প্রথম রাত্রীর গল্প

-আমি শাড়ি পড়তে পারিনা,,
.
মিহির কথাটা শুনে আমার বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল।যদিও এটা তেমন কঠিন কোন কথা না, তবে বাসর রাতে শোনার জন্য আমার কাছে কঠিন কিছুই।
.
একবার মনে হল, এই মেয়ে শাড়ি পড়তে পারেনা, তাহলে এই মেয়ে পারে কি?
কাকে বিয়ে করলাম আমি?
যদিও চেহারা সুরত মাশল্লাহ ভালই।
আগে দুবার দেখা হওয়াতে তো এমন মনে হয়নি,,ভালই মনে হয়েছিল।
প্রথম বার যেদিন রেস্টুরেন্টে দেখা হল, সেদিন মিহির কথা শুনে মনে হয়েছিল এই মেয়ে জিনিয়াস টাইপ কিছু।
মা অবশ্য আগেই বলেছিল, যে এই মেয়ে লেখাপড়ায় যেমন রান্না বান্নাতেও তেমন।
.
রেস্টুরেন্টে আমি একটু লেট করে উপস্থিত হয়েছিলাম।তাই দেখে মিহি বলেছিল,
-আপনাকে তো বিয়ে করা যাবেনা,, সময় এর প্রতি কোন কেয়ার নেই,,
-রাস্তায় জ্যাম ছিল তো,,
-আচ্ছা, মেনে নিলাম। তো কি কি পারেন?
-মোটামুটি সব পারি,,
-রান্না বান্না?
.
এই প্রশ্নটা শুনে মনে হয়েছিল ,, আমি পাত্রী।
আর রান্না বান্না আমার পারা খুব দরকার। রান্না বান্না না পারলে জীবন ব্যার্থ।
তাও মাথা ঠান্ডা করে জবাব দিয়েছিলাম,
-হুম,পারি হালকা,
-মাংশ রান্না করতে পারেন?
-হ্যাঁ,
-মাছ?
-না,,
.
এরপর শুরু হল মিহির কথা।
পুরো সময় আমি আর কোন কথাই বলিনি যা বলেছিল মিহিই।সে কি কি পারে তাই বলছিল।
কিন্তু এই মেয়ে যে সামান্য শাড়ি পড়তে পারেনা সেটা কে জানত?
বিয়েতে আমার খুব একটা মত ছিলনা,, মিহিকে সামান্য অহংকারী মনে হয়েছিল,কিন্তু বাসার সবার নাকি খুব পছন্দ হয়েছে। এরকম মেয়ে তারা আগে কোথাও দেখেনি।তাই বাড়ির মানুষের কথা ভেবেই বিয়ে করা।
.
আমি মুখ তুলে মিহির দিকে তাকালাম।
বিছানার এক পাশে হাতে একটা সুতি শাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ও।
কি সুন্দর লাগছে ওকে দেখতে !
একটু আগেও ওকে অহংকারী মনে হচ্ছিল,, কিন্তু এখন কত পবিত্র লাগতেছে।
চাইলেই এ মেয়েটাকে ভালবাসা যায়।
.
মিহির গায়ে এখনো লাল রঙ্গের মোটা একটা জামদানী শাড়ি। বিয়ের শাড়ি পড়ে তো আর ঘুমানো যায়না তাই মা একটা সুতি শাড়ি দিয়ে গেছে ওকে।
.
আমি আস্তে করে বললাম,
-এখনো তো শাড়ি পড়ে আছ?
-এটা আমি পরিনাই,পরাই দিছে !
-ও আচ্ছা,
.
আমি কিছুক্ষন ভেবে বললাম,
-ইউটিউব এ শাড়ি পড়ার প্রাকটিকাল ভিডিও আছে,, দেখে দেখে পড়তে পারবা?
.
মিহি আমার কথার কোন জবাব দিলনা।আমি আবার বললাম,
-কি হল?
.
মিহি নীচু গলায় বলল,
-আমি শাড়ি কোন ভাবেই সামলাতে পারিনা,,
রাতে ঘুমালে শাড়ি ঠিক থাকবেনা।
-তাহলে কি করা যায়?
-জানিনা,,
-তুমি কোন কাপড় আনোনি?
-কাপড়ের ব্যাগ অন্য রুমে,,
-ওহ,এখন তো অনেক রাত,, বাড়ির সবাই হয়ত শুয়ে পড়েছে।
-হুম,,
.
আমি কিছুক্ষন ভাবনা চিন্তা করে বললাম,
-আমার পাঞ্জাবি পড়ে শুতে পারবা,,
আর বেশি সমস্যা হলে তার সাথে কাথাও গায়ে জড়িয়ে নিও,,
-আচ্ছা ঠিকাছে,,
.
আমি আমার একটা পাঞ্জাবি এনে মিহিকে দিলাম।নিজের কাপড় চোপড় কখনো কাওকে পড়তে দেইনা,,এক প্রকার বাধ্য হয়েই মিহিকে নিজের প্রিয় পাঞ্জাবি টা দিতে হল।দ্বিতীয় বার হয়ত এটা আর পরা হবেনা।
.
ও পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইল রুমে। আমাদের রুমে এটাচ বাথরুম ছিলনা তাই রুমেই কাপড় চেঞ্জ করতে হত। উপায় ছিলনা। ও কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না । অচেনা একজনের সামনে কাপড় চেঞ্জ করা খুব সমস্যারই। যদিও আমি ওর হ্যাজবেন্ড তবুও,, পুরনো হলে হয়ত কোন সমস্যা ছিলনা। নতুন বলেই হয়ত এত সমস্যা। আজ নিয়ে মাত্র তিনবার আমার সাথে ওর কথা বা দেখা হয়েছে।এখনো প্রেম ভালবাসাও কিছু হয়নি। তবে শীঘ্রই হবে,, আজ রাতেই হয়ত হবে।
.
আমি ওর অস্বস্তি বুঝতে পেরে বললাম,
-আচ্ছা,,তুমি চেঞ্জ করো,,আমি ঘরের বাহিরে দাঁড়াচ্ছি,,
-আচ্ছা,,
.
ঘরের বাহিরে গিয়ে দাঁড়ানোর দু মিনিট পরেই মিহি এসে বলল,
-আসো,,
এই প্রথম ও আমাকে তুমি করে বলল।
.
আমি ঘরে ঢুকে দেখি মিহি পাঞ্জাবী পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু ঢোলাঢালা হয়েছে অবশ্য, দেখতে কিন্তু মন্দ লাগছিল না।
.
আমি কিছুক্ষন ওভাবেই তাকিয়ে রইলাম।
মিহি লজ্জা পেয়ে বলল,
-এভাবে দেখা ঠিক না,
-কেন?
-কারণ আমি অনুমতি দিচ্ছিনা,
-অনুমতি দাও,
-আজ না !
-কেন?
-ঘুমাব,,
-আচ্ছা,চলো শুয়ে পড়ি।
.
বিছানায় শুয়ে মিহি আবার বলল,
-দেখো,আমার শোয়া একটু খারাপ,,
-মানে?
-এই তোমার গায়ের উপর পা উঠাই দিতে পারি,
-ও আচ্ছা
-সমস্যা নাই তো?
-না,, অভ্যাস আছে,,
-অভ্যাস আছে মানে কি? আগে বিয়ে করছ নাকি ? কার সাথে ছিলা?
-আরে সেরকম কিছু না,, যখন মেসে থাকতাম তখন এক ফ্রেন্ডের সাথে থাকতাম।তো ওই ফ্রেন্ড ও তোমার মত করে শুইত।
-ও আচ্ছা,,
.
কিছুক্ষন বাদে আমি বললাম,
-মিহি কাল তো শাড়ি পড়তে হবে?
-কেন?
-আত্ত্বীয় স্বজন রা দেখতে আসবে,,
-ও আচ্ছা,,
-পারবে তো?
-দেখা যাক,,
-হেল্প লাগলে বলিও,
-মানে? তুমি শাড়ি পড়াইতে পারো নাকি?
-না,,তবে হেল্প করতে পারব,, মনে করো শাড়ির কুঁচির ভাজ ঠিক করে দিলাম,
-না লাগবেনা,একাই পারব,,
-আচ্ছা,, তাহলে তো ভালই।
.
-মিহি ঘুমাইছো?
-নাহ,
-তোমার হাত ধরব?
-কেন?
-না মানে,, তুমি আমার গায়ে হাত তুলে দিলে কি করব?
-সরাই দিবা,,
-তখন তো হাত ধরতে হবে,
-তখন কার হিসেব আলাদা,,
-না মানে কিভাবে ধরব,সেটাই বুঝতেছিনা।
-মানে?
-মানে আস্তে ধরব না জোরে ধরব,,
.
মিহি আমার দিকে ওর একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-নাও ধরো,
.
আমি ওর হাত ধরে বললাম,
-মিহি তোমার হাত তো খুব সুন্দর আর নরম,,
-অন্ধকারে সুন্দর কিভাবে বুঝলা?
-অনুভব করলাম,,
-আমার আর কি কি অনুভব করতেছ এই অন্ধকারে?
-তোমার ঠোঁট দুটোও সুন্দর,,
-হাহাহা,,
-চুমু খাব?
-প্রথম রাতেই শুরু করলা,,
-প্রথম রাত তো শুরুর জন্যই,,
-আচ্ছা,আসো,কাছে আসো।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
udemy free download
download intex firmware
Download Nulled WordPress Themes
free online course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.