ফ্রেম

ঘুম ভাঙতেই ঘরের দেয়ালের দিকে তাকালাম, তাকাতেই মনে একটু স্বস্তি এলো।
-নাহ, সব স্বপ্নই ছিল।বেঁচে গেছি এ যাত্রায়। ওয়াল থেকে আজকেই অবনীর সব গুলো ছবি নামিয়ে ফেলতে হবে”।
নয়ত কোন এক দিন স্বপ্নের মত কিছু একটা হয়ে গেলে বেশ বিপদেই পড়তে হবে।
.
আজকের স্বপ্ন টা বেশ ভয়ংকর ছিল, দেখলাম অবনী কিভাবে যেন আমার ঘরে চলে এসেছে। এসে দেখেছে আমার দেয়ালে ওর অনেক গুলো ছবি টাঙানো,কয়েকটা আবার ওর বাসা থেকে চুরি করা।একবার ওর বাসা গিয়েছিলাম, তখন তিন থেকে চার টার মত বড় সাইজের বাধানো ফটো ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম।
তো সেই ছবি গুলো দেখে অবনী বলল,
-আমি তোমাকে বন্ধু ভাবতাম আর তুমি?
এই সবের মধ্যই ঘুম টা ভেঙেছে। ভাগ্য ভালই এটা শুধু স্বপ্ন ছিল। বাস্তবে হলে কি হত কে জানে?
.
আমার বাসায় অবনীর অবশ্য আসার সম্ভাবনা কম। আমি একাই থাকি,একা একটা ছেলের বাসায় একটা ভদ্র মেয়ে প্রয়োজন ছাড়া আসবেনা।
আর অবনীর প্রয়োজনে আমি আগে ভাগেই ওর কাছে চলে যাই।তাই ওর আসার দরকার হয়না।
.
অনেকক্ষন ধরে কলিং বেল বাজছে,স্বপ্নের চিন্তায় খেয়ালই করিনি। এই কলিংবেলের শব্দেই আমার ঘুম ভেঙেছে।
বাইরে যে আছে তাকে একটা ধন্যবাদ দিতে হবে।
.
গেট খুলে এক প্রকার ঝটকা খেলাম।
-অবনী তুমি?
.
অবনী একটু কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
-ফোন কই তোমার? আর পাঁচ মিনিট হয় বেল বাজাচ্ছি, কি যে ঘুমাও?
-সর‍্যি। আসো ভিতরে আসো,,ফোন টা সাইলেন্ট করা হয়ত।
.
অবনী ভিতরে ঢুকতেই আবার স্বপ্নের কথা মনে পরলো।ও আমার এখানে কেন?
আজ ওর সাথে দেখা করার কোন কথা ছিল না। স্বপ্ন মনে হয় সত্যি হয়ে যায়?
স্বপ্ন সত্যি হয়ে গেলে আমার ভালবাসা অকালে মারা যাবে।
.
আমি অবনীর দিকে তাকিয়ে বললাম,
-তুমি এখানে?
-আসলে আজ একটু বাইরে যাবো,
-ওহ,কোথায়?
-আছে, ভাবলাম তোমাকে সাথে নিয়ে যাই।
-আচ্ছা,
-তুমি ফ্রি তো,
-হ্যাঁ, তোমার জন্য সব সময়।
-গুড,
-তুমি এখানেই বসে ওয়েট করো।আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি।
.
অবনী একটু হেসে বলল,
-আচ্ছা,
-এখানেই থাকো,,
আমি ওর হাতে কয়েক টা ম্যাগাজিন দিয়ে আবার বললাম,এখানেই থাকো।
অবনী এবার অবশ্য একটু কি যেন ভাবল।
যাই ভাবুক তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।কিন্তু ও বেডরুমে গেলে আমাদের সমর্পকর ইতি যে আজ হবে এটা আমি শিউর। তাই ওর ডাইনিং রুমে থাকা অত্যাবশ্যকীয়।
.
আমি খুব দ্রুত গোসল করে বের হলাম।
গরমের দিন তাই গোসল না করলে পরে বিপদে পরতে হবে। আমি গোসল সেরে বের হয়ে এসে দেখলাম অবনী আগের জায়গাতেই বসে আছে। ও আমাকে দেখেই বলল,
-এত জলদি হয়ে গেল,
-হুম,ওয়েট রেডী হয়ে আসছি,
-আচ্ছা,,
.
মিনিট পাঁচেক পর আমরা বাসা থেকে বের হলাম দুজন। সকালের নাস্তা তখনো করা হয়নি। অবনীকে জিজ্ঞেস করতে ও বলল,
-ও নিজেও করেনি।
.
তাই বাসা থেকে বের হয়ে একটা হোটেলে ঢুকে সকালের নাস্তা সেরে তারপর রিকশায় উঠলাম।রিকশা অবনীই ঠিক করলো।
ও কোথায় যাবে এখনো জানিনা।
.
রিকশায় উঠে আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-কোথায় যাচ্ছি?
-ভাল একটা জায়গায়,
-কোন নদীর পাশে?
(অবনীর প্রিয় জায়গা নদীর পাশেই হয়)
-জ্বি,,
-ঘুরতে?
-ঘুরতে আবার কয়েক টা ছবি তুলবো।
-হঠাৎ ছবি? আগে বললে তো ক্যামেরা টা সাথে নিতাম।
-আসলে আমার বাসা থেকে আমার কয়েক টা বাধানো পিক চুরি হয়ে গেছে তো,তাই।
-ওহ, কে চুরি করলো?
-জানিনা,, নিজের প্রিয় পিক গুলাই চুরি হইছে।
-আচ্ছা, আজ উঠাইও ভাল করে।
-দেখি,
.
যাক আমাকে নিয়ে কোন সন্দেহ করেনি ও।
নদীর পারের ওখানে গিয়ে দেখি অবনীর এক গাদা ভার্সিটি ফ্রেন্ড ও এসেছে।
সবার সাথেই ও আমার পরিচয় করিয়ে দিল।
ওর বান্ধুবিরা এমন ভাবে আমার সাথে কথা বলল যেন আমি অবনীর বয় ফ্রেন্ড।
অবনী ওদের কি বলেছে কে জানে?..
.
যাই হোক,ওখানে ক্যামেরার ব্যাবস্থা হয়ে গেল।
আমি নিজেই অবনীর কয়েকটা ফটো তুলে দিলাম। কি সুন্দর আসছে ওর ছবি গুলো।
এগুলো সব দু কপি বের করতে হবে,এক কপি আমার জন্য আরেক কপি অবনীর জন্য।
.
কয়েক টা ছবি তুলে দেয়ার পর হুট করে অবনী আমাকে ওর কাছে ডাকলো।
-বলো,
-চলো দুজন মিলে কিছু ছবি তুলি,
-কেন?
-দেয়ালে টাঙানোর জন্য,
-তোমার দেয়ালে আমার আর তোমার ছবি?
.
অবনী একটু হেসে জবাব দিলো,
-আমার দেয়ালের জন্য না, তোমার দেয়ালের জন্য।
-মানে?
-তোমার ঘরের দেয়ালে শুধু তো আমার ছবি, ব্যাপার টা আমার ভাল লাগেনি। আমাদের দুজনের একসাথে ছবি থাকলে বেশ ভাল লাগবে।
-কি?
-কিছুনা,
.
তখনি ওর ফটোগ্রাফার ফ্রেন্ড টা আমাদের এক সাথে দাঁড়িয়ে যেতে বলল।দাঁড়ালাম।
বেশ কাছাকাছি দাঁড়ালাম।প্রেমিক প্রেমিকারা যেভাবে দাঁড়িয়ে ফটো তুলে।
আমার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না।তারমানে কি অবনী রাজী। ও হয়ত বুঝেই গেছে আমি ওকে ভালবাসি।
.
এসব নিয়ে ওর সাথে আর কথা বলার সুযোগ হলোনা।সারাক্ষন ওর সাথে ওর কোন না কোন ফ্রেন্ড লেগেই ছিল।
কথা হলো ফিরে আসার সময়।
রিকশায় বসে ও প্রথম মুখ খুললো,
-আমি তোমাকে ফ্রেন্ড ভাবতাম আর তুমি?
.
ওর কথা শুনে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলো। স্বপ্ন টা সত্যি হয়ে গেল নাকি?
কিন্তু একটু আগেই তো অবনীকে দেখে মনে হলো ও রাজী।
-সর‍্যি,
-কিসের সর‍্যি,
-ছবি গুলী ফেরত দিয়ে দিবোনে।
-হিহিহি,
-হাসছ কেন?
-শোন,দেয়ালে আমরা বেশ বড় কয়েক টা ফটো লাগাবো দুজনের,,
.
আমি কিছু বললাম না।অবনী নিজে থেকে আবার বলল,
-তার চাইতে পুরো একটা ঘর ছবির জন্য বেছে নিবো,শুধু তোমার আর আমার ফটো থাকবে।
-আর?
-আর ভেবে বলবো,,
.
আমি কিছুক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
ওকে এমন ভাবে কথা খুব কমই বলতে দেখেছি।
-এভাবে কি দেখছ?
-আই লাভ ইউ,
-এত দেরীতে?
-তোমার দোষ, তুমি আমার চোখের ভাষা বোঝনি।
-তুমি তো চোর, বাসা থেকে যেদিন পিক গুলা চুরি করছ সেদিনই দেখেছি,
-বলো কি?
-জ্বি,
-এই কয়দিন তুমি অভিনয় করে গেছ?
-অভিনয় নয়,আমি চাইতাম তুমি আগে কিছু বলো।কিন্তু তুমি তো গাধা বালক।
-মোটেও না,
-জ্বি হ্যাঁ,
-এখন বললাম তো,
-আচ্ছা, ভালবাসি।
-শুধু,
-আর কি?
-আরো কত কি?.
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download Nulled WordPress Themes
Free Download WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
Download Nulled WordPress Themes
download udemy paid course for free
download intex firmware
Download Best WordPress Themes Free Download
udemy course download free
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.