আপনি তো লেখালেখি করেন তাইনা

নতুন গল্প
-আপনি তো লেখালেখি করেন তাইনা?
-একটু আধটু,তুমি জানোনা?
-জানি তো,
-তাহলে জিজ্ঞেস করলে যে?
-এমনি, আমিও লিখি বুঝেছেন?
-বাহ কি লিখো গল্প না কবিতা?
-এসব না, নিজের জন্য আরকি,
-ওহ। ডায়েরী?
-হ্যাঁ,
-তোমার ডায়েরী তে আমার কথা লিখেছো?
-হ্যাঁ,
-কি লিখেছ?
-এই যে আপনি আমাকে পছন্দ করেন,
-তুমি করোনা?
.
মেয়েটা কিছু বলল না। আমার মনে হলো আমার কথায় সে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেছে, তাই আমি নিজেও আর কথা বাড়ালাম না।
নিজের কাজে মন দিলাম।
.
কিছুক্ষন যেতেই মেয়েটা নিজে থেকেই বলল,
-আমি আপনার পারসোনাল ডায়েরী টা পড়ে ফেলেছি,
-ঠিক করোনি।
-আচ্ছা,সর‍্যি।
-ঠিকাছে,
-আপনার ডায়েরীতে তো আপনার কথা কিছু লিখা নেই, সব আমার কথা।
-ওটা নতুন ডায়েরী তাই।
-আরো আছে,
-হুম, এটা বারো নাম্বার।
-আরো এগার টা আছে!!
-হুম,,
-কোথায় ওগুলো?
-ছাদের ভাঙা ঘরে,
-কেন?
-আমার পুরাতন প্রেমিকার কথা লেখা ছিল তাই,
-আপনার প্রেমিকাও ছিল?
-থাকতে পারেনা?
-আপনি যে বললেন আপনি আমাকে পছন্দ করেন?
-হ্যাঁ,তোমাকেও পছন্দ করি।
-আগের প্রেমিকা কই?.
-বিয়ে হয়ে গেছে,
-ছ্যাকা খাইছেন?
-বলা যায়।
-ওর কাছে ছ্যাকা খেয়ে আমার কাছে আসছেন?
-বলতে পারো এমন,
-নাম কি?
-নিমি
-নিমি? কি ধরণের নাম নিমকি নিমকি লাগে শুনতে।
-আমিও ডাকতাম নিমকি বলে।
-ভালো হইছে, আমি আপনাকে পছন্দ করিনা বুঝছেন?
-হুম,বুঝছি।
.
মেয়েটা আর কিছু না বলে চলে গেলো। আমি আমার নিজের কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করলাম। পান্ডুলিপি টা জলদি শেষ করতে হবে।
.
ঘন্টা খানেক বাদে আবার নুপুরের শব্দ,মেয়েটা এসে আমার সামনে দাঁড়াল।বললো,
-আমার নাম কি?
-কি?
-নাম ও ভুলে গেছেন? ওই মেয়ের নাম তো খুব মনে আছে।
-না, আসলে অনেক দিনের প্রেম তো,তোমার নাম ও মনে আছে
-কি?
-নবনিতা।
-হ্যাঁ,নবনিতা। ওই নিমকি টাকে ভুলতে হবে বুঝছেন। কারণ ভবিষ্যৎে আপনাকে আমার সাথেই থাকতে হবে।
-হ্যাঁ,বুঝেছি।
-তো কবে ভুলবেন?
-কাকে?
-কাকে আবার নিমকিকে,
-এক সাথে এত স্মৃতি,
.
নবনিতা আমার দিকে একটু ঝুকে এসে জিজ্ঞেস করল,
-কেমন স্মৃতি?
-এই ঘোরা ঘুরি, ভালবাসার কথা বলা, চুমু
-কি চুমু?
-না মানে
-চুমুও খাইছেন?
-হ্যাঁ, একবার।
-বিয়ের আগে চুমু খাইছেন। আপনার চরিত্র কত খারাপ বুঝতেছেন?
-আসলে হয়ে গিয়েছিল,
-এসব এমনি হয়না, আপনার ইচ্ছা ছিল অবশ্যই!
-কিছু টা ছিল,
-কই খাইছেন?
-কপালে
-সত্যি?
-হ্যাঁ, সত্যি।
-ওই নিমকি কে নিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরছেন,
-পুরো ঢাকা শহর,
-যেমন,
-টিএসসি, সংসদ ভবন,শিশুপারক এই সব।
-আচ্ছা,,
.
আর কিছু না বলে নবনিতা চলে গেলো। মেয়েটা কি একটু বেশি রেগে গেল নাকি?
রাগলে আর কি বা করার আছে?
ও যা জিজ্ঞেস করেছে তাই বলেছি।আর আমি মিথ্যাও বলতে পারিনা।
.
পরের দিন নবনিতা এলো বিকেলের দিকে।
গায়ে একটা শাড়ি জড়িয়ে ,আকাশী রঙের শাড়ি।ওকে দেখে মনে হলো এক টুকরো আকাশ আমার সামনে এসে হাজির হয়েছে।
যে আকাশের মালিকানা পুরোটাই আমার।
আমি ওকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম,
-কোথাও যাবে?
-হ্যাঁ,যাবো।
-কোথায়,কিছু কেনাকাটা করবা?
-না,ঘুরবো।
-আমার সাথে?
-হ্যাঁ,
-আমার সাথে ঘুরে মনে হয়না মজা পাবা,
-অত কিছু জানিনা,নিমকিকে নিয়ে যেভাবে ঘুরছেন।আমাকে নিয়েও ঘুরবেন।
-তুমি আর ও আলাদা।
-এ জন্যই ওকে ভোলা আপনার জন্য জরুরী.
-আচ্ছা, ঠিকাছে।চলো।
.
আমরা বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় উঠলাম। আমার মতে কোন নির্দিষ্ট স্থানের চাইতে রিকশা করে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরা ঘুরি করা বেশি ভালো আর সেটা আরাম দায়ক ও।
বিষয় টা নবনিতাকেও জানালাম,ও বলল আচ্ছা।
.
ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাটের অবস্থা খারাপ। আর যে জ্যাম তাতে ঘোরাঘুরি তে শান্তি নেই।তবে রিকশায় বসে আমার ভাল লাগছিল। এত সুন্দর একটা মেয়ে পাশে বসলে এমনিতেই ভাল লাগবে,শুধু আমার না সবারই ভাল লাগবে। আমি নবনিতার গায়ের সাথে একটু চেপেই বসে ছিলাম।
.
কিছুক্ষন বাদে শুধু চেপে না হাত দিয়ে কোমর জড়িয়ে ধরে বসলাম।ও একবার আমার দিকে রাগী চোখে তাকালো। জানিয়ে দিতে চাইলো এটা ঠিক না। আমি ছেড়ে দিলাম।আমি কোন খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ওর কোমর ধরিনি। ঢাকার রাস্তাঘাটে রিকশা এত ব্রেক করে,খুব রিস্ক হয়ে যায় বসে থাকা তাই আর কি?
যদিও ব্যাপার টা খুলে বললাম না ওকে,কিন্তু মিনিট পাঁচেক বাদে নবনিতা ঠিকই বুঝল।
রিকশা ব্রেক ধরায় যখন ও পরে যেতে ধরছিল, তখন আমি ঠিকই ওর কোমড় ধরে ফেললাম।এবার আর ও রাগ দেখাল না। আমিও ছাড়লাম না রিকশা থেকে নামার আগ পর্যন্ত।
.
আমরা রিকশায় ঘুরে বেড়ালাম বেশ কিছুক্ষন।
সন্ধ্যার আগে আগে নামলাম সংসদ ভবনের সামনে। এই জায়গাটা প্রেম করার জন্য আদর্শ। এখানে এ সময় যারা বসে থাকে তারা প্রেমিক প্রেমিকা। আমি আর নবনিতাও এখন প্রেমিক প্রেমিকা তাই আমরাও গিয়ে বসলাম।
.
কিছুক্ষন যেতেই ওর হাতে আমার হাত ঠেকালাম।ও আমার দিকে একবার দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
আমি আরেক টু ভাল করে ওর হাত ধরলাম।
ও হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
-তুমি নিমকি মেয়েটার সাথেও এমন করতা?
-তুমি?
-হ্যাঁ, তুমি?
-কেমন করতাম?
-এই যে রিকশায় উঠলে কোমরে হাত দাও,আর এখন?
-কোমরে হাত দেয়ার কারণ ছিল!
-কি কারণ
-ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট খারাপ,কখন রিকশা ব্রেক করে কে জানে? যদি পরে যাও। এজন্য ধরে ছিলাম।তুমি তো দেখলাই?
.
নবনিতা আমার কথা বিশ্বাস করলো কিনা বোঝা গেল না।তবে ও এতক্ষন যতটা রেগে ছিল, ওর মুখ দেখে বুঝলাম ও এখন ততটা রেগে নেই।
.
-বাদাম খাবে?
-না,
-চা?
-না
-আইসক্রীম
-না,
-ফুচকা?
-না,
-চুমু,,
.
আমি ভেবেছিলাম নবনিতা খেয়াল করবেনা, কিন্তু ও ঠিকি ব্যাপার টা ধরে ফেলল।
-তুমি সব মেয়ের সাথেই এমন করো?
–কেমন?
-এই যে চুমু খেতে চাও?
-আমার জীবনে তো অনেক মেয়ে নাই, নিমকি আর তুমি!
-আচ্ছা,বুঝলাম। তবে চুমু এখন না বিয়ের আগে এসব না।
-চলো বিয়ে করি,
-কবে?
-আজ?
-কিভাবে?
-কাজী অফিসে আমার পরিচিত,
-কোন কাজী অফিস?
-তুমি অবশ্যই জানো, আমার গল্পে আছে তো,,
.
নবনিতা ভেবে ছিল আমি মজা করছি। আমি মোটেও মজা করছি না।ও বলল,
-বাসায় জানাবো না?
-বিয়ের পর জানাবো,
-আচ্ছা, চলো।
.
আমি একটা রিকশা ডেকে বললাম,
-ফার্মগেট যাবে?
.
রিকশায় উঠে আমার বেশ ভয় লাগল।
যেদিন নবনিতা নিমকির জন্য লেখা ডায়েরী গুলো পড়তে চাইবে সেদিন কি করবো,কে জানে?
এটা ভাবতেই যেন কেমন লাগছে?
পরে আমাকে ও মিথ্যা বাদী না বানিয়ে দেয়।
আমি তো শুধু চাইতাম নবনিতা নামের মেয়েটা আমার প্রেমে পড়ুক, যেমন টা আমি ওর প্রেমে পড়েছিলাম,ঠিক তেমন টা।
সেটা যেকোন ভাবেই হোক না কেন!!
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন
-এডিটেড

Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes Free
Free Download WordPress Themes
Download WordPress Themes
udemy paid course free download
download samsung firmware
Download WordPress Themes
udemy free download
Share:

Leave a Reply

All rights reserved by Kid Max.