেওয়া হয়না তা বোঝা গেল। ঘরটার গোছানোর ভংগী দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা কোন মেয়ের ঘর,কোন অংশে এলো মেলো নেই। সাধারনত মেয়েদের ঘরের টেবিলে শোভা পায় কোন ভালবাসার উপন্যাসের বই,,যেটা এই মেয়ের টেবিলেও শোভা পাচ্ছে। অদ্ভুত ব্যাপার টেবিলে যে দুটা উপন্যাসের বই আছে সেগুলো আমার লেখা বই।মনে মনে মেয়েটাকে ধন্যবাদ দিলাম।
.
আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। শুয়ে পরতেই চোখে প্রায় ঘুম চলেই এসেছে।
তখনি সামনের দেয়ালের দিকে আমার চোখ পড়ল।দেয়ালের দিকে তাকাতেই কিছুটা ধাক্কাই খেলাম,
একটা মেয়ের অনেক বড় ছবি টাঙানো। মেয়েটা পুরো ইতির মত দেখতে।তবে ছবির মেয়েটা ইতির চাইতে আরো একটু সুন্দর আর ফর্সা। এটা কি ইতি?
না, এটা ইতি হবে কি করে?
ইতির প্রতি আমি রাগ হয়ে আছি তাই হয়ত সব কিছুই ইতির মত লাগছে।আমি এসব চিন্তা বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
কতক্ষন ঘুমালাম,ঠিক বলতে পারব না।কিন্তু ঘুমানোর আগে বাড়িটাকে যে রকম অশান্ত মনে হয়েছিল ঘুম ভেঙে সেটাকে শান্ত মনে হল।সবাই কি চলে গেল নাকি?
.
আমি চোখ খুলে কঠিন রকম অবাক হলাম,আমার সামনে ইতি দাড়িয়ে, না ইতি না ছবির মেয়েটা। কিন্তু এটা ইতিই । তার মানে ছবির মেয়েটাই ইতি ছিল,,নিজেকে আরেক বার গাধা মনে হল।
.
আমি ইতির দিকে তাকালাম,শাড়ি পড়ে অপরুপ লাগছে মেয়েটাকে। কিছুটা মেক আপ করেছে তাই অসম্ভব সুন্দর লাগছে। এই মেয়েটা যদি আমার সাথে আগে ব্যাবহার খারাপ না কর‍ত তবে টুপ করে এই মেয়ের প্রেমে পড়ে যেতাম।
এই সব মেয়েদের প্রেমে পড়েও মজা।
.
আমি বিছানায় উঠে বসতেই ইতি বলল,
-ঘুম হয়েছে নয়ন সাহেব।
-হুম,কিন্তু আপনি এখানে কিভাবে?
প্রশ্নটা করে নিজেকে আবারো গাধা মনে হল।ঘরটা ওরই।
.
ইতি হাসতে হাসতে বলল,
-আপনি অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন আমি এ ঘরে কেন?
-হুম।
-উঠুন, ফ্রেস হয়ে নিন।
.
আমি বিছানা থেকে উঠে বললাম,
-ওয়াশ রুম টা কোথায়?
.
ইতি আমাকে দেখিয়ে দিল।আমি ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে এসে ইতিকে বললাম,
-আপনি আমার সাথে যেটা করেছেন সেটা ঠিক হয়নি,
-আচ্ছা,মাফ চাইছি।
.
আমি কিছু বললাম না,আমি ইতিকে জিজ্ঞেস করলাম,
-সবাই কোথায়?
-সবাই চলে গেছে।
-কোথায় গেছে?
-কণের বাড়ি তে।
-মানে,,আমরা কি করব তাহলে?
-আমরাও যাব,
-কিভাবে?
-রিকশায়,
-আবার আরেকবার,
.
ইতি আমার কথা শুনে হেসে ফেলল, ইতি হাসতে হাসতেই বলল,
-বদ মেয়ের সাথে আরেক বার রিকশা ভ্রমন আপনাকে করতেই হবে নয়ন সাহেব !
.
আমি কিছু বললাম না,ইতি আবার বলল,
-এছাড়া কোন উপায় ও আপনার কাছে নেই??
.
আমি বললাম,
-আচ্ছা,,প্লিজ এবার আর আগের মত ঘোরাঘুরি আর বিরক্ত করবেন না, তাহলে যাব।
.
ইতি কি যেন ভেবে বলল,
-আচ্ছা,,করব না।কিন্তু তার বদলে আমার ও একটা কথা রাখতে হবে।
-হুম,বলেন।
-আপনি আর আমাকে আপনি করে বলবেন না।আমি আপনার ছোট আমাকে তুমি করে বলবেন।
-আচ্ছা,,ইতি।তোমাকে তুমি করেই বলব।
.
ইতি আমার কথা শুনে খুশি হল।এই মেয়ের মনে কি চলছে আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। কম বয়সী মেয়েরা এমনিতেই ডেঞ্জারাস।
.
বাসার বাইরে একটা রিকশা দাড় করানো ছিল,রিকশা কে কিছু বলতে হলনা।আমরা উঠতেই রিকশা চলা শুরু হল।ইতি অতিরিক্ত আমার দিকে চেপে বসেছে,গায়ের সাথে গা লাগছে খুবই অসস্তি হচ্ছে,কিন্তু কিছুই বলতে পারছিলাম না।
.
কিছুক্ষন যেতেই ইতি বলল,
-আচ্ছা,আমাকে কেমন লাগছে?
.
আমি ইতির দিকে তাকালাম। মেয়েরা সেজে গুজে এসে যে কাওকে এ কথাটা জিজ্ঞেস করেনা।বিশেষ কোন মানুষকেই জিজ্ঞেস করে।এই মেয়ের বিশেষ মা.নুষটা কি আমি?
.
আমার চুপ করে থাকা দেখে ইতি আবার বলল,
-বলুন না কেমন লাগছে?
-অসম্ভব সুন্দর লাগছে,পুরো গল্পের নায়িকাদের মত,কিন্তু
-কিন্তু কি?
-বিয়ে বাড়িতে তো লাল শাড়ি পড়া উচিত ছিল,
-না,আপনার গল্পের নায়িকারা তো কালো শাড়ি পরে,তাই আমিও পরেছি।
.
আমি ইতির কথা শুনে অবাক হলাম।কি বলতে চাচ্ছে এই মেয়ে?
ও নিজেকে আমার গল্পের নায়িকা ভাবে?
.
-আচ্ছা,,আপনি প্রেম করেন?
ইতির কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম।সরাসরি এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি কখনো,
আমি বললাম্,
-না, তো কেন?
-এমনি জানতে ইচ্ছা হলো।
-ও আচ্ছা।শোন ইতি তুমি আমার বন্ধুর বোন, তোমার আমাকে নিয়ে চিন্তা করা উচিত না। ফারুক শুনলে কি ভাববে?
.
আমার কথা শুনে ইতির মুখটা গোমড়া হল,ইতি গোমরা মুখটা হাসি হাসি করে বলতে লাগল,
-আসলে আমি যে আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি, এটা সবাইকে বলে দিয়েছি।
-মানে কি?
-মানে ফারুক ভাই,রাফি ভাই সবাইকে।
.
ইতির কথা আমার মাথায় কিছুই ঢুকল না,আমি বললাম,
-তোমার কথা আমি কিছুই বুঝলাম না।
-মানে আগের বারের যে রিকশা ভ্রমন টা ছিল ওটা বানানো ছিল।
-কি বলছ এসব?রাফি জানত সব।
-হুম,,
.
আমি এরকম অবাক আগে কখনো হইনাই। অতঃপর আমার বন্ধুরাও ধোকা দিল।ইতি কে আমার আর মেঘের কথাটা বলা দরকার, মেয়েটা একটু বেশি ভাবছে।আমি বললাম,
-আসলে ইতি, আমি এক মেয়েকে ভালবাসি।
-কে সে?
-জানিনা,
-জানেন না,মানে কি?
-আসলে এফবিতেই পরিচয়।
-দেখেন নি?
-না,
-যদি দেখতে খারাপ হয়?
-অত কিছু দেখে তো আর ভালবাসা হয়না। পছন্দ তো মন করে।
-নাম টা কি সেই মেয়েটার?
.
আমি বলব নাম টা তার আগে ইতি বলল,
-মেঘ বালিকা।
.
আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম,ও কি করে জানে।আমি রাফিকে পর্যন্ত এ বিষয়ে বলিনি।
-তুমি কি করে জানলে?
-ভাবুন আপনি, আমি কি করে জানলাম?
.
আমার তখনি মেঘ বালিকার কথা মনে পড়ল,ও বলেছিল যে কোন ভাবে আজ আমাদের দেখা হবে। আর দেখা হয়েও গেল শুধু দেখা না,রিকশা ভ্রমন ও হয়েছে।
.
আমি ইতির দিকে তাকিয়ে বললাম,
-তুমি কি?
-হুম আমি,তোমাকে চেক করলাম।দেখলাম ইতির প্রেমে পড় কিনা।
-হুম, ইতির প্রেমে পড়েছি,,
-এখন তো পড়েছে,,আগে পড়লে নাক ফাটাতাম,
.
আমি ইতির কথায় হাসলাম,ইতিও আমার সাথে যোগ দিল।আমি ইতির হাত টা ধরলাম,ইতি ছাড়ানোর চেষ্টা করল না।এখন আগের চেয়ে বেশি গায়ে গা লাগছে কিন্তু অসস্তি হচ্ছে না,বরং ভাল লাগছে।
.
কিছুক্ষন বাদে কনের বাড়ি এসে গেল।কেন যে এত তাড়াতাড়ি পৌছালাম।রিকশাওয়ালার প্রতি রাগ উঠছে আরেকটু আস্তে আস্তে আসলে কি হত।রিকশা থামতেই ইতি আমাকে বলল,
-নামো,
.
আমি নরলাম না রিকশা থেকে।ও আবার বললা,
-কি হল,নামবা না?
-না,বদ মেয়ের সাথে আরো কিছুক্ষন রিকশা ভ্রমন করার ইচ্ছা হচ্ছে।
.
ইতি আমার কথায় হাসল।ও নিজে রিকশা থেকে নেমে বলল।
-বদ মেয়েকে এত ভাল লাগল?
-হুম,
-এখন আসো,,যাওয়ার সময় আরেকবার রিকশা ভ্রমন হবে।ভেতরে সবাই অপেক্ষা করতেছে,আম্মুও আছে।
-হুম।
.
আমি নিরস মুখে নামলাম রিকশা থেকে।ইতি আমার হাত টা ধরল। আমরা দুজনে ভেতরে ঢুকতে লাগলাম।
.
.
তিন,
বিয়ে বাড়িতে ঢুকে সর্ব প্রথম দেখা হল ইতির মায়ের সঙ্গে। ওনাকে দেখা মাত্রই আমি ইতির হাত ছেড়ে দিলাম,তবুও মনে হল মহিলা আমাদের হাত ধরা অবস্থায় দেখে ফেলেছেন। ব্যাপার টা ভাবতেই খুব লজ্জা লাগল আমার, উনি কি না কি ভাববেন? আমি ইতির দিকে তাকালাম, ওকে দেখে স্বাভাবিক মনে হল যেন কিছুই হয়নি।
.
আমি নিজের মন কে শান্ত করার চেষ্টা করলাম, আর বোঝাতে লাগলাম যে কিছুই হয়নি,ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই,উনি কিছুই দেখেন নি। মন হালকা বুঝলেও সন্দেহ থেকে গেল !
.
সন্দেহ দূর হল ইতির মায়ের কথায়, এখন ওনার কথা শুনে মনে হচ্ছে সত্যি উনি কিছুই দেখেন নি। মহিলাকে যত টা ভাল ভেবেছি তার চাইতেও বেশি ভাল উনি।আমার শাশুড়ি হওয়ার জন্য পারফেক্ট।আমাদের দেখা মাত্রই উনি এগিয়ে এসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
-ঘুম হয়েছে বাবা?
-জি আন্টি,,
-তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই ডাকিনি।আসতে সমস্যা হয়নি তো?
-না না কোন সমস্যা হয়নি।
.
আমার কথা শুনে ইতির দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগ হয়েই বললেন,
-এতক্ষন কেন লাগলো?
.
ইতিও ওর মায়ের মতই কঠিন গলায় বলল,
-লেখক সাহেব ঘুময়েছিলেন অনেক ক্ষন,, তাই দেরী হয়েছে।
.
ইতির মা ইতির দিকে চোখ গরম করে তাকাল।উনি আরো কিছু বলতে চাচ্ছিলেন তার আগেই আমি বললাম,
-অন্য সবাই কোথায় আন্টি?
-সামনের দিকে।যাও তোমরা, গিয়ে দেখা কর।
.
আমি আর ইতি সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম।অল্প একটু দূরেই বরের জন্য প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে, গ্রামের বিয়ে হলেও দারূন আয়োজন করা হয়েছে। অনেক জায়গা জুড়ে বিয়ে বাড়ির প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে।
.
বর বসার প্যান্ডেলের কাছে যেতেই, মিতু এগিয়ে এসে ইতি কে নিয়ে নতুন ভাবী দেখতে চলে গেল। ইতি আমাকে কিছু না বলেই মিতুর হাত ধরে চলে গেল। নিজেকে বড় একা মনে হল,যদিও আমার দুজন বন্ধু আমার পাশেই আছে।
.
আমি ফারুক আর রাফির কাছে বসে কিছুক্ষন কথা বললাম,কিন্তু তবুও কেন জানি ভাল লাগলো না।ইতি মাত্র পাচ মিনিট হয় গেছে,এত খারাপ লাগার কি আছে বুঝলাম না।
ওকে দেখার জন্য মনটা বড়ই উতলা হল।কিন্তু ওকে দেখার কোন বুদ্ধি ও নাই আমার কাছে, কারণ কনে দেখার জন্য কোন ছেলেকে কণের ঘরে ঢুকতে দিবেনা।
.
তবে একটা বুদ্ধি আছে,ওটাতেই কাজ করতে হবে।ওকে ডেকে আনতে হবে, কিন্তু পাঠাব কাকে, কাওকেই চিনিনা এখানে। এক মিতুকে চিনতাম কিন্তু ও নেই।তবে উপায় বের করতে খুব একটা সময় লাগল না।
.
আমাদের বর বসার প্যান্ডেলের সামনে একটা বাচ্চা মেয়ে ঘুর ঘুর করছে,ওকে দিয়ে কাজ হতে পারে।আমি ডাকলাম মেয়েটাকে,
-আপু শোন তো,
.
মেয়েটা কাছে আসলোনা,কণের বাড়ির কেউ তাই লজ্জা পাচ্ছে। আমি নিজেই মেয়েটার কাছে গেলাম,গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
-তোমার নাম কি?
-কাজল,
-তুমি বউয়ের কি হও?
-আন্টি,,,
-ও আচ্ছা,,একটা কাজ করবে আমার?
-বলেন?
-তুমি কণের ঘরে গিয়ে আমার জন্য একজনকে ডেকে আনতে পারবে।
-কাকে?
-আমার বউ,,দেখবে যে কালো শাড়ি পড়া সুন্দর একটা মেয়ে, ঠিক তোমার মত।
.
আমার কথা শুনে মেয়েটা কিছুটা লজ্জা পেল।দশ বছরের মেয়েও লজ্জা পায়,জানা ছিলনা।
আমি আবার বললাম,
-ওর কানে কানে গিয়ে বলবে যে ওর হ্যাসবেন্ড ওকে ডাকছে,, পারবে বলতে?
-হুম,
.
এটুকুই বলে মেয়েটা দৌড় লাগালো।আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম ইতির আসার।ইতি আসল প্রায় দশ মিনিট পর।
মুখে যথেষ্ট রাগী রাগী ভাব।ও আসতেই আমি বললাম,
-সেই কখন আসতে বলছি,আর তুমি কেবল এলে?
.
ইতি আমার কথার জবাব না দিয়েই আমাকেই উল্টা প্রশ্ন করে বলল,
-তুমি ওই বাচ্চা মেয়েটাকে কি বলে পাঠিয়েছিল?
-কেন?কিছু হয়েছে নাকি?
-যেটা বলছি সেটার উত্তর দাও?
-বলছি কালো শাড়ি পড়া সুন্দরী একটা মেয়ে আছে তাকে ডাকতে।
-আর কিছু বলনি?
-নাতো,,
-তুমি নাকি বলেছ,তোমার বউকে ডাকতে !
-হুম,,হবেই তো একদিন।আমি তো ওকে তোমার কানে কানে গিয়ে বলে আসতে বলেছিলাম। তাতে এত রাগার কি আছে?
.
ইতি একটু চোখ চোখ বড় বড় করেই বলল,
-ওই মেয়ে কানে কানে নয়,চিৎকার করে বলেছে যে আমার হ্যাসবেন্ড আমাকে ডাকতেছে।
-তারপর ! আমার কথা বলেছে নাকি?
-না তোমার কথা নয়,বলেছে এক চশমা পড়া ছেলে।
-তাহলে তো ঠিক আছে।অনেকেই চশমা পড়ে,,
-কিচ্ছু ঠিক নাই।
ইতি আমার হাত ধরে চারদিকে ঘুরিয়ে বলল,
-একটা ছেলে বের কর যে চশমা পড়ে আছে তুমি ছাড়া?
.
আমি চারদিকে ভাল করে খুঁজলাম,কি আশ্চর্য ব্যাপার চশমা পরা একজন কেও খুজে পেলাম না।অবশ্য বিয়ে বাড়িতে খুব একটা আসেনা কেউ চশমা পড়ে।যারা আমার মত অন্ধ, তারাই শুধু মাত্র সব খানে চশমা পড়ে যায়।
.
ইতি আবার বলল,
-সবাই এখন খুঁজতে আসবে চশমা কে পড়ে আছে?
-তাহলে কি করব?চশমা খুলে রাখব।
-চশমা খুললে তো আবার তুমি অন্ধ,, চলবা কি ভাবে?
-হুম তাও ঠিক।তোমার হাত ধরে ধরে চলব।
.
আমি ভেবেছিলাম ইতি আমার কথা শুনে হাসবে,কিন্তু না। ও ধমক দিয়ে বলল,
-ইয়ার্কি কইরো না তো,মেজাজ খারাপ।
-আচ্ছা,আর করব না।
.
আমি আর কিছু বললাম না। আমি চশমা খুলে,চুপচাপ গিয়ে রাফির পাশে বসে পড়লাম। ইতির উপর কিছুটা রাগ উঠল ! মনে মনে সংকল্প করলাম ও যতক্ষন না আমার কাছে এসে ওর ব্যাবহারের জন্য অনুশোচনা করবে, ততক্ষন আর কথা বলব না ওর সাথে।
.
আমি ভেবেছিলাম ইতি অল্প সময়ের মধ্যই আসবে কিন্তু না, ও এলো আধা ঘন্টা পর।এসেও আমার সাথে কোন কথা বলল না।আমি মোবাইলে গেম খেলছিলাম যদিও আড় চোখে ওর দিকে দেখছিলাম,দেখছিলাম ও কি করে?
ও সবার সাথে কথা বলে এসে আমার পাশের চেয়ারে বসল, বসেই আমার হাত থেকে মোবাইল টা কেড়ে নিয়ে বলতে লাগল,
-দেখি কত গুলা মেয়ের সাথে চ্যাট কর?
.
যদি আমার ইনবক্স দেখে ফেলে ইতি তবে আমাদের প্রেমের ইতি এখানেই আর এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত।কারণ অনেক মেয়েই ম্যাসেজ দেয়,তাদের রিপ্লাই দেয়া আমার ভদ্রতার পর্যায়ে পরে। আমি ইতিকে বললাম,
-প্লিজ মোবাইল দাও?
-না,
-প্লিজ দাও,,
-এক শর্তে দেব,,
-কি?
-রাগ করে থাকবানা,কথা বলবা আমার সাথে ভালভাবে,,
-আচ্ছা,,
.
ইতি আমার হাতে মোবাইল টা দিতে দিতে বলল,
-এই নাও মোবাইল,,,তবে অন্যদিন চেক করব।তোমাকে খুব একটা সুবিধার মনে হল না।
.
আমি মোবাইল হাতে নিয়ে সস্তি পেলাম,ইনবক্স চেক করলে কি হত কে জানে?
.
ইতিকে কেমন যেন বিমর্ষ লাগছে,,আমি ইতিকে জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হয়েছে,এমন লাগছে কেন তোমাকে?
-না কিছুনা।
-বল না প্লিজ,
-আম্মু রাগ হইছে আর তোমার সাথে কথা কম বলতে বলছে.
-কেন?
-তখন কার ব্যাপার টা নিয়ে।
-এখন আন্টি কই,
-ভেতরে আছে,তাই আসলাম।
-ও আচ্ছা।সমস্যা নাই ব্যাবস্থা করে ফেলব।
-কি করবা,
-পরে জানতে পারবা।তুমি এখন ভিতরে যাও,নয়ত আবার তোমার আম্মু কি না কি ভাববে?
.
ইতি আর কিছু বলল না,আমার পাশ থেকে উঠে চলে গেল।আমার মনে হল আমার কারণে ইতির বিয়ের মজাটাই নষ্ট হয়ে গেল।
.
ফারুকের শালি দের সাথে আমরা বন্ধু রা ভালই মজা করলাম। ওরা জুতা চুরি করতে এসেছিল বাট পারেনি কারণ এসবের পাহাড়ায় রাফি আছে,ও ভাল পাহাড়াদার।
বিয়ে বাড়িতে সব ঠিক ঠাক থাকলেও আমার সাথে কেন জানি কিছুই ঠিক ঠাক হচ্ছিল না।প্রথমে ওই বাচ্চা মেয়েটার ভুল।ইতির মা আমার সমন্ধে কি ভেবেছে কে জানে।
.
ইতি আবার আসল বিশ মিনিট পর,ওর আম্মু ভেতরে সেই রকম ভাবে গল্প করছেন বাইরে আসার খুব একটা সম্ভাবনা নেই তাই ও দেখা করার জন্য চলে এসেছে।
ভাল সময়েই এসেছে, একটু আগেই ফারুকের শালি দের দিয়ে জায়গাটা ভরা ছিল।এখন ফাঁকা,আমি অবশ্য সবার থেকে দূরে বসেছি, বেশি গ্যাঞ্জাম ভাল লাগেনা।
.
রাফি আর ফারুক সেই তখন থেকেই আমাদের দিকে লক্ষ্য করছে,ওরা হয়ত ভেবে পাচ্ছেনা এই বদ মেয়ের সাথে এত তাড়াতড়ি আমার এত ভাল সমর্পক কি ভাবে হল কারণ আমি মেয়েদের যথেষ্ট এড়িয়ে চলি কিন্তু ইতির সাথে একদিনের পরিচিয়ে কি ভাবে???
.
ইতি আর আমি ওদের অবাক হওয়া দেখে হাসছিলাম।তখনি বিপত্তি ঘটল,তিনটা মেয়ে সোজা এসে আমাদের সামনে দাড়াল। সব গুলোই সুন্দরী !
তাদের মধ্য সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটা আমাকে বলল,
-আপনি কি লেখক নয়ন?
.
আমি ইতির দিকে তাকালাম।
ভাবলাম না বলি কিন্তু তার আগেই ইতি বললল,
-হুম,ইনি।
.
সামনে দাড়ানো মেয়েটা আবার বলে উঠল,
-ও মাই গড,আমার বিলিভ ই হচ্ছেনা যে আপনি আমার সামনে বসে আছেন।
.
আমি কিছু বলব তার আগে ইতি আবার বলে উঠল,
-হুম,সত্যি ইনি লেখক…….
.
সামনের মেয়েটা ওর হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-আমি রিনি।যার বিয়ে হচ্ছে আমি তার খালাত বোন,আর আপনার বিশাল বড় ফ্যান।
.
আমি হাত বাড়াতে চাইছিলাম না কারণ এটার রিয়্যাকশন পরে ইতি ঠিকই দিবে।তবুও ভদ্রতার খাতিরে হাত বাড়ালাম।সেটা দেখে ইতি আমার পাশ থেকে উঠে গেল, গিয়ে একটু দূরে বসে আমাকে দেখতে লাগল।ইতি উঠতেই রিনি টুপ করে ইতির জায়গায় বসে পড়ল।
.
আমার ইতিকে নিয়ে টেনশন হচ্ছিল,পরে কি করবে আমাকে কে জানে?
চেয়ার থেকে উঠব বাট উঠতেও পারছিনা,রিনি বলেই যাচ্ছে।আমি হু হা মেলাচ্ছি।কিছুক্ষন বাদে রিনি বলেই উঠল,
-ভাইয়া,আপনার মোবাইল নাম্বার পাওয়া যাবে,
-না আপু,,আমি মোবাইল ইউজ করিনা।
-কি বলতেছেন?
-হুম,,মোবাইল থাকলে অনেকে ডিস্ট্রাব করে তো,,
-ও আচ্ছা।
.
আমি রাফিকে ডাক দিলাম।ও যথেষ্ট চাটুবাজ,মেয়ে দেখলেই তাকে পটানোর চেষ্টা করে। আমি রিনিকে বললাম,
-এ আমার ফ্রেন্ড হয়,,এর সাথেই আমি থাকি।আপনি এর নাম্বার নিন।
.
এটুকুই বলে আমি ওখান থেকে উঠে ইতির কাছে আসলাম।আমি ইতির পাশে বসতেই ইতি বলল,
-এখানে কেন আসলা?
-কেন,তোমার কাছে আসবনা।
-ওই মেয়েটা কে?
-চিনিনা তো,
-তোমার নাম্বার চাইল কেন?
-মেয়েরা আমাকে একটু বেশি পছন্দ করে তাই চাইছে,
-পছন্দ করে কেন?
-এখন পছন্দ করলে আমি কি করব বল?
-যাও ওই সব মেয়েদের কাছেই যাও,,
-তুমি বাচ্চা দের মত করতেছ ইতি,,
.
আমি ইতির চোখের দিকে তাকালাম,মনে হচ্ছে এখনি ও কাঁদবে,আমি বুঝলাম না এখানে কাঁদার কি আছে?
.
আমি ইতির হাত টা ধরলাম। এখানে অনেকেই আছে, তাই আমি ওর হাত ধরে একটু দূরে নিয়ে আসলাম।এদিক টা অন্ধকার খুব একটা কেউ আসেনা তাই আমি ইতির হাত ধরা অবস্থাতেই ছিলাম।কিন্তু একটু দূরেই যে ইতির মা দাড়িয়ে ছিল সেটা লক্ষ্য করিনি।সোজা ওনার সামনেই পড়লাম,হাত ছাড়ার মত টাইম ও পেলাম না।উনি কিছুই বললেন না,শুধু ইতিকে ডাকলেন, ইতির ওনার কাছে যেতেই উনি ইতির হাত ধরে বিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।
.
তারপর আর ইতি আসলো না বিয়ে হওয়া পর্যন্ত।দেখা হল একেবারে খাওয়ার সময়। বর বউ আর আমরা ফ্রেন্ড সার্কেল সবাই এক সাথেই খাওয়ার জন্য বসলাম।
.
আমি অন্য টেবিলে বসলাম,ইতি অন্য টেবিলে। ওর খাওয়া শেষ হতেই ও উঠল, আমি এ সময় টারই অপেক্ষা করছিলাম।আমি ও সাথে সাথে খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলাম।বেসিনের কাছে গিয়ে ওর সাথে দুই লাইন কথা হল আমার। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-তোমার আম্মু কিছু বলেছে?
-না,বাসায় গিয়ে বলবে।
.
তারপর আর কথা হয়নি।আসার সময় ইতি আর ওর মা অন্য গাড়িতে উঠল আর আমি অন্য গাড়িতে।ফারুকের বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হল। ফারুকের বাসায় গিয়ে সবাই নতুন বউ কে আমন্ত্রন করতে ব্যাস্ত হল,,কিন্ত চারদিকে খুজেও ইতি বা ইতির মা কাওকেই দেখতে পেলাম না আমি।ইতির জন্য খুব টেনশন হচ্ছিল।কে জানে কি অবস্থায় আছে মেয়েটা?
ওর মা কিছু বলল নাকি?
.
মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম যে ইতির বাড়ি যাব, ইতির মায়ের সাথে কথা বলা দরকার।
.
আমি একাই ইতির বাড়িতে গেলাম,পুরো বাড়ি অন্ধকার, শুধু একটা ঘরে আলো জলতেছে।
জানিনা ও ঘরে কি হচ্ছে?
ইতিকে কি ওর মা কিছু বলেছে, এগুলোই চিন্তা ঘুরপাক করছিলো মাথায়।
আমি ঘরের সামনে যেতেই ইতিকে দেখলাম,ও দরজার কাছেই দাড়িয়ে ছিল, ও আমাকে দেখেই ওর মাকে জানাল।ওর মা কি বলল সেটা জানা গেল না।
.
ইতি আমাকে ইশারায় ঘরের ভিতর ডাকল।
..
আমি ঘরের ভেতর ঢুকতেই ইতি বেরিয়ে গেল,মনে হল ঘরে চলে গেল।আমি ইতির বাবাকে সালাম দিলাম,ওনার সাথে শুধু সকালে একবার দেখা হয়েছিল।
..
ইতির মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
-কিছু বলবে বাবা?
-জি আন্টি,,
-আচ্ছা,,বল।
-আসলে আন্টি কথা টা যে কিভাবে বলি।
-ইতির বিষয়ে কিছু বলবে।
-হুম,,মানে আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।
..
আমার কথা শুনে মহিলা একটুও অবাক হলেন না।তিনি এরকম কিছুই আশা করছিলেন।
আমি আবার বললাম,
-আপনারা রাজি থাকলে আমার মা এসে আপনাদের সাথে কথা বলবে এই বিষয়ে,,
-আচ্ছা,,তুমি যাও। কাল সকালে তোমাকে জানাব আমাদের সিদ্ধান্ত।
-আচ্ছা
..
আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম,আমি ভেবেছিলাম ইতি ওর ঘরে চলে গেছে কিন্তু ইতি দরজার পাশে দাড়িয়ে থেকে আমাদের কথা শুনছিল।
..
আমি ইতির দিকে তাকালাম কিন্তু কিছুই বললাম না,সোজা চলে আসলাম।
জানিনা ইতির মা কি বলবে কাল?
.
ইতি দের বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখি ফারুকের বাড়ি পুরো ঠান্ডা। শুধু উঠানে ফারুক আর রাফি দাড়িয়ে আছে।আমাকে দেখতেই রাফি জিজ্ঞেস করল,
-কোথায় গিয়েছিলি?
.
আমি কোন জবাব দিলাম না।ওদের কাছে গিয়ে ফারুকের ঘাড়ে হাত রেখে ওকে বললাম,
-কিরে ঘরে যা,,
.
ফারুক কিছু বললনা,তাই দেখে রাফি বলল,
-বেচারা ভয় পাইছে,তাই ঘরে যাইতেও পারতেছেনা !
.
আমি রাফির কথা শুনে হাসলাম।
ফারুক যে সত্যি ভয়ে আছে,সেটা ওর কপাল দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কপাল থেকে দরদর করে ঘাম পরতেছে।তাই দেখে আমি ফারুককে বললাম,
-টেনশন নিস না,,যা করার তোর বউ ই সব করবে।
.
আমার কথা শুনে ফারুক কিছুটা সস্তি পেল।ফারুক কে আমি আর রাফি ওর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসলাম।
.
ফারুক কে ওর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে, আমাদের শোয়ার জন্য ব্যাবস্থা করা ঘরে ঢুকতে ঢুকতে প্রায় রাত দুটা বেজে গেল। তারপর রাফি আর আমি দুটা সিগারেট ধরলাম, যদিও আমার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছিল,তবুও সিগারেট ধরালাম। যদি টেনশন কিছুটা কম হয়।
মাথা ব্যাথার কারণ ইতির মা,, কাল কি না কি বলবে কে জানে?
.
বিছানায় শুয়ে আছি অনেক ক্ষন,এপাশ ওপাশ করে ঘুমানোর এত চেষ্টা করলাম তবুও ঘুম এলো না চোখে।চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলাম, চোখ খুলে দেখি রাফি ঘুমিয়ে পরেছে।
রাফির ব্যাপার টাই ভাল, শোয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পরে।
.
ঘুম কখন ধরল ঠিক জানিনা। তবে ফজরের আযান যে কানে এসেছিল, এটা মনে আছে। তারমানে ৫টার ও পরে।
.
.
চার,,
অনেকক্ষন ধরে যে ঘুমিয়ে আছি এটা বুঝলাম কিন্তু কতক্ষন এটা জানিনা।
.
“ঘুম ভাংলো চুড়ির শব্দে”” মনে হল অনেক ক্ষন ধরেই এটা কানের কাছে বাজছে।
চোখ খুলে কিছুটা না অনেক টা অবাক হলাম।চশমা ছাড়া যদিও খুব একটা ভাল দেখিনা তবুও আমার ঘরে কে কে আছে এটা ঠিকই দেখতে পেলাম।
.
চোখ খুলতে প্রথমেই কানে আসল,
-আমি জিতেছি।
.
কে জিতেছে,কি জিতেছে?
সেট জানার জন্য আমি তাড়াতাড়ি চশমা পড়লাম।
মিতু আমার মাথার কাছেই বসে ছিল ওকে দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই!
অবাক হলাম ফারুকের বউ আর ইতিকে দেখে।
এরা আমার এখানে কেন?
বিছানায় উঠে বসতেই, মিতু আমার মাথায় একটা টালা দিয়ে বলল,
-তোর ঘুম ভাঙেনা কেন?
.
এটুকু বলে মিতু ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ফারুকের বউ আমার কাছে এসে আমাকে ধন্যবাদ দিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-কিসের জন্য।
.
উনি যেটা বললেন,তা হল-
তিন জন মিলে বাজি ধরেছিল আমার ঘুম ভাঙানো নিয়ে।যার চুড়ির শব্দে ঘুম ভাঙবে সেই জিতবে,এতে ভাবী জিতে গেছে।
.
আমি হা হয়েই কথা গুলো শুনলাম,আর বললাম,
-এটা কি ধরনের বাজি?
.
ভাবী আর কিছু বললনা এ বিষয়ে,, উনি আমার জন্য চা আনতে চলে গেল।
.
ইতি বসে ছিল আমার পায়ের কাছে।আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম,
-তুমিও বাজি খেলেছিলে?
.
ও গোমরা মুখেই উত্তর দিল,
-হুম,,
-তুমি উদ্দোক্তা?
-হুম,,
-কেন করলে এটা?
-ভাবলাম আমার ভালবাসার একটা পরিক্ষা হোক?
-কি পরীক্ষা,,
-যদি তুমি আমাকে ভালবাসতে তবে আমার চুড়ির শব্দে উঠতে,,
.
আমি বিছানা থেকে নামতে নামতে বললাম,
-ও আচ্ছ।

ইতি একটু রেগেই বলল,
-ও আচ্ছা কি?
তুমি কি সত্যিই আমাকে ভালবাস?
.
আমি ওর প্রশ্ন টা শুনে অবাক হলাম।ওকে ভাল না বাসলে কাল ওর মাকে গিয়ে ওর সাথে আমার বিয়ের প্রস্তাব দিতাম নাকি।
-হুম,ভালবাসি এটা বলার কিছু আছে।ভাল না বাসলে তোমাকে বিয়ে করতে চাইতাম।
.
ইতি বিছানা থেকে উঠে এসে আমার পাশে এসে বলল,
-তাহলে উঠলে না কেন?
.
কি বলব এর উত্তরে ভেবে পেলাম না,,,,কোন ভাবে ওকে বোঝাতে হবে,, নয়ত আবার আরেকটা ঝামেলা।
.
আমি বললাম,
-তুমি চুড়ি কম পড়েছিলে তাই ঘুম ভাঙেনি!!
-না,,সবাই সমান ১০ টা করে চুড়ি পড়েছিলাম।
-ও আচ্ছা,,তুমি কখন ডেকেছ?
-সবার প্রথমে,,
-ভাবী কখন?
-শেষে,,,
-স্বাভাবিক ব্যাপার,,,তোমার আর মিতুর চুড়ির আওয়াজ এ অল্প অল্প ঘুম ভেঙেছিল,ভাবীর আওয়াজ এ পুরোটা,,, তুমি যদি শেষে ডাকতে তবে তোমার চুড়ির আওয়াজেও আমার ঘুম ভাঙত।
.
ইতি আমার কথা কি বুঝল কে জানে শুধু বলল,
-হুম,
.
আমি আবার বললাম,
-কত হেরেছ?
-একশ,
-আচ্ছা,,আমি দিয়ে দিব।এখন বল তুমি কেন এখানে?
.
আমার প্রশ্ন টা শুনে ইতির এতক্ষনের গোমরা মুখ হাসি হাসি হল।ও উচ্ছাসিত গলায় বলল,
-তোমার আম্মু এসেছে?
.
ইতির কথাটা শুনে আমার মাথায় বাজ পরল।আম্মু এখানে কেন?
আম্মু জানে আমি ভাল ছেলে !
এখন কি হবে,,,ইতির মা যদি আমার আর ইতির হাত ধরার কথা বলে দেয় !
ভাবতেই কেমন লাগতেছে !
.
আমি ইতিকে জিজ্ঞেস করলাম,
-আম্মু এসেছে মানে কি?
-আম্মু মানে আম্মু,,এসেছে মানে এসেছে!
-কখন, কিভাবে আর এখন কোথায়?
-একটু আগে,,,জানিনা কিভাবে,,,এখন আমাদের ঘরে আমার আম্মুর সাথে কথা বলতেছে।
-কে ডাকছে,
-আম্মু ডাকছে,,
-কিভাবে,,
-রাফি ভাইয়ার কাছে নাম্বার ছিল,,,,
.
আমি আর কিছু বললাম না,
রাফির উপর খুব রাগ উঠতেছে, হাতের কাছে পাইলে যে কি করতাম?
রাগ ইতির মায়ের উপরেও উঠতেছে কিন্ত হবু শাশুড়ি তাই ওনার ব্যাপার আলাদা।
.
আমার চুপ করে থাকা দেখে ইতি বলল,
-তুমি চুপ করে আছ কেন?
যাও ফ্রেশ হও,তোমার আম্মু ডাকে,,,
-আমার আম্মু তোমাকে দেখছে,,
-না এখনো দেখেনি,,
-আচ্ছা,,যাও সুন্দর করে শাড়ি পড়ে রেডি হও,,,
-আচ্ছা,,
-অবশ্য শাড়ি না পড়লেও তোমাকে অপছন্দ করার কিছু নেই,,তবুও পড়।আম্মু খুশি হবে।
.
ইতি আমার কথায় কিছুট লজ্জা পেল মনে হয়।ও আচ্ছা বলে চলে গেল।
.
ইতি ঘর থেকে চলে যেতেই ফারুক আর রাফি ঘরে ঢুকল। আমি রাফিকে বললাম,
-তুই এটা কেন করলি?
.
আমার কথা শুনে ওরা দুজন হাসি শুরু করল,মনে হল আমি কোন জোক্স বলেছি।
-হাসি বন্ধ কর, আর কথার জবাব দে?
.
রাফি ওর হাসি বন্ধ করে বলতে লাগল,
-সরি দোস্ত,,ভাবলাম দুই বন্ধুর বিয়ে এক সাথেই খাই,,তাই আন্টিকে ফোন দিয়া ডাকলাম।
-ভাল করছিস।
.
ততক্ষনে ফারুকের বউ চা নিয়ে এল।আমি চা খেয়ে ফ্রেশ হলাম। তারপর বের হলাম ঘর থেকে। রাফি কে সাথে নিলাম,খুব ভয় লাগতেছিল না জানি আম্মু কি বলবে।
.
ইতিদের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ইতির বাবার সাথে দেখা হল।তার হাতে বাজারের ব্যাগ। সম্ভবত বাজার করে আসলেন।আমি ওনাকে সালাম দিলাম,উনি আমাকে ঘরে যেতে বললেন।
আমি গিয়ে ইতিদের ড্রইং রুমে ঢুকলাম, ঘরে আম্মুকে দেখলাম না।আসলে কাওকেই দেখলাম না ওই ঘরে।আমি আর রাফি দুজনেই সোফায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
.
আম্মু ঘরে ঢুকল মিনিট পাঁচেক পর,আম্মুর সাথে ইতিও, ইতির হাত ধরে আছে আম্মু।ইতি শাড়ি পরে আছে,শাড়ির রং সবুজ।গায়ে কোন গহনা নেই, মেকাপ ও নেই মুখে,দারুন লাগছে ওকে।
.
আমি আম্মুকে দেখতেই উঠে দাড়ালাম।আম্মু আমাকে বসতে বলে, আমার পাশে এসে বসল।
আম্মুর এক পাশে ইতি আর অন্য পাশে আমি বসে আছি।আম্মুর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ইতিকে ওনার পছন্দ হয়েছে।আর আগেও বলেছি ইতিকে অপছন্দ হওয়ার কোন কারণ নাই।
.
কিছুক্ষন পরেই ইতির মা ঘরে ঢুকল,ওনার সাথে ইতির বাবা, আর মতি মাষ্টার।
.
ওরা আসতেই আম্মু বলল,
-তাহলে শুভ কাজটা সেরে ফেলি।
.
ইতির বাবা বলল,
-জী বেয়ান সাহেব।
.
আম্মু আমাদের মাঝখান থেকে উঠে গিয়ে, ওনার ব্যাগ থেকে একটা আংটির বাক্স বের করল। সেটা খুলে আংটি টা হাতে নিলেন সেটা আমার হাতে দিয়ে উনি অন্য খানে বসলেন। আর আমাকে আংটি পড়াতে বললেন,
আমি দেরী করলাম না।ইতি হাত এগিয়ে দিতেই আমি ওর হাত ধরে ওর হাতের আনামিকা তে আংটি টা পড়িয়ে দিলাম।
.
আমি আংটি পড়ানোর সময় ইতির দিকে তাকালাম না,,আমার নিজেরই লজ্জা করছিল। সবাই যখন আমাদের দুজন কে ঘরে একা রেখে চলে গেল,তখনি ইতির দিকে তাকালাম, তাকাতেই ও বলল,
-আচ্ছা, তোমাদের বাসা এখান থেকে কত দুরে?
-বেশি না,,বাসে যেতে ঘন্টা দুয়েক লাগে!!
-রিকশায় যাওয়া যাবেনা?
-যাবেতো কেন?
-আচ্ছা,,বিয়ের পর তোমাদের বাসা রিকশাতেই যাব।
-আচ্ছা,,আগের বার বদ মেয়ের সাথে রিকশা ভ্রমন করেছি, এবার বদ বউয়ের সাথে রিকশা ভ্রমন করব।
.
এটুকু বলেই আমি হেসে উঠলাম,ইতি রাগ হয়ে বলল,
-কি আমি বদ?
যাও এই বিয়ে ক্যান্সেল।
-আচ্ছা,ক্যান্সেল।
-না না,,এবারের মত মাফ করলাম তোমাকে।
-আচ্ছা,মাফ করার জন্য ধন্যবাদ।
.
আমার কথা শেষ হতেই আবার দুজনেই হাসা শুরু করলাম।
.
.
বি.দ্র: গল্প টা অনেক আগের,তবে আমার খুব প্রিয়। গল্পের সাথে বাস্তবের কোন মিল নাই।
বিশাল বড় গল্প।
গল্প পড়ে কারো সময় লস হলে সর‍্যি। আর ভাল লাগলে জানাবেন। ধন্যবাদ।
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
free download udemy course
download karbonn firmware
Download Nulled WordPress Themes
udemy paid course free download
Share:

There are 2 comments on বদ মেয়ের সাথে রিকশা ভ্রমন

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.