তিন কাপ চা

তিন কাপ চা

.
.
আমি চা হাতে নিয়েই জিজ্ঞেস করলাম,
-সুপ্তা, আমার সমন্ধে তোমার ধারণা কি?
.
সুপ্তা আমার দিকে না তাকিয়েই জবাব দিল,
-ধারণা? ধারণা খুব খারাপ,
-খারাপ?
-হ্যাঁ,
-কি রকম খারাপ?
-চা টা শেষ করে বলি,
-আচ্ছা।
.
সুপ্তা চা এ চুমুক দিয়ে বলল,
-বাহ,বেশ ভাল চা।আগের দিনের চাইতেও ভাল।
-হুম,
-তুমি চা খাচ্ছ না কেন?
-এই তো খাচ্ছি,
.
আমি চা মুখে দিলাম না,হাত দিয়ে চায়ের কাপটা ধরলাম শুধু।
গলা দিয়ে আর এ চা নামবে না,তাই বৃথা চেষ্টা করে লাভ নাই।
আমার সমন্ধে ওর ধারণা কেন খারাপ সেটা জানা দরকার? আমি এমন কিছুই করিনি যাতে ওর আমার প্রতি ধারণা খারাপ হয়,তবুও কেন?
আমার সমন্ধে ওর ধারণা খারাপ মানে আমার ভালবাসি বলার প্রতিউত্তর টা ও না।
.
আজ কত আশা করে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম।ভেবেছিলাম আজকের দিনটা খুব ভাল কাঁটবে।কিন্তু মনে হচ্ছে এটার মত খারাপ দিন জীবনেও আসবেনা।
এক সপ্তাহ আগে সুপ্তা কে এই দোকানেই চা খেতে খেতে বলেছিলাম, ভালবাসি।
সুপ্তা অনেক ভেবে চিনতে উত্তর দিয়েছিলা,
-এক সপ্তাহ পরে বলি,
.
আমি মেনে নিয়েছিলাম,পুরো জীবনের ব্যাপার এক সপ্তাহ নিতেই পারে। আজ এক সপ্তাহ পূরণ হয়েছে।আমার উত্তর দেয়ার জন্যই সুপ্তা এখানে এসেছে।এই এক সপ্তাহ আমার খুব আনন্দেই কেঁটেছে।আমি ভেবেই নিয়েছি ও রাজী হবে। কিন্তু এখন ওর কথা শুনে উল্টো কিছু মনে হচ্ছে।
.
সুপ্তা চা শেষ করে বলল,
-চা খেতে খেতে কেউ প্রপোজ করে?
-না আসলে তোমার বান্ধবীরা বললো,তুমি চা খেতে অনেক ভালবাসো,তাই
-তাই কি?
-তাই ভাবলাম
-কি ভাবলা?
.
আমি একটু ইতস্তত করে বললাম,
-ভাবলাম এই দোকানের চা টা খেতে ভাল।চা খেয়ে যদি তোমার মন ভাল হয়ে যায়।আর তাতে যদি হ্যাঁ বলে ফেলো।
.
সুপ্তা ওর মুখে হাসি এনে বললো,
-সেই হিসেবে তো যে চা বানিয়েছে তাকে ভালবাসা উচিত,, তাই নয়কি?
-আমিও ভাল চা বানাতে পারি?
-তাই?
-হ্যাঁ,
-যাও চা বানিয়ে আনো,,
-এখানে?
-আচ্ছা,থাক।পরে বানিও,
.
আমি কিছু বললাম না।
সুপ্তা আবার নিজে থেকেই বলল,
-ধরো,আমি আজ তোমাকে হ্যাঁ বলে দিলাম তারপর কি হবে?
-বিয়ে?
-হুম,একসময় বাচ্চা কাচ্চা হবে।নাতি নাতনি হবে?
-তুমি তো বেশি ফাস্ট,
-আসল কথা হচ্ছে,যখন নাতি নাতনিদের বলবো আমাদের প্রেমের কথা তখন কি বলব?
.
আমি একটু কনফিডেন্স নিয়ে বললাম,
-হ্যাঁ,যা হয়েছে তাই বলবা। ওরা মজা পাবে,
-কি বলবো? বলবো ওদের দাদু চা খেতে খেতে আমাকে প্রপোজ করেছিল?
-চা কি খারাপ?
-একটা ফুল কি দেওয়া যেত না,
-আসলে সেদিন ফুল খুঁজে পাইনি,
-আজ আনছ?
-হুম,
আমি পকেট থেকে পাপড়ি ঝড়ানো গোলাপ টা বের করে টেবলের উপর রাখলাম।
.
-ফুলের এ অবস্থা কেন?
-পকেটে ছিল তো?
-ওহ,
-হুম, এর পরের বার ভাল ফুল দিবো।
-আরেক কাপ চা খাবো,
-আচ্ছা,
.
আমি চায়ের কথা বলে আবার সুপ্তার দিকে তাকালাম।সুপ্তা আবার বলা শুরু করল,
-শোন,আমি চা খেতে পছন্দ করি,
-হুম, জানি।
-কিন্তু চা বানাতে পারিনা,যদি আমাদের বিয়ে হয় রোজা তিন কাপ চা বানিয়ে খাওয়াতে হবে। পারবা?
-হুম,পারবো।কিন্তু তিনকাপ চা কেন?
.
ততক্ষনে টেবিলে চা চলে এসেছে।সুপ্তা চা হাতে নিয়ে বলল,
-কারণ তিন কাপ খেতে খেতে খেতে তোমার সাথে আমার প্রেম হয়েছে,
-তাই নাকি?
-হুম, আমিও তোমাকে ভালবাসি।
.
ওর কথা শুনে আমার মনে তখন আনন্দ হলেও একটা প্রশ্ন ঠিকই ঘুরছিলো, সত্যি কি সুপ্তা চা বানাতে পারেনা,
.
সুপ্তা কিছু একটা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করল,
-কি ভাবছ?
-সুপ্তা একটা সত্যি কথা বলবা?
-হুম,
-তুমি কি সত্যি চা বানাতে পারো না?
.
সুপ্তা আমার কথা শুনে খিল খিল করে হেসে উঠল। হেসেই জবাব দিলো,
-পারি, খুব ভাল পারি।তবুও তুমি আমাকে বানিয়ে খাওয়াবা।নয়ত বিয়ে করব না।
.
আমিও ওর কথা শুনে হাসলাম,,
মাথা নিচে নামিয়ে সম্মতি দিয়ে বললাম,
-যথা আজ্ঞা, মহারানী।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Free Download WordPress Themes
Premium WordPress Themes Download
Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
free online course
download xiomi firmware
Download WordPress Themes
free download udemy course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.