আমার অস্বস্তির গল্প

আমার অস্বস্তির গল্প

.
.
-খাচ্ছনা কেন?
-এইতো খাচ্ছি,,
সুপের বাটি থেকে এক চামচ স্যুপ মুখে দিয়ে তাম্মির কথার জবাব বললাম।
.
আমার কথা শুনে তাম্মি কিভাবে যেনো তাকাল। বুঝলাম না এমন করে তাকানোর কি আছে?
আর সেটা জানার কোন ইচ্ছাও হলনা কারণ আমি আছি অন্য সমস্যায়। এটাকে সমস্যা না বলে অস্বস্তি বলা যায়।
.
সুন্দরী মেয়েদের সামনে বসে খাওয়া যে এত ঝামেলার হবে ভাবিনি।আগে শুধু শুনেছিলাম যে সুন্দরী মেয়েদের সামনে খেতে প্রবলেম হয়। টিভিতেও দেখেছিলাম।তবে তা বাস্তবে যে নিজেকে ফেস করতে হবে তা ভাবিনি।
তাম্মির সামনে খেতে আমার প্রবলেম হচ্ছে,খুব প্রবলেম।
.
তাম্মীর খাওয়ার স্টাইল চমৎকার। কত সুন্দর করেই না ও খাচ্ছে।
মনে হচ্ছে, খাওয়া টাও একটা শৈল্পিক ব্যাপার ওর কাছে।আর আমার খাওয়ার স্টাইল খুব খারাপ।
নিজেকে নগণ্য লাগছে ওর কাছে।
সবসময় খেয়াল রাখতে হচ্ছে,,খেতে কোন ভুল যেন না হয়।এজন্যই আরো বেশি টাইম লাগছে।
.
-আচ্ছা তোমার পেটে কি কোন সমস্যা?
-কেন?
-আমার খাওয়া শেষ প্রায়,আর তোমার,
-ওহ,,এমনিতেই,,
-তোমার প্রিয় খাবার তাই অর্ডার দিয়েছি,,
.
আমি আরেক চামচ মুখে দিয়ে বললাম,
-ধন্যবাদ।
.
যদিও স্যুপ আমার মোটেও পছন্দ নয়।এটা তাম্মিরই পছন্দ,, ওর পছন্দ গুলোই আমার পছন্দ,,ব্যাপার টা কিছুটা এ টাইপ।
.
আমি আবার তাম্মির দিকে তাকালাম,মেয়েটা এত সুন্দর করে খাচ্ছে কিভাবে।
আমি পারিনা কেন?
.
আর শুধু খাওয়া না আমি ওর সাথে ঠিক ভাবে কথাও বলতে পারছিনা। কি মুশকিল??
আমার প্রথম অফিশিয়াল ডেট টা এভাবে মাটি হয়ে যাচ্ছে।অফিশিয়াল বলতে সেজে গুজে ডেটিং এ আসা।
.
তাম্মী আর আমি একখানেই পড়ি।তাই আগে তো দেখা হতই,,তবে ডেট আকারে না। এমনিতেই। আমাদের প্রেম হয়েছে মাস খানেক,,,তার মধ্য এটাই বলে কয়ে প্রথম ডেট।
মানে অফিশিয়াল।
.
তাম্মির সাথে আমার প্রেম হয়েছে অদ্ভুত ভাবে, সেটা আগে বলি,
পাজেরোতে আসা তাম্মী আমাদের সবার ড্রিম গার্ল ছিল । ক্লাসের প্রায় প্রতিটা ছেলেই ওর প্রতি ক্রাশ । প্রতিটা ছেলের মধ্য আমিও একজন।
তাম্মী এত্ত সুন্দর সেটা না দেখলে কোন ভাবেই বোঝানো যাবেনা।তাই লিখে বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করলাম না। প্রথম দিকে তাম্মীর সাথে আমার কোন কথা হয়নি,সাহসই পাইনি কথা বলার।
.
তবে ফেসবুকে আমি তাম্মীকে ফলো করতাম, ফ্রেন্ড রিকু পাঠানোর সাহস ছিলনা। আর খুব একটা ইচ্ছাও ছিলনা কারণ আমার সব গল্পই ওকে নিয়ে,এমনকি গল্পের নায়িকার নাম হিসেবেও তাম্মীর নাম দেয়া।এটা ও দেখুক তা কোন ভাবেই চাইনি,পরে আবার কিনা কি ভাবে?
অবশ্য এ নিয়ে আমাকে বন্ধু মহলে খুব ক্ষেপানো হত।
.
তবে একদিন হুট করে তাম্মীর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট হাজির।সাথে একটা ম্যাসেজ ও,,
-ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করলে খুশি হব,,
.
আমি তো খুশিতে সপ্ত আসমানে।সাথে সাথে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করলাম।
ততক্ষনাৎ আরো একটা ম্যাসেজ,
-ধন্যবাদ, খুব ভালো লিখো তুমি,,,
-ধন্যবাদ,,
-সব গুলোর নায়িকা আমি,,
-নাহ,,,তাম্মী নাম টা ভাল লাগে তাই দেয়া,,
-ওহ আচ্ছা,,,
.
পরের দিন ক্যাম্পাসে তাম্মির সাথে দেখা,,
ওই প্রথমে ডাক দিল,
-নয়ন সাহেব,,,
.
আমার সাথে যারা ছিল তারা সবাই অবাক। কেউ হয়ত স্বপ্নেও ভাবেনি তাম্মী আমাকে ডাকবে। আমি তাম্মীর কাছে এগিয়ে গেলাম। কালো জিন্স আর কালো একটা টপে কি দারুনই না লাগছিল ওকে দেখতে।
.
আমি ওর সামনে গিয়ে বললাম,
-কেমন আছো?
-ভালো,,,তুমি?
-ভাল,,,
-চলো কোথাও বসি,,
-আচ্ছা,,,
.
এভাবেই কথা শুরু তাম্মীর সাথে।ফেসবুক বা ফোনে মোটামুটি কথা হত। এখন কার মত অস্বস্তি ছিলনা,হয়ত আগে ফ্রেন্ড ছিলাম তাই।
.
তবে আমার তাম্মীর যে কে ভাল লাগত ,হয়ত ভালবাসতাম ।আর সেটা যে কোন ভাবে জানাতে চাইছিলাম ওকে।
.
তো কয়েকদিন আগে এক বড়লোক ফ্রেন্ড প্লান করল,সে নাকি তাম্মীকে প্রপোজ করবে।
সেই অনুযায়ী ক্লাস পার্টিতে অনেক প্লান করে সে তাম্মীকে প্রপোজ করল।
আমার ভয় হচ্ছিল তাম্মী আবার হ্যাঁ বলে কিনা। সবাই ভেবেছিল হ্যাঁ বলবে কিন্তু সবাইকে অবাক করে তাম্মী না বলে দেয়। আর তার সাথে আমার মুখে হাসি ফোঁটে।
তো তাম্মী যখন না বলে চলে যেতে ধরল তখন ছেলেটা তাম্মীর হাত ধরে ফেলল। তাম্মী দুবার ছেড়ে দিতে বলেও যখন ছাড়ল না, তখন আমার মাথা গরম হয়ে গেল।আমি উঠে গিয়ে ছেলেটাকে আচ্ছামত মার দিলাম।সবাই অবাক,অবাক তাম্মীও।
.
সোজা সুজি সবার সামনে তাম্মীকে বললাম,
-তাম্মী তোমাকে আমার ভাললাগে,তাই মারলাম। এত অবাক হওয়ার কিছু নাই।।।
.
এটুকু বলেই ওখান থেকে চলে আসি।
নিজের সাহস দেখে একটু অবাকই হয়েছিলাম।
পরের দিন ক্যাম্পাসে ঢুকে নিজেকে একটু অন্যরকম মনে হচ্ছিল অবশ্য তাতে অন্যদের হাত আছে সবাই কেমন করে যেন তাকাচ্ছিল।
.
আমি সোজা গিয়ে তাম্মীকে খুঁজে বের করলাম। ও ওর বান্ধিবীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। আমি গিয়ে ওকে ডাক দিলাম,
-তাম্মী একটু এদিকে আসবে?
-আচ্ছা,,
.
সবার থেকে আলাদা হয়ে এসে বললাম,
-কালকের জন্য সরি,
-আচ্ছা,,
-প্লিজ কিছু মনে করোনা,,
-ঠিকাছে,,
-ধন্যবাদ,,
-আচ্ছা,,তোমার সব গুলো গল্প আমাকে নিয়ে লিখা তাইনা?
-হ্যাঁ, আচ্ছা আর লিখব না,,
-কেন?
-এমনি,
-না লিখলে ঘুষি মেরে নাক ফাঁটাই দিবো
.
আমি অবাক হয়ে তাম্মীর দিকে তাকালাম।কি বলছে মেয়েটা?
তাম্মী আবার বলল,
-যেটা তোমার গল্পে হত সেটা এখন থেকে বাস্তবেও হবে,,
-মানে,
-এত বোকা কেন তুমি?
.
এতক্ষনে মনে হল,সত্যি এত বোকা কেন আমি??এভাবেই আমাদের প্রেমের শুরু।খুব বেশিদিন আগের কাহিনী নয় এটা,সপ্তাহ দুয়েক আগের।
.
তারপর থেকে ওর সাথে আমার ফোনেই বেশি কথা হত।
তবে আমি ফেসবুকে বা ফোনে এত সুন্দর করে কথা বলি কিন্তু তাম্মির সামনে পারিনা।
সমস্যা টা আগে ও ছিল অল্প কিন্তু প্রেম হয়ে যাওয়ার পরে সেটা প্রকোপ আকার ধারণ করেছে।আগে ওর সামনে সব সময় নিজেকে বেস্ট প্রমান করতে চাইতাম। খুব সাবধান থাকতাম।কোন ভুল করতাম না।কিন্তু এখন ওর সাথে কোন ভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিনা।কেন এমন হচ্ছে বুঝছিনা।হয়ত আমি ওর যোগ্য না তাই!!”
.
আমি আবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিলাম।
তাম্মি আবার জিজ্ঞেস করল,
-কি হলো কোন কথা বলছনা কেন?
-হুম,
-কিছু বলো?
-তোমার খাওয়ার স্টাইল চমৎকার,
-তাই নাকি?
-তাই তো,
-তুমি আবার আমার মত করে খাওয়ার চেষ্টা করোনা?
-কি বলো? আমি কেন করব,,
-হুম,তাও ঠিক।তুমি যেমন তেমনই ভাল,,,
-হুম,,
.
যদিও আমি একটা মিথ্যা কথা বললাম,,
আমি এতক্ষন ধরে তাম্মির মতন করে খাওয়ার চেষ্টা করছিলাম।কিন্তু হচ্ছিল না।
তাই বৃথা চেষ্টা বাদ দিয়ে না খেয়ে উঠে গেলাম।
.
এখন একটু হাঁটাহাঁটি করা যাক। আমরা মেইনরোড থেকে নেমে একটু খোলামেলা জায়গায় এলাম।প্রায় দশ মিনিট অতিবাহিত হয়েছে এত দূর আসতে আর এ দশ মিনিটে আমি একটা কথাও বলিনি সব কথা তাম্মীই বলছিল।
কথা বলার এক পর্যায় তাম্মী বলল,
-এভাবে হচ্ছেনা?
-কি হচ্ছে না?
-তুমি?
-বুঝলাম না,,
-তুমি ফোনে এত সুন্দর কথা বলো,কিন্তু আমার সামনে চুপ কেন? বিষয় টা আমি কয়েক বার লক্ষ্য করেছি।
.
আমি কিছু বলতে গিয়েও বললাম না,,,
তাম্মী আবার জিজ্ঞেস করল,
-বলো কি ব্যাপার?
-অস্বস্তি হয়,,
-আচ্ছা,,চলো কোথাও গিয়ে বসি।
.
আমরা গিয়ে একটা ব্রেঞ্চিতে বসলাম।
তাম্মী বলল,
-আচ্ছা,তোমাকে দু মিনিট টাইম দিচ্ছি,ভেবে বলো কেন আমার সাথে তোমার এত অস্বস্তি হচ্ছে,,
.
আমি ভাবতে শুরু করলাম।প্রথম মিনিটে ভেবে কিছু পেলাম না। দ্বিতীয় মিনিটে অস্বস্তি লাগার অনেক কারণ বের হলো।
প্রথমত, তাম্মী চলা ফেরা করে পাজেরোতে, আমি সাইকেলে। তাম্মীর গায়ের রং আমার গায়ের রংগের চাইতে কয়েক গুন ফর্সা। তাম্মীর সাথে আমার কোন দিক দিয়েই যায়না।
.
আমি এটা তাম্মিকে বলব কিনা ভাবলাম।
না, এটা বলা ঠিক হবেনা।এসব প্রেম করার আগেই ভাবতে হত।
.
এর মধ্যই তাম্মী ব্রেঞ্চি থেকে উঠে হাঁটা আরম্ভ করল।আমি শুধু ওকে অনুসরণ করে গেলাম।
হাঁটতে হাঁটতে তাম্মি হুট করেই বলে ফেলল,
-যেহেতু আমরা প্রেম করি সেহেতু আমার সামনে তোমার এত অস্বস্তি থাকা যাবেনা।এখন থেকে আমার সামনেই তোমাকে সব করতে হবে। নখ দিয়ে গা চুলকাতে হবে,আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করতে হবে,প্রতিটা বাদাম ছিলে খেতে হবে এমন না, কিছু বাদাম না ছিলেই খাবে।
.
আমি আস্তে করে বললাম,
-আর,
-খাওয়ার সময় খুব সাবধান হতে হবেনা, ঠোঁটে মুখে লাগিয়ে ফেলবা।আমি আছি কি জন্য?
পরিষ্কার করে দিবো,
-আর,
-মাঝে মাঝে অভদ্রতা করবা?
-যেমন,,
-হুট করে হাত ধরবা,জোর করে চুমু খাবা,,,এইসব।
আমি আর দেরী করলাম না হুট করেই একটা অভদ্রতা করলাম।
.
তাম্মি এক ঝটকায় আমার হাত থেকে ওর হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
-এখন না,এখন সিরিয়াস কথা বলছি
-ও আচ্ছা
-বুঝছ সব কিছু,,
-হ্যাঁ,
-তো সেভাবেই চলবা,
-আচ্ছা,
-গুড বয়,
.
তাম্মি এবার ওর হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-এবার ধরো,,,
.
আমি খপ করে ওর হাত টা ধরে ফেললাম।
আহ কি নরম হাত।
.
.
তাম্মি/তাম্মী নিয়ে কনফিউশন ছিল।
তাই দুটাই লিখছি,,
একটু খাপ ছাড়া গল্প, সময়ের অভাব।
ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন

Download WordPress Themes Free
Download WordPress Themes
Download Best WordPress Themes Free Download
Premium WordPress Themes Download
lynda course free download
download xiomi firmware
Download Nulled WordPress Themes
udemy free download
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.