এক জোড়া হিল এবং একটা গল্প

এক জোড়া হিল এবং একটা গল্প
.
.
এখন আমি রাস্তায় হাঁটছি আর আমার সামনে একটা সুন্দরী মেয়েও হাঁটছে।এটা অবশ্য তেমন কোন ব্যাপার না।প্রেমিক প্রেমিকাদের মধ্য এমন দৃশ্য হার হামেশাই দেখা যায়।যদিও আমার সামনের মেয়েটা আমার প্রেমিকা নয়।
.
তবে অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো আমার হাতে এক জোড়া হিল আর আমি ওই হিল জোড়া হাতে নিয়েই হাঁটছি। শুধু এটা একটা ব্যাপার না, আরেক টা ব্যাপারও আছে তা হলো আমার পায়েও কোন কিছু নেই। এমন অবস্থায় যে কেউ এমন টা দেখে ভাবতে পারে হিল গুলো হয়ত আমি পরি,হিল ভেঙ্গে গেছে তাই হাতে নিয়ে হাঁটছি। লোক জন এমন টা না ভাবলেও আমাকে দেখে যে পাগল ভাবছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
.
তবে আমার একটু সামনে ছেলেদের স্যান্ডেল পড়ে যে সুন্দরী রমনী হেঁটে চলেছে তাকে লোক জন কি ভাবছে এটা জানার তীব্র ইচ্ছা হচ্ছে এই অধমের।
.
নাজিফা একটু করে হাঁটছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে।সেই তাকানোতে কোন করুনা নেই, আছে মজা, দূষ্টামি।এই মেয়ের উপর প্রচন্ড রাগ লাগতেছে,এত প্রবলেমের কারণ এই মেয়ে।
.
আজ সকালে কার মুখ দেখে ঘুম ভেঙেছিল কে জানে?
সকালে ক্যাম্পাসে এসে শুনলাম আজ নাকি ক্লাস হবেনা।আগত্যা কি আর করার?
একটু আড্ডা দিয়ে তারপর মেসে ফেরার জন্য বাস স্টানের দিকে হেঁটে হেঁটে আসছিলাম। তখনি নাজিফার সাথে দেখা।
এই মেয়েটাকে যদিও আমার খুব ভাল লাগে, তবুও ওকে অনেক এড়িয়ে চলি।কারণ এই মেয়ে প্রচুর বড়লোক তার উপর মেয়েটা আমকে পছন্দ করে এটা অবশ্য আমার বন্ধুদের মনে হয়।
.
নাজিফার সাথে আমার পরিচয় টা অন্যরকম ভাবে হয়েছে, নাজিফা আমার দুই বছর জুনিয়ার। যেদিন নাজিফার সাথে প্রথম কথা হয় সেদিন নাজিফাদের ওরিয়েন্টশন ছিল। আমার এসব অনুষ্ঠান কোন কালেই ভাল লাগত না, তবুও সেদিন ক্যাম্পাসে এসেছিলাম।
মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম তার মাঝে হুট করে এক খুবই রুপবতী মেয়ে এসে আমার নাম নিয়ে বলল,
-আপনি এই না?
-হ্যা,আমি এই। কিন্তু আপনি কে?
.
মেয়েটা জবাব দিল,
-ভাইয়া আমি নাজিফা,
-সর‍্যি,আমি কোন নাজিফাকে চিনিনা,
-ভাইয়া আমি আপনার কোচিং এর স্টুডেন্ট,
-ও আচ্ছা,
-ভাইয়া আমি এখানে নিউ আর এখানে কাওকে চিনিনা আপনাকে ছাড়া।
-তো?
-ভাইয়া একটু ঘুরে দেখান না ক্যাম্পাস টা,,
.
ইচ্ছা ছিল না তবুও এত সুন্দর একটা মেয়ের রিকুয়েস্ট ফেলার সামর্থ্য নিজের ছিল না।
-আচ্ছা, চলো।
.
এভাবেই কথা শুরু হয় নাজিফার সাথে।ওর ভার্সিটি তে পরিচিত কেউ নেই এই কারণেই নাজিফা খুব কম সময়ের মধ্য আমার আর আমার ফ্রেন্ড সার্কেল এর কাছে চলে আসে।
তখন থেকেই নাজিফাকে এড়িয়ে চলার কারণ গুলো সৃষ্টি হয়।
.
এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পরে ও একদিন হুট করেই বলল, ভাইয়া আমরা তো বন্ধুর মত তাইনা?
-হুম,
-তো,আপনাকে তুমি করে বলি?
-আচ্ছা বলো।
..
তার কিছুদিন পর আবার বলল,
-ভাইয়া আমরা তো এখন অনেক ভাল বন্ধু?
-হুম,
-তোমাকে ভাইয়া বলতে কেমন জানি লাগে? নাম ধরে ডাকি?
এবার আর কোন অনুমতি দিলাম না,নাজিফা নিজেই ডাকতে লাগল।আমিও আর কিছু বললাম না।এই মেয়েকে বললেও যে খুব একটা লাভ হত তাও না।
ও যা বলত তাই মেনে নিতাম।
.
আমি শিউর ছিলাম এর পর আরেকদিন তুই করে বলতে চাইবে।তবে এমন অবশ্য হয়নি এখনো।
ফ্রেন্ড সার্কেল এর অন্য বন্ধুরা বলত নাজিফা আমাকে পছন্দ করে বলে এমন করে। আমি অবশ্য অন্য কিছু মনে করতাম,আমি ভাবতাম বড়লোক মেয়ে মাথায় সমস্যা আছে।
তবে নাজিফাকে আমারো ভাল লাগে কিন্তু এ মেয়ের সাথে থাকা আমার জন্য রিস্ক সেটা মাঝে মাঝে টের পেতাম।আজকে সেটার আরো একটা ভাল প্রমান পেলাম।
তাই ওকে ভাল লাগা সত্ত্বেও দূরত্ত্ব রেখে চলতাম।
.
আজকে সকালে দেখা হওয়া মাত্র ও আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
-কেমন আছ?
-ভাল,তুমি?
-ভাল,কোথাও যাচ্ছ?
-হুম,মেসে।
-ও, তোমার মেস আর আমার বাসা একি দিকে চলো আমার সাথে গাড়িতে,
-না বাসেই যেতে পারবো,
-শিউর,
-হুম,,
-আচ্ছা।
.
তারপর নাজিফা হেঁটে ওর গাড়ির কাছে গেল।
গাড়ির কাছে গিয়ে নাজিফা আরেক বার আমার দিকে তাকালো ! ইশারা করেই বলল,
-যাবো নাকি ওর সাথে?
.
আমি হাসি মুখে মাথা নাড়িয়ে জানিয়ে দিলাম না, যাবোনা। আমি যে নাজিফার সাথে যেতে চাইছিলাম না, তা না। ওর সাথে আমার যাওয়ার ইচ্ছা খুবই, কিন্তু কারে চড়তে আমার অস্বস্তি হয়। কেমন যেন লাগে?
.
নাজিফা গাড়ির গেট খুলে গাড়িতে চড়ল না, ড্রাইভার কে কি যেন বলে গাড়ির গেট টা লাগিয়ে দিল। তারপর ড্রাইভার ওকে না নিয়েই গাড়ি নিয়ে চলে গেল।

আমি তখনো বাসের জন্য ওয়েট করছি। নাজিফা হেঁটে হেঁটে আমার দিকেই আসতে লাগলো। নাজিফা সোজা এসে আমার সামনে দাঁড়াল।ও কিছু বলার আগে আমি বললাম,
-ফেরত এলে কেন?
-আজ তোমার সাথে যাবো?
-পারবানা,, বাসে চড়ার তোমার অভ্যস নাই,,
-অভ্যাস হয়ে যাবে,,
-অভ্যাস করে কি করবা?
-দরকার তো হতেও পারে,,
.
আমি আর কিছু বললাম না,এই মেয়ের জেদ অনেক,ওর সাথে পরিচয়ের প্রথম দিনেই সেটা টের পেয়েছি।জেদ ঠিকাছে,কিন্তু ও বাসে যাবে কিভাবে?
এ রুটে সব লোকাল বাস চলে,,কোন সিটিং বাস ও চলে না। নাজিফা কিভাবে এসব লোকাল বাসে চড়বে কে জানে। এই মেয়ে এমন ক্যান বুঝিনা? গাড়িতে গেলে কি হত?
.
ততক্ষনে দুই একটা বাস সামন দিয়ে চলে গেল, আমি একা হলে ঝুলে ঝুলে অনেক আগেই চলে যেতাম কিন্তু এই মেয়েকে নিয়ে এরকম বাসে চড়া সম্ভব না।একটু আগে বললেই ভার্সিটি র বাসে করে যাওয়া যেত।
.
এরকম কয়েক টা বাস যাওয়ার পরেও যখন কোন ফাঁকা বাস পেলাম না তখন নাজিফার দিকে তাকালাম।এই মেয়ের মুখ তখনো হাসি খুশি।
-বাস কি পাওয়া যাবে?
-না মনে হয়,
-তাহলে কি করবো?
-হাঁটতে পারবে একটু,, সামনের স্টপেজ থেকে ফাঁকা বাস পাওয়া যাবে।
.
নাজিফা মাথা নামিয়ে জানান দিল সে পারবে।
আমি ওর কথায় ঠিকমত ভরসা পেলাম না। আমি ওর পায়ের দিকে তাকালাম,এত উচু হিল পরে ও সত্যি হাঁটতে পারবে তো?
.
এই হিল জোড়া যদি এখন ছিড়ে যায় বা ভেঙে যায় তাইলে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কে জানে?
.
আমার কথা সত্যি হতে টাইম লাগলো না,একটু যেতেই নাজিফার হিল শব্দ করে ভেংগে গেল।
ভাঙা হিল হাতে নিয়ে ও আমাকে দেখিয়ে বলল,
-এখন কি করবো?
-সি এন জি নিচ্ছি?
-না,
-কেন?
-বাসে যাবো,,
-এভাবে কিভাবে যাবে?
-আমার খুব ইচ্ছা এসব লোকাল বাসে চড়ার?
-ও,,
.
নাজিফা কি যেন ভেবে বলল,
-আমি হিল জোড়া হাতে নিয়ে হাঁটছি,,
-না থাক, আমাকে দাও,,
.
আমি বলা মাত্রই নাজিফা ওর হিল জোড়া আমার হাতে দিয়ে দিল।কিছুক্ষন বাদে আমি আমার স্যান্ডেল জোড়াও ওকে দিয়ে দিলাম।
তারপর আমার এ অবস্থা।
.
কিছুক্ষন হাঁটতেই পরের স্টপেজ চলে এলো।
ওখানে আগেই থেকেই নাজিফার কার দাঁড়ানো ছিল।
.
ও সোজা গাড়িতে গিয়ে বসলো।আমি ওর হাতে হিল জোড়া দিয়ে বললাম,
-এমন টা না করলেও পারতে,
-তুমিও আমার সাথে একটা বাজে কাজ করছিলা?
-কোন টা?
-মনে করো, কোচিং এ একবার তোমার নাম্বার চেয়েছিলাম দেওনি,,
-শুধু এজন্য,
-হুম,
-ওই ব্যাপার টা আমার মনে নাই,
-কিন্তু আমার মনে আছে,,
.
এটুক বলতেই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেলো। আমি খালি পায়েই দাঁড়িয়ে রইলাম রাস্তায়। কিছুক্ষন আগেও মেয়েটাকে এত ভাল লাগত, এখন খারাপ লাগছে খুব খারাপ।ভাবতাম নাজিফাও আমকে পছন্দ করে,কিন্তু না সব ভুল চিন্তা ছিল।
.
মেসে এসে ফ্রেশ হয়ে নাজিফার কথা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।সারাদিন আর নাজিফার কথা মনেও করলাম না। পরের দিন ক্যাম্পাসেও গেলাম না। সারাদিন শুয়েই কাঁটালাম,কিন্তু বিকেলে মেস ম্যানেজার এসে বলল এক মেয়ে নাকি আমার সাথে দেখা করতে আসছে।
.
ম্যানেজার এর কথা শুনে অবাক হলাম। আমার সাথে দেখা করার জন্য কেউ এসেছে, তাও আবার মেয়ে। ফ্রেন্ড সার্কেল এর প্রায় কেউ জানেনা আমার মেসের ঠিকানা। আর কেউ আসলে ফোন করতে পারতো।এক বার মনে হল নাজিফা নয়ত।
গেস্ট রুমে গিয়ে দেখতে হবে।
.
ফ্রেশ হয়ে গেস্ট রুমে গিয়ে অবাক হলাম, নাজিফা বসে আছে শাড়ি পড়ে।পেস্ট কালারের শাড়ি,চুল গুলো ছেড়ে দেয়া।
ওকে দেখে আমার মুখ থেকে একটাই শব্দ বের হলো, বাহ!
তবে ভাববার বিষয় এই মেয়ে আমার মেসের ঠিকানা কোথায় পেল।এটা জিজ্ঞেস করার আগেই আমাকে দেখে নাজিফা বলল,
-কেমন আছ?
-ভাল,তুমি এখানে?
-হুম, চলো ঘুরতে যাবো আজ।
-কেন?
-কেন আবার এমনি?
-আমি গাড়িতে চড়িনা,,
-উহু, প্রেমিক প্রেমিকারা রিকশায় করে ঘোরে,,
.
আমি অবাক হয়ে বললাম,
-কে প্রেমিক প্রেমিকা,
-আমি আর তুমি,
-কখন থেকে?
-কাল থেকে,
-কিভাবে?
-দেখো, রিলেশন একটা চলন্ত ব্যাপার,
প্রথমে ভাইয়া,তারপর বন্ধু,তারপর প্রেমিক,তারপর স্বামী,তারপর বল্টুর বাবা,
-আমি কেন?
-এটা কেমন কথা,তুমি প্রেমিক বলেই তো কাল আমার হিল হাতে করে হাঁটছো,বন্ধু হলে এমন করতা না,
.
আমি কিছু বললাম না।এই মেয়ের সাথে কথা বলে লাভ নাই।
-কি হলো? কিছু বলো?
-কি বলব?
-যাবা কি যাবানা,,,
-দেখো,তোমার সাথে আমার যায়না,
.
নাজিফা আমার কাছে এসে আমার কলার ধরে বলল,
-ফোন নাম্বার না দেওয়াতে খালি পায়ে হিল হাতে রাস্তায় ঘোরাইছি,, আমার কথায় রাজী না হলে কি হবে ভাবো একবার,, আমার বাবাক চেনো তো,,?
-হুম,
-ভালো লাগেনা আমকে?
-লাগে,
-হাত ধরতে ইচ্ছে করেনা?
-করে,,
-তাহলে আসো সাথে,,
.
আমি আর কিছু বললাম না, নাজিফার পিছন পিছন চললাম।কি হচ্ছে আমার সাথে জানিনা, কি সুন্দর ভাবে নাজিফা নামের সমস্যার সাথে জড়িয়ে যাচ্ছি।
.
মেস থেকে রাস্তায় নেমে এসে নাজিফা বলল,
-চলো একটু হাঁটি?
.
আমি নাজিফার পায়ের দিকে তাকালাম, আজকেও আগের দিনের মত হিল।এ হিল ভেঙে গেল গত দিনের মত আবার রাস্তায় হাতে হিল নিয়ে হাঁটতে হবে।
-নানানা,, রিকশা নেবো,
-আরে ভয় পেয়োনা,, গত দিনের টা ইচ্ছে করেই ছিল,,
.
তবুও আমি নাজিফার কথায় ভরসা পেলাম না।আমার জোড়াজুড়িতে বাধ্য হয়ে নাজিফাকে রিকশা নিতে হল। আর তার সাথে নাজিফাকে এও বলে দিলাম এত উচু হিল পড়ে যেন আমার সাথে দেখা করতে না আসে।
এরকম হিল দেখলেই ভয় লাগে।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Premium WordPress Themes Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download Best WordPress Themes Free Download
Download WordPress Themes Free
download udemy paid course for free
download micromax firmware
Download WordPress Themes Free
free online course
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.