আমার হলুদ পাঞ্জাবী

-এটা কি পড়ে আসছ?
.
আমি রিকশা ভাড়া দিয়ে নিজের পাঞ্জাবীর দিকে তাকালাম।কোথাও কোন দাগ টাগ লেগে যায় নি তো।না পাঞ্জাবী ঠিকাছে।
আমি স্মৃতির দিকে তাকিয়ে বললাম,
-কেন কিছু লাগছে পাঞ্জাবীতে?
-হলুদ কেন পড়ে আসছ?
-কেন? হলুদ ভালোই তো,
-কিসের ভালো? হলুদ হলো ট্যাক্সির রঙ, তোমাকে ট্যাক্সি ট্যাক্সি লাগছে।
দেখিও,এখনি কোন মেয়ে ডাক দিবে “এই ট্যাক্সি যাবে”?
.
আমি বেশ অবাক হলাম। এই প্রথম শুনলাম হলুদ পড়লে ট্যাক্সি ট্যাক্সি লাগে। এটা আমার শখের পাঞ্জাবী। হিমু হওয়ার জন্য নিয়েছিলাম।
যদিও হিমু হতে পারিনি।
.
স্মৃতি আবার বলতে লাগলো,
-কেউ হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে বিয়ে করতে আসে?
-অন্য পাঞ্জাবী টা আয়রণ করা ছিল না,
-শার্ট পরে আসতা,
-শার্ট পরে কেউ বিয়ে করে?
-না করেনা, তোমারও বিয়ে করা লাগবেনা।।
-হিমু হলুদ পরে,
-তুমি কি হিমু? আর যদি হিমু হও,তাহলে বিয়ে করবা কেন? হিমু রা কি বিয়ে করে?
.
আমি একটু ভেবে বললাম,
-হলুদ রঙের ভাল কিছুও হয়?
-হুম,হয় তো।বলবো আরো কি হয়?
-না থাক, বলিও না।
(এই মেয়ের মুখে দেখি কিছুই আটকায় না)
.
আমি এক প্রকার হতাশ হলাম।
বিয়েটা হবেনা মনে হচ্ছে।এবার নিয়ে তৃতীয় বার এমন হল। আগেও দুবার বিয়ে করতে এসে ঘুরে গেছি।
.
-কি ভাবছ?
-কিছুনা,
-আমাকে দেখো,
.
আমি মুখ তুলে আবার সৃতির দিকে তাকালাম, স্মৃতিকে এমনিতেই সুন্দর লাগে।তার উপর এই লাল শাড়িতে সেই লাগছে।বউ বউ ভাব চলে এসেছে।
সৃতি নিজে থেকেই বলতে লাগলো,
-আমাকে দেখে বউ বউ লাগছে না?
-হুম,,
-কাওকে ডেকে জিজ্ঞেস করো তো,তোমাকে বর বর লাগছে কিনা?
-আচ্ছা,আজ তাহলে বিয়ে না করি,
-কেন?
-পরের দিন সেজে গুজে বর সেজে আসবো।
-তো আমি কি করবো? প্রতিদিন বাসা থেকে এভাবে সেজে গুজে বের হতে দিবে?
-তাও ঠিক।
-আর তোমাকে বর বর লাগবেনা কখনো, তোমার মধ্য বর ব্যাপার টাই নেই।
-কি বলো? পাঞ্জাবী টা চেঞ্জ করলেই তো হচ্ছে,
-মনে হয়না লাভ হবে।
.
আমি মন খারাপ হয়ে গেল সৃতির কথা শুনে।
হবু বউ এমন হলে কিভাবে হবে?
অবশ্য আজ যে স্মৃতি এত সিরিয়াস হয়ে যাবে ভাবিনি।
গত দুবারেও ওকে বিয়ে করতে এসে ঘুরে গেছি। আমার কোন প্রবলেম ছিল না, ওর নাকি আরো সময় দরকার।
আজ সকালেই হুট করে বললো,বিয়ে করবে।
ওর নাকি পরিচিত কাজী আছে।

বিয়ের চাপ সামলানোর জন্য সময় দরকার যতই সেটা কাওকে না জানিয়েই হোক।
সকাল সকাল ফোন পেয়ে কি করবো ভেবে পেলাম না, সাদা পাঞ্জাবী টা কই রাখছি মনেই পড়ল না,তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই হলুদ পাঞ্জাবী টা পড়ে আসছি। কিন্তু এখানে এসে নিজের প্রিয় পাঞ্জাবী টার এরকম অপমান হবে ভাবিনি।
জানলে কোন দিনও পরে আসতাম না।
.
-এখানে আর দাড়াই থেকে কি করবা? চলো ভেতরে
-হুম,
.
ততক্ষনে দুটা ফ্রেন্ড ও হাজির।একটা আমার আরেকটা স্মৃতির।
ভেতরে কাজী সাহেব ও বিশ্বাস করলেন না আমি বর।হলুদ পাঞ্জাবী দেখে উনিও হাসলেন।
হলুদ পাঞ্জাবীর জন্য আরো কত কি হবে কে জানে?
আমার তো হলুদই ভালই লাগে।
.
কোন রকম বিয়ের কাজ শেষ করে বাইরে বের হলাম। রিকশায় উঠে সৃতি বলল,
-আমাদের বাসায় চলো
-কেন?
-বাবার সাথে পরিচয় করাই দেবো, বলব আমি তোমাকে পছন্দ করি।
-বিয়ে করলাম,
-বিয়ের কথা বললে বাবা কি করবে কে জানে?
-পছন্দের কথা বললে কিছু করবেনা?
-নাহ,
-কেন?
-বাবার প্রিয় রং হলুদ।বাবার মতে যারা হলুদ পরে তাদের চিন্তা ভাবনা ভাল।
.
আমি মুখে হাসি এনে বললাম,
-যাক একটা তো লাভ হলো আমার হলুদ পাঞ্জাবীর।
-হুম,
-এরকম কিছু, আগে বললে তো হলুদ প্যান্ট ও পরে আসতাম।
.
আমার কথা শুনে সৃতিও হাসলো।
আসলেই ব্যাপার খানা মজার। ওর বাবাকে কিভাবে হ্যান্ডেল করবো কে জানে?
আমি তো ভালভাবে কথাও বলতে পারিনা।
যদিও লেখি, সেগুলো কম বয়সী ছেলে মেয়েদের জন্য।
যাই হোক,দেখা যাবে, আগে যাই তো।
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download WordPress Themes Free
Download Best WordPress Themes Free Download
Premium WordPress Themes Download
Free Download WordPress Themes
free download udemy course
download huawei firmware
Download Premium WordPress Themes Free
udemy free download
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.